• ভারতীয় হামলার আশঙ্কা করছিলো পাকিস্তানঃ হাই কমিশনার হাসান

    মুম্বাইয়ে হামলা চলাকালীন ভারতীয় আক্রমণের আশঙ্কায় পড়ে গিয়েছিলো পাকিস্তান। ব্রিটেইনে নিযুক্ত পাক-রাষ্ট্রদূত ওয়াজিদ শামসুল হাসান শনিবার বিবিসির সাথে আলাপে জানিয়েছেন এ-তথ্য। তিনি জানান, পাকিস্তানকে 'শিক্ষা' দেয়ার ব্যাপারে ভারতের প্রস্তুতি সংক্রান্ত প্রমাণ হাতে আছে। উল্লেখ্য, মুম্বাইয়ে ভয়াবহ হামলার জন্য নয়াদিল্লীর তরফ থেকে শুরু থেকেই পাক-সংশ্লিষ্টতার দাবী করা হলেও, ইসলামবাদ তা প্রত্যাখান করে চলেছে। তবে দেশটি জানিয়েছে, মুম্বাইয়ে হামলার সাথে পাকিস্তানের কোনো ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে, সমুচিত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। মুম্বাইয়ে হামলার পর থেকে চির-বৈরী দু-দেশের মধ্যে সম্পর্ক সাংঘাতিক রকমের খারাপ হয়ে পড়েছে।

    শনিবার পাক রাষ্ট্রদূত জানান, মুম্বাইয়ে হামলার পরপরই 'বন্ধুদের' কাছ থেকে তিনি পাকিস্তানের উপরে ভারতীয় হামলার সম্ভাবনা সংক্রান্ত তথ্য পেয়েছিলেন। হাসান বলেন, আমাদেরকে আমাদের বন্ধুরা জানিয়েছিলো, যে-সব স্থানে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আছে বলে তারা [ভারতীয়] মনে করে, সে-সব স্থানে বিমান হামলা বা এ-ধরণের কোনো একটি দ্রুত হামলা হবার সম্ভাবনা আছে। হাসান জানান, খবরটি পাবার সাথে-সাথেই তিনি প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে এ-ব্যাপারে অবহিত করেছিলেন। পাক-কর্তৃপক্ষ আবার দ্রুততার সাথে প্রাপ্ত তথ্যটি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেইনের কাছে প্রেরণ করে দেয়। রাষ্ট্রদূত দাবী করেন, পাকিস্তানের উপরে ভারতের হামলার প্রস্তুতি সংক্রান্ত তাৎপর্যপূর্ণ সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাদের হাতে আছে।

    ব্রিটেইনে পাক রাষ্ট্রদূত আরও জানান, পরমাণু শক্তিধর দু-দেশের মধ্যেকার উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত সামরিক সংঘাতে রূপ নিবে বলে তিনি মনে করেন না।  এ-প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা এমন কিছু করতে যাচ্ছি না এবং আমি নিশ্চিত ভারতও পুরোদমে যুদ্ধের পথে যাবে না।' হাসান প্রচ্ছন্ন সতর্কতা ব্যক্ত করে জানান, 'পাকিস্তান একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র কিন্তু আত্মরক্ষার জন্য যা প্রয়োজন তাই করবে দেশটি।'

    হাসানের দেয়া তথ্যের ব্যাপারে ভারতের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    পাকিস্তানের অন্যতম প্রভাবশালী দ্য ডন পত্রিকায়ও ভারতীয় হামলার আশঙ্কা নিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে। ডন জানায়, মুম্বাইয়ে হামলা চলাকালে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। পত্রিকাটির দাবী-মতে, হামলা চলা-কালে ২৮ নভেম্বর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জীর পরিচয় দিয়ে প্রেসিডেন্ট আসিফ জারদারির কাছে একটি ফৌন আসে। মুখার্জী পরিচয় দেয়া ব্যক্তিটি অত্যন্ত কড়া সুরে জারদারির সাথে কথা বলেন। ডন জানায় জারদারির কাছে আসা ফৌনটি আসলে ভূয়া ছিলো। যথাযথভাবে যাচাই করে না নেয়ার কারণেই ভূয়া কলটি জারদারির হাত পর্যন্ত পৌঁছে যায় বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে।

    তবে পাক বিদেশমন্ত্রী শেরী রহমান পরে এক বিবৃতিতে জানান, এ-ধরণের খবরের কোনো ভিত্তি নেই। তিনি জানান, প্রেসিডেন্টের হাতে ফৌন যাবার আগে সুনির্দিষ্ট উপায়ে একটি কলের যথার্থতা যাচাই করে নেয়া হয়। মুখার্জীর ফৌন কলটির ব্যাপারেও তাই করা হয়েছিলো বলে জানান তিনি।

    লন্ডনঃ ৬ ডিসেম্বর ২০০৮

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন