• ব্রিটেইনে অভিবাসন-কর্তৃপক্ষের হেফাজতে 'বাঙালী'র মৃত্যুঃ বন্দীদের বিক্ষোভ
    uk_irc_morton_hall_wikipedia.png

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৪, শনিবারঃ গতরাতে ব্রিটেইনের লিঙ্কনশায়ারের মর্টন হল অভিবাসী-হাজতে একজন বন্দীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সেখানে অন্যান্য বন্দীরা বিক্ষোভ করেছে আজ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তারহীনতার আশঙ্কায় সেখানকার কর্মীরা আজ সরে গিয়েছে এবং হাজতের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিশেষায়িত 'টর্ণেডো টীম' পাঠানো হয়েছে। [আপডেইট লণ্ডন সময় রাত সাড়ে এগারোটাঃ পরিস্থিতি এখন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ইউকেবেঙ্গলিকে নিশ্চিত করেছেন হৌম অফিসের একজন মুখপাত্র।]

    অসমর্থিত সংবাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য মিরর-সহ কয়েকটি সংবাদ-মাধ্যম জানিয়েছে, মারা যাওয়া বন্দীটি ছিলেন একজন 'বাঙালী'। ইউকেবেঙ্গলির পক্ষ থেকে প্রিজন সার্ভিস ও হৌম অফিসে যোগাযোগ করা হলে উভয় কর্তৃপক্ষই মৃতের নাম বা পরিচয় প্রকাশে অপারগতা জানায়।

    এ-ঘটনায় ক্ষুব্ধ বন্দীরা আজ সকাল থেকে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। দ্য মিররের অনলাইন সংস্করণে সন্ধ্যে ৭:২৭-এ জানানো হয়েছে বিক্ষুব্ধ বন্দীদের প্রায় ৩০ জন নিজ-নিজ কক্ষে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নিরাপত্তারক্ষী-সহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য কর্মীরা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কায় নিজেদেরকে 'নিরাপদ' স্থানে সরিয়ে নেয় বলে লিঙ্কনশায়ার ইকো'র বরাতে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।

    কেনো গতরাতে এ-মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো তা এখনও জানা যায়নি। অভিবাসন মন্ত্রী জেইম্‌স ব্রৌকেনশায়ার জানিয়েছেন, তা উদ্ঘাটনে একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, "হাজতীদের স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ব্যাপারে আমাদের দায়িত্ব আমরা চরম গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি।"

    এদিকে, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন বন্দীর সাথে কথোপকথন উদ্ধৃত করে কর্পোরেইট ওয়াচের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গতরাতে হতভাগ্য বন্দীটি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার আবেদন করলেও কারা-কর্তৃপক্ষ তাতে সময়মতো সাড়া দেয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীটি দাবি করেছেন, রাত আনুমানিক দশটায় অসুস্থতার কারণে জরুরী-ঘণ্টি বাজায় হতভাগ্য বন্দী। তবে কর্তব্যরত অফিসার তার চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তার সাথে দুর্ব্যহার করে। ঘণ্টাখানেক পর ব্যক্তিটি মারা যায়; তারও এক ঘণ্টা পর ডাক্তার আসেন; অবশেষে রাত দেড়টার দিকে এ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায়।

    অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে এ-বছর এটি দ্বিতীয় মৃত্যু। গত মার্চে বেডফৌর্ডশায়ারে অনুরূপ একটি হাজতে ক্রিস্টিন কেইস নামের একজন বন্দী মারা যায়।

    উল্লেখ্য, মর্টন হল ইমিগ্রেশন রিমুভাল সেণ্টারের মতো আরও এগারোটি হাজত রয়েছে ব্রিটেইনজুড়ে। এসব হাজতে অবৈধ অভিবাসীদেরকে নিজ-নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার আগে সাময়িকভাবে রাখা হয়।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন