• ব্রিটেইনে বেকার ২৫ লাখ ৬০ হাজারঃ তিন মাসে বেড়েছে ৭০,০০০
    uk_unemployment_hits_7.9_percent.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৭ এপ্রিল ২০১৩, বুধবারঃ  গত ডিসেম্বর মাস থেকে এ-বছরের ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ব্রিটেইনে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ৭০,০০০। একই সময়ে কর্মরতদের গড় উপার্জন-বৃদ্ধিও ঘটেছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম। আজ প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান বুলেটিনে এ-সব তথ্য জানিয়েছে অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্‌স (ওএনএস)।

    ব্রিটেইনে বেকারত্বের হার এ-মুহূর্তে দাঁড়িয়েছে ৭.৯ শতাংশে। অর্থাৎ কর্মক্ষম এবং কর্মেচ্ছুক নাগরিকদের মধ্যে মোট ২৫ লাখ ৬০ হাজার এখন বেকারিতে ভুগছেন। এর মধ্যে ৯ লাখ বেকার রয়েছেন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে। রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমাতে নেওয়া কৃচ্ছতা-কর্মসূচির কারণে সরকারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে ৩ লাখ ১৩ হাজার।

    একই সময়ে কর্মে নিযুক্তদের নিয়মিত-আয়ের বৃদ্ধি ঘটেছে মাত্র ১%, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি এ-মুহূর্তে ২.৮%। ফলে এ-দেশের নাগরিকদের খরচের ক্ষমতাও কমে গিয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাড়ীভাড়া ও পরিবহণ-খরচ বেড়ে যাওয়াতে নিম্নআয়ের পরিবারগুলো পড়েছে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায়।

    এত অল্প সময়ে বেকারের সংখ্যা কেনো এতো বাড়লো এর উত্তরে ওএনএস বলেছে,
    সম্প্রতি শ্রমবাজারে কর্মীদের প্রবেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষতঃ গৃহবধূরা গত
    কয়েক মাসে বেশি করে কাজ খুঁজতে শুরু করেছে। উল্লিখিত ৩ মাসে পূর্বে
    অর্থনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয়ে থাকা ৫৭,০০০ ব্যক্তি কর্মসংস্থান খুঁজতে শুরু
    করেছে, যার বড়ো অংশটিই নারী। বস্তুতঃ অর্থনৈতিক মন্দাই এ-হঠাৎ পরিবর্তনের
    কারণ।

    কর্মসংস্থান-মন্ত্রী মার্ক হৌব্যান বেকারত্বের হারের বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেছেন, 'এখনও সামনে অনেক কঠিন চ্যালেইঞ্জ রয়েছে'। তিনি আরও বলেন, 'কর্মেচ্ছুদেরকে আমরা প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখবো'।
     
    আন্তর্জাতিক মূদ্রা তহবিল (আইএমএফ) মনে করছে, ব্রিটেইনের সরকারী ব্যয়-কর্তনের গতি কমানো উচিৎ। ঐতিহাসিকভাবে সংস্থাটি যদিও দেশে-দেশে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রনাধীন শিল্প ও পরিষেবা বেসরকারীকরণের লক্ষ্যে কাজ করে থাকে, কিন্তু এ-মুহূর্তে এর মতে ব্রিটেইনের উচিৎ সেবা-কর্তনের গতি ধীর করা। এ-প্রসঙ্গে আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ অলিভিয়ে জ্যঁ ব্লঁশা বলেছেন, ব্রিটেইনের অর্থমন্ত্রী জর্জ ঔসবর্ণ 'আগুন নিয়ে খেলছেন'।

    প্রসঙ্গতঃ এ-বছরের প্রথম তিন মাসের অর্থনৈতিক উপাত্ত প্রকাশ হবার কথা আগামী সপ্তায়। তখন বুঝা যাবে ব্রিটেইন কি আবারও 'রিসেশন' বা আনুষ্ঠানিকভাবে অর্থনীতি-সঙ্কোচনে পড়তে যাচ্ছে কি-না।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন