• ভারতীয় কূটনীতিক গ্রেফতার নিউ ইয়র্কেঃ ভারত-মার্কিন সম্পর্কের অবনতির আশঙ্কা
    india_devyani_khobragade.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবারঃ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভারতের একজন নারী কূটনীতিককে গ্রেফতার করে তাঁর সাথে 'অসম্মানজনক' আচরণ করা হয়েছে - এমন সংবাদে ক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। দেশটির বিদেশ মন্ত্রণালয় থেকে দাবী করা হয়েছে মার্কিন প্রশাসনকে নিঃশর্তে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে এ-ন্যাক্কারজনক কাজের জন্য। দৃশ্যতঃ বাংলাদেশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন এ-ঘটনার মধ্য দিয়ে নতুন মোড় নিয়েছে।

    গত বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে কর্মরত ভারতীয় ডেপুটি কনসাল জেনারেল দেবযানী খোবরাগাড়কে তাঁর সন্তানের স্কুলের সামনে থেকে প্রকাশ্যে গ্রেফতার করে হাতকড়া পড়িয়ে নিয়ে যায় পুলিস। চোরাচালানীদেরকে যেভাবে তল্লাশি করা হয় সেভাব তাঁর শরীরে তল্লাশি চালিয়েছে কতৃপক্ষ। কোনো কোনো ভারতীয় সংবাদপত্র বলছে, তাঁকে 'নগ্ন' করে তল্লাশি করা হয়েছে, যদিও মার্কিন কর্তৃপক্ষ এ-কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই এখনও করেনি। অবশেষে তাঁকে রাখা হয়েছে মাদকাসক্ত আসামীদের সাথে একই কুঠুরিতে। অতঃপর আড়াই লাখ ডলার মুচলেকা দিয়ে জামিন পেয়েছেন ভারতীয় এ-কূটনীতিক।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, দেবযানীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ-মতে, তিনি ভারত থেকে গৃহকর্মের জন্য পরিচারিকা আনার সময় ভিসার আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন এবং সে-পরিচারিকাকে আইনে নির্ধারিত ন্যুনতম মজুরির চেয়ে অনেক কম বেতন দিচ্ছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে দেবযানীর পরিচারিকা ভূয়া চাকুরী-চুক্তির মাধ্যমে দেখিয়েছিলেন যে, তাঁকে মাসিক ৪,৫০০ ডলার বেতন দেওয়া হবে, যদিও গোপন আরেকটি চুক্তির মাধ্যমে বেতন নির্ধারিত হয়েছিলো মাসিক ৫৭৩ ডলার - যা ন্যুনতম মজুরির চেয়ে নিচে। ম্যানহাটনের ভারতীয় বংশোদ্ভূত এ্যাটর্নি প্রীত বারারা - যিনি দেবযানীর গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন - সংবাদ-মাধ্যমকে বলেছেন, "এ-ধরণের জালিয়াতি ও কোনো ব্যক্তিকে এভাবে শোষণ করা বরদাস্ত করা হবে না।"

    জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি পাওয়েলকে ডেকে প্রতিবাদ জানান পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংহ। এরপর দিল্লিস্থ মার্কিন দূতাবাসের সামনে থেকে নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নিয়ে সে-পথ পথচারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। তলব করা হয়েছে সকল মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্র। চেয়ে পাঠানো হয়েছে মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত ভারতীয়দের বেতনের স্লিপ। ভারতীয় বিমান বন্দরে মার্কিন কূটনীতিকরা এতোদিন যে-সব সুবিধা পেতেন তাও তুলে নেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে মদ-সহ আরও অনেক দ্রব্য আমদানির অনুমতি।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হয়ে ভারত সফরে আসা একদল কংগ্রেসম্যানের সাথে সাক্ষাত করতে অস্বীকার করেছেন ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গাঁধি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্দে। তাঁদের সাথে সাক্ষাৎ করেননি লোকসভার স্পীকার মীরা কুমার এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেননও।

    শুধু ক্ষমতাসীনরাই নয়, বিরোধী বিজেপির নেতারাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদীও মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাতে অসম্মতি জানান। সে-কথা ট্যুইটারের মাধ্যমে প্রচারও করেন আগামীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভবনা থাকা এ-রাজনীতিক। প্রাক্তন মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা দাবী করেছেন কয়েকজন মার্কিন কুটনীতিক তাঁদের সমকামী সঙ্গী নিয়ে ভারতে এসেছেন; স্থানীয় আইনে যেহেতু সমকাম নিষিদ্ধ তাই তাদেরকে গ্রেফতার করা উচিত।

    প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটের মধ্যে সহিংস অচলাবস্থায় দৃশ্যতঃ ভিন্ন-ভিন্ন পক্ষাবলম্বনের কারণে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। নিউ ইয়র্কে ভারতীয় কূটনীতিক গ্রেফতার ও তাতে ভারতের অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া দেখানোর সাথে বাংলাদেশ প্রশ্নে তাদের অবস্থানের আপাতঃ কোনো যোগাযোগ স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও তা থাকার সম্ভবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেক বিশ্লেষক।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন