• ব্রিটেইনে নীট-ইমিগ্রেশন বেড়েছে ২০ শতাংশ

    এক বছরে ব্রিটেইনে নীট-ইমিগ্রেশনের সংখ্যা বেড়েছে ২০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিক্স (ওএনএস)কর্তৃক প্রকাশিত হিসাবে দেখা যায় ২০০৯ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আসা লোকজনের কারণে নীট-ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় এই ব্যাপক সংখ্যা-বৃদ্ধি ঘটেছে। হিসাব-মতে, উল্লেখিত বছরটিতে ব্রিটেইন ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া লোকের সংখ্যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও লিবারেল ডেমৌক্র্যাটিক কৌয়ালিশন সরকারের ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ড্যামিয়েন গ্রীন নীট-ইমিগ্রেশনের হারের এই ব্যাপক বৃদ্ধির জন্য সাবেক ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন। সর্বশেষ হিসাবে আরো দেখা যাচ্ছে যে বর্তমানে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশের মায়েদের জন্ম যুক্তরাজ্যের বাইরে।

    ওএনএস জানিয়েছে, গত বছর ব্রিটেইনে নীট ইমিগ্রেশনের সংখ্যা ছিলো ১৯৬,০০০ যা আগের বছরের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। হিসাবে প্রকাশ, ব্রিটেইন ছেড়ে চলে যাওয়া ও ব্রিটেইনে থাকতে আসা মানুষ-জনের সংখ্যার ব্যবধান ২০০৮ সালে ছিলো ১৬৩,০০০। ২০০৯ সালে থাকতে আসা মানুষের ব্যবধান ৩৩,০০০ বেড়ে এই ব্যবধান ১৯৬,০০০ এ দাঁড়ায়।
    এদিকে, নীট ইমিগ্রেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পয়েন্ট-ভিত্তিক ব্যবস্থার আওতাতে আগমনকারী মানুষের সংখ্যা কমতে থাকার হিসাব দিয়েছে ওএনএস। গত জুন থেকে পূর্ববর্তী ১২ মাসের হিসাবে দেখা যায়, টিয়ার ওয়ান ও টিয়ার টু হাইলী স্কিলড ও স্কিলড ভিসার আওতাতে আগমনকারী মানুষের সংখ্যা ১০৭,১২৫ থেকে কমে ৯৪,৫৫০ তে এসে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও টেম্পোরারী এমপ্লয়মেন্ট ভিসা প্রাপকের সংখ্যা ১৭ শতাংশ কমেছে ৬৬,৪৯৫ হয়েছে। স্কিলড ভিসা নিয়ে আসা লোকের সংখ্যা কমলেও ২০০৯ ও ২০১০ সালে বেড়েছে বিদেশী শিক্ষার্থীদের আগমনের হার। হিসাবে প্রকাশ, চলতি বছরের জুন মাস থেকে পূর্ববর্তী ১২ মাসে টিয়ার ফোর স্টুডেন্ট ভিসার আওতায় ৩৬২,০১৫ জনকে ভিসা দেয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী ১২ মাসের তুলনায় এ-হার ৩৫ শতাংশ বেশি। বিদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ব্যাপক মাত্রাতে বাড়লেও, কমেছে ব্রিটেইন ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা। ২০০৮ সালে ৪২৭,০০০ মানুষ ব্রিটেইন ছাড়লেও ২০০৯ সালের এ-সংখ্যা কমে ৩৭১,০০০ এ দাঁড়ায়।

    নীট-ইমিগ্রেশনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও ওএনএস এর হিসাব মোতাবেক ব্রিটেইন অ্যাসাইলাম লাভের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা কমছে। ২০০৮ সালে এ-সংখ্যা ছিলো ২৫, ৯৩০ যা ২০০৯ সালে এসে ২৪, ৪৮৫ জনে দাঁড়ায়। এছাড়াও পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২০০৯ সালে স্বেছায় বা বাধ্য করার ফলে ব্রিটেইন-ত্যাগী মানুষের সংখ্যা ১ ভাগ কমেছে। ওএনএস এর হিসাবে দেখা যাচ্ছে যে যুক্তরাজ্যের বাইরে জন্মগ্রহনকারী মায়েদের গর্ভে জন্ম নেয়া শিশুর হার বর্তমানে যে-কোন সময়ে তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেয়া শিশুদের মধ্যে ২৪.৭ ভাগের মায়ের জন্ম যুক্তরাজ্যের বাইরে। পাকিস্তান, পোল্যান্ড ও ভারতে জন্মগ্রহনকারী মায়েরা এ-তালিকার শীর্ষে আছে। এর মধ্যে এলাকা হিসাবে সর্বোচ্চ স্থানে আছে পূর্ব লন্ডনের নিউহ্যাম। এই বরোটিতে বর্তমানে জন্ম নেয়া শিশুদের ৭৫ ভাগের ও বেশির সংখ্যককের মায়ের জন্ম যুক্তরাজ্যের বাইরে।

    নীট ইমিগ্রেশনের ব্যাপক বৃদ্ধির জন্য লেবার পার্টির অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছেন ইমিগ্রেশন মিনিস্টার ড্যামিয়েন গ্রীন। তিনি বলেন, “এই সংখ্যাটি প্রমান করে যে যা আশঙ্কা করা হয়েছিলো লেবারদের অভিবাসন নীতির ফলাফল তারচেয়ে খারাপ।” অভিবাসন পরিস্থিতির মোকাবেলা করার জন্য নতুন সরকারকে সর্বোচ্চ প্রয়াস দিতে হবে বলে মত-প্রকাশ করেন তিনি। গ্রীন আরো বলেন, “আমাদের উত্থাপিত অর্থনীতিক অভিবাসনের সংখ্যা সঙ্কুচিত করার প্রস্তাবটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা এখন বুঝা যাচ্ছে।” উল্লেখ্য, কনজারভেটিভরা অভিবাসনকারীর সংখ্যা লক্ষ থেকে হাজারের ঘরে নামিয়ে আনতে চায়।

    ২৬/০৮/১০

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন