• ভারতের বিদ্যুত-ব্যর্থতাঃ রাজধানী ও বিশাধিক প্রদেশ বিদ্যুত-হীন অচলায়তনে স্থবির
    Indian-power-failure.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩১ অক্টোবর ২০১২, মঙ্গলবারঃ  গতকাল উত্তরাঞ্চলীয় ‘নর্দার্ন গ্রিড’-এ বিদ্যুত-ব্যর্থতার পর আজ মঙ্গলবার এর পুনরাবৃত্তির সূত্র ধরে পূর্বাঞ্চলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ‘ইস্টার্ন গ্রিড’ ও ‘নর্থ-ইস্টার্ন গ্রিড’ দুটোতে এই ব্যর্থতা তরঙ্গায়িত অভিঘাত তৈরী করে রাজধানী দিল্লি-সহ ২০টিরও অধিকপ্রদেশ ও কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলে আন্দাজিত ৬৭ কোটি মানুষের জীবনে সীমাহীন দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।

    টাইমস অফ ইণ্ডিয়া জানাচ্ছে, তিন গ্রিডের এই বিদ্যুত-ব্যর্থতার ফলে ভারতে অর্ধাংশেরও বেশি ‘পাওয়ারলেস’ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের গণযোগাযোগ ব্যবস্থা-সহ জরুরী পরিষেবা ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    উল্লেখ্য, নর্দার্ন গ্রিডের অধীনে রয়েছে পাঞ্জাব, হারিয়ানা, রাজস্থান, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কশ্মির এবং চণ্ডিগড়। নর্থ-ইস্টার্ন গ্রিডের অধীনে আছে অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যাণ্ড, আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম ও ত্রিপুরা। ইস্টার্ন গ্রিডের এলাকাগুলো হচ্ছে পশ্চিম বাংলা, ছত্তিশগড়, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা ও সিকিম।

    বিদ্যুত-ব্যর্থতার কারণে রাজধানী দিল্লির ট্রাফিক-পদ্ধতি বিকল হয়ে যাবার ফলে, সাংঘাতিক যান-জটলা তৈরী হয়ে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

    পশ্চিম বাংলার বর্ধমান জেলায় শতো-শতো খনি-শ্রমিক মাটির নিচে আটকা পড়েছেন। প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় পরিস্থিতির সামাল দিতে তাঁর প্রাদেশিক রাজধানী কোলকাতকাতায় ছুটি ঘোষণা করেছেন।

    প্রাথমিকভাবে শুরু হওয়া নর্দার্ন গ্রিডের বিদ্যুত-ব্যর্থতা কর্তৃপক্ষীয় জরুরী পদক্ষেপের ফলে সামাল দিতে পারলেও, আজ শুধু নর্দার্ন গ্রিডের ব্যর্থতাই ফিরে আসেনি, বরং এর সাথে সংযুক্ত আরও দুটোতে - ইস্টার্ন গ্রিড ও নর্থ-ইস্টার্ন গ্রিডেও আঘাত হানে। এই তিনটি গ্রিডের বাহিত মোট বিদ্যুতের পরিমাণ ৫০,০০০ মেগাওয়াট।

    উল্লেখ্য, সমগ্র ভারতে বিদ্যুতের জন্য রয়েছে মোট ৫টি নর্দার্ন, নর্থ-ইস্টার্ন, ইস্টার্ন, ওয়েস্টার্ন ও সাদার্ন, যার প্রতিটি প্রাদেশিক মালিকানাধীন স্ব-স্ব পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশনের দ্বারা পরিচালিত। এর মধ্যে হিন্দি-অপ্রেমী দক্ষিণাঞ্চলের সাদার্ন গ্রিড ছাড়া বাকি গ্রিডগুলো আন্তঃসংযুক্ত। সবগুলো গ্রিড মিলে মোট ৯৫,০০০ সার্কিট কিলোমিটার বিদ্যুত পরিবাহিত হয়। এক সার্কিট কিলোমিটার বিদ্যুত ট্র্যান্সমিশন বলতে বুঝায় ভৌগলিকভাবে এক কিলোমিটার দূরত্বের বিদ্যুত পরিবহন।

    ভারতীয় পত্রিকাগুলো জানাচ্ছে, দেশে এই ব্যাপক বিদ্যুত-ব্যর্থতার জন্য দায়ি হচ্ছে প্রদেশগুলোর অতি বিদ্যুত ব্যবহার। স্মর্তব্য, এহেন বিদ্যুত-ব্যর্থ ভারত সম্প্রতি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত রফতানির একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে। 

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন