• ভারতের মাওবাদী নেতা কিষাণজি 'এনকাউন্টারে' নিহতঃ প্রতিবাদে দু-দিনের হরতাল পালিত
    westbengal_maoist_kishenji_killed_in_crossfire.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ ডিসেম্বর ২০১১, সোমবারঃ  ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই-মাওবাদী)-এর তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা কিষানজি রাওকে (৫৮) 'এনকাউন্টারে' হত্যার প্রতিবাদে দলটির ডাকে ভারতব্যাপী দু-দিন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন পালিত হচ্ছে আজ। হরতালে বিহার, ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

    গত ২৪শে নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বুড়িশোল জঙ্গলে কিষাণজির বুলেটবিদ্ধ ও আংশিক দগ্ধ লাশ পাওয়া যায়। সরকারী নিরাপত্তা-রক্ষীরা দাবী করেছেন যে, তাঁদের সাথে 'বন্দুক-যুদ্ধের সময় এনকাউন্টারে' প্রাণ হারিয়েছেন নিষিদ্ধ পার্টির এ-নেতা। তাঁর পার্টির এ-দাবীকে উড়িয়ে দিয়ে পালটা দাবী করেছে যে, পুলিস 'ঠান্ডা মাথায়' কিষাণজিকে গুলি করে হত্যা করেছে।

    মানবাধিকার কর্মীরাও পুলিসের দাবী প্রত্যাখ্যান করেছেন। কো-অর্ডিনেশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটসের কর্মীদের মধ্যে যাঁরা দাহ করার আগে কিষাণজি'র লাশ দেখেছেন, তাঁরা জানিয়েছেন, 'তাঁকে অত্যন্ত কাছ থেকে মাথায় গুলি করা হয়েছে। পায়ে দহন ছাড়াও সারা গায়ে অসংখ্য আঘাত ও ছুড়িতে কাটার চিহ্ন ছিলো, যা থেকে অনুমান করা যায়, তাঁকে নির্যাতন করা হয়েছে'।

    কিষাণজিজনপ্রিয় তেলেগু কবি বারাবারা রাও কিষাণজির আত্মীয়দের সাথে লাশ নিতে এসে বলেছেন, 'গত ৪৩ বছরে তথাকথিত এনকাউন্টারে নিহত অসংখ্য লাশ আমি দেখেছি, কিন্তু এমন আর দেখিনি। এ-শরীরটিতে এমন কোন স্থান নেই যেখানে অত্যাচার করা হয়নি'।

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী কিষাণজি'র মৃত্যুতে নিরাপত্তা-কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তোলা প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি তাঁদের সমালোচনা করে বলেছেন 'কোথায় থাকেন আপনারা যখন মাওবাদীরা সাধারণ মানুষ খুন করে?' উল্লেখ্য, ব্যানার্জী গত ১৫ নভেম্বর তারিখে মাওবাদীদেরকে অস্ত্র-সমর্পণের জন্য ৭ দিন সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। আরও উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মাওবাদীদের সাথে মমতা ব্যানার্জীর পার্টি যোগ দিয়েছিলো এবং মাওবাদীরাও ব্যানার্জীকে 'প্রগতিশীল'  বলে চিহ্নিত করেছিলো।

    কিষাণজির আসল নাম মাল্লোজুলা কোতেশ্বর রাও, বাড়ি অন্ধ্র-প্রদেশের করিম নগরে। তাঁর পিতা ছিলেন কংগ্রেসে-কর্মী ও ভারতে স্বাধীনতা-সংগ্রামী। ১৯৭৩ সালে গণিতে ডিগ্রী লাভ করা পর তিনি হায়দ্রাবাদে যান আইন পড়তে। তেলেঙ্গানা আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁর রাজনীতিতে আগমন। ১৯৭৫ সালের 'জরুরী অবস্থার সময়' তিনি আত্ম-গোপনে যান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, 'পৃথিবীর ইতিহাস সম্বন্ধে না জেনে আমি হাতে অস্ত্র তুলে নিইনি'।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন