• বুলেট ও জল-কামান ব্যবহারের হুকুমঃ প্রাণ-নাশ ৪ ও গ্রেফতার সহস্রাধিক
    UK_Riot_Police_Full_Gear.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১১ অগাস্ট ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  গত সপ্তায় পুলিসের হাতে  কৃষ্ণাঙ্গ যুবক মার্ক ডুগ্যানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশ-জুড়ে ছড়িয়ে যাওয়া ও টানা পাঁচ দিন ধরে চলা দাঙ্গা সামলাতে প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন জল-কামান ও বুলেট ব্যবহারের আদেশ দিয়েছেন। তবে দাঙ্গার উত্তাপ দৃশ্যতঃ কমতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, লন্ডনে নজিরবিহীন সংখ্যায় দাঙ্গা-পুলিসের উপস্থিতি ও লুটপাট-বিরোধী জনসাধারণের অংশগ্রহণ অনেকাংশে সাহায্য করেছে অরাজকতা প্রশমন করতে। সারাদেশে এ-পর্যন্ত শিশু-কিশোর-সহ ১,১০০ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিস।

    লন্ডনে কমে এলেও অন্যান্য শহরে গতকাল বুধবার রাতেও দাঙ্গা ও লুট-পাটের ঘটনা ঘটেছে। বৃহত্তর ম্যানচেস্টারে ঘটা লুট-পাট ও দাঙ্গার মাত্রা ছিলো ব্যাপক। সেন্ট্রাল ম্যনচেস্টার ও স্যালফৌর্ডে থেমে-থেমে দাঙ্গা-পুলিসের সাথে বিক্ষোভকারীদের লড়াই হয়েছে এবং সে-সাথে চলেছে অগ্নি-সংযোগ ও লুটতরাজ।

    লন্ডনে স্বল্পতর মাত্রায় সংঘর্ষ ও লুন্ঠনের ঘটনা ঘটেছে। ইলিং ও কৌলসডনে ডাকাতি, দোকান ভাংচুর ও লুটতরাজ সঙ্ঘটিত হয়েছে।

    লিভারপুলের টক্সটেথে জঙ্গী-যুবকদের আক্রমণে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। তারা দোকানপাট ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুন্ঠন করে। লিভারপুলে পুলিস ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    নর্দাম্‌ব্রিয়ায় পুলিসের গাড়িতে অগ্নি-সংযোগ ও পুলিস স্টেইশনে ভাংচুর করার অপরাধে দু-যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিস।

    নটিংহ্যামে একটি কলেজ ও পুলিস স্টেইশনে বিক্ষোভকারীরা অগ্নি-বোমা নিক্ষেপ করে। পুলিসের সাথে তাদের সংঘর্ষে অনেকে আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নটিংহ্যাম পুলিস ৯০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    লেস্টারের সিটি-সেন্টারে বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে পুলিস ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    মিডল্যান্ডসের উলভারহ্যাম্পটনের সিটি-সেন্টারে ব্যাপক-মাত্রায় দোকান-পাট ভাংচুর ও লুন্ঠন এবং অনেক যানবাহনে অগ্নি-সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পুলিসের সাথে সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।

    এদিকে চলমান-সহিংস ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সর্বমোট ৪ ব্যাক্তি - লন্ডনের ক্রয়ডনে ১ জন ও বাকি ৩ জন বার্মিংহ্যামে। দাঙ্গা চলাকালে ক্রয়ডনে গুলিবিদ্ধ ট্রেভর এলিস (২৬) হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তবে এ-ঘটনাটি সুনির্দিষ্ট-ভাবে দাঙ্গার সাথে সম্পর্কিত কি-না পুলিস তা খতিয়ে দেখছে।

    বার্মিংহ্যামে দাঙ্গাকারীদের হাত থেকে নিজ-পাড়া পাহারা দেবার সময় দ্রুত-গামী গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন দুই-সহোদর শাহজাদ আলী (৩০) ও আব্দুল মুসাভির (৩১) এবং অন্য এক তরুন হারুন জাহান (২১)। যদিও ধারণা করা হচ্ছে 'হিট-এ্যান্ড-রান' পদ্ধতিতে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে এ-আক্রমণ করা হয়েছে, তবে পুলিসের তদন্ত শেষ হবার আগে নিশ্চিত করে তা বলা যাচ্ছে না।

    গতকাল দিনের শুরুতে 'ক্যাবিনেট অফিস ব্রীফিং রুম (কোবরা)' বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন ঘোষণা করেন, 'পুলিসকে প্লাস্টিক-বুলেট ব্যবহার করে গুলি করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।' প্রয়োজন হলে 'জল-কামানও ব্যবহার করা হবে।'

    কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জল-কামান বা গুলির মাধ্যমে এ-ধরণের সমস্যা মোকাবেলা করা যাবে না, কারণ সমস্যার উৎস আরো গভীরে। পুলিস বা মিলিট্যারী দিয়ে আক্রমণ করিয়ে কেবলমাত্র ভবিষ্যৎ-দাঙ্গাকেই উস্কে দেয়া হবে। অনেকে মনে করছেন, ব্রিটেইনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অদূরদর্শীতাই এ-অরাজকতার জন্য দায়ী।

    স্মরণ করা যেতে পারে, নিজ-বিছানায় পুলিসের গুলিতে মিসেস ডরোথি গ্রোসে নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ নারীর পঙ্গু হয়ে যাওয়ার কারণে ঘটেছিল ১৯৮১ সালের ভয়াবহ ব্রিক্সটন দাঙ্গা। একইভাবে ১৯৯৫ সালেও একই ব্রিক্সটনের দাঙ্গাও সংঘটিত হয়েছিল পুলিসের হাতে ওয়েন ডগলাস (২৬) নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে।

    দাঙ্গার কারণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চললেও দাঙ্গার সূত্রপাত যে পুলিসের হাতে সংখ্যা-লঘু সম্প্রদায়ের মানুষের বে-আইনী মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ঘটে, তা বস্তুনিষ্ঠ ও স্পস্ট।

    উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পুলিস কম্পেইন্টস কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্ত-শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে, মার্ক ডুগানকে পুলিস গাড়ী থামিয়ে বুকে ও বাহুতে গুলি করে হত্যা করেছে এবং পুলিসের রেডিওতে লাগা বুলেট - যা ডুগান ছুঁড়েছিলেন বলে পুলিস দাবী করেছিলো - মূলতঃ পুলিসেরই। 

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন