• ভারতে দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলক গ্রেফতারঃ দেশ-জুড়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ
    Anna-Hazare-arrested.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১৬ অগাস্ট ২০১১, মঙ্গলবারঃ  ভারতের গান্ধীবাদী প্রবীন রাজনীতিক আন্না হাজরেকে নিষিদ্ধ-ঘোষিত অনশন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্য আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানী দিল্লির পুলিস গ্রেফতার করার পর গণ-বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের দিনের শেষে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।p>

    দুর্নীতি-বিরোধী আন্দোলনের নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করা আন্না হাজরের গ্রেফতারের প্রতিবাদে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি থেকে শুরু করে মার্ক্সবাদী দল সিপিএম পর্যন্ত প্রতিবাদে মুখর হয়েছে কংগ্রেস-দলের নেতৃত্বধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে।

    আজ সকালে জাহরেকে তাঁর বাড়ী থেকে দিল্লি পুলিস গ্রেফতার করে সাত দিনের বিচার-বিভাগীয় হেফাজতে তিহার জেইলে নিয়ে যায়। কারণ, দুর্নীতি দমন কল্পে সরকারে তৈরী সংশোধিত খসড়া আইন-প্রস্তাব ‘লোকপাল বিল’-এর বিরুদ্ধে তাঁর অনির্দিষ্ট কালের জন্য অনশন শুরু করার কথা।

    অনশনের শুরুকে সামনে রেখে গান্ধীবাদী আন্না হাজরে রাজঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু আগেই পুলিস তাঁকে এবং জন লোকপাল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য কিরণ বেদি, শান্তি ভূষণ ও অরবিন্দ কাজরিওয়ালকে গ্রেফতার করে।

    হাজরের গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হবার সাথে-সাথে রাজধানী দিল্লি-সহ সারা দেশে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় পার্লামেন্ট লোকসভায় বিরোধী দলীয় এমপিরা হাজরের গ্রেফতারকে অগণতান্ত্রিক আখ্যায়িত করে কংগ্রেস দলীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহ সিংয়ের কাছ থেকে বিবৃতি দাবী করলে মতানৈক্যে কন্টকিত অধিবেশন মুলতবী করা হয়।

    সাধারণ প্রত্যাশার বাইরে হিন্দু দক্ষিণপন্থী দল বিজেপি ও মার্ক্সবাদী বামফ্রন্ট একত্রে আন্না হাজরে ও তার অনুসারীদের 'অনতিবিলম্ব মুক্তি' দাবী করেছে।

    হাজরের গ্রেফতারের ঘটনাকে বিভিন্ন বিরোধী-রাজনৈতিক দল আন্দোলনকারীরা গত সত্তরের দশকের কংগ্রেস নেত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আরোপিত জরুরী অবস্থার সাথে তূল্য করে সমালোচনা-মুখর হয়েছেন।

    উল্লেখ্য, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জরুরী অবস্থা জারী করার কারণে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল কংগ্রেস পরবর্তী নির্বাচনে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় এবং এর পর তিনি তার দল নিয়ে ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হন জাতির কাছে ‘ভুলের জন্য ক্ষমা’ পর।

    এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র-মন্ত্রী চিদাম্বরাম দাবী করেন, ‘মিঃ হাজরে ও তাঁর সমর্থকেরা নিষিদ্ধতা বিধি অমান্য করে আইতঃ অপরাধ করবেন বলে পুলিস নিশ্চিত হবার পরই তাঁকে হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়।’

    কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী বলেন, ‘সবারই প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, কিন্তু পুলিস যখন একটি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি লক্ষ্য করে, তখন তারা সেখানে শর্ত আরোপ করতে পারে।’

    বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি আজকের দিনটিকে ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘দুঃখ দিবস’ বলে অবিহিত করেন। তিনি সরকারের পদক্ষেপকে সরকারের ভীতির প্রকাশ বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘এক দল নাগারিক, যাঁরা সরকারের সাথে একমত নন, তাঁদের কি মত-ভিন্নতা ও প্রতিবাদ করার অধিকার আছে, নাকি এদেশে আমরা নাগরিক অধিকার ও প্রতিবাদ করার অধিকার ত্যাগ করেছি?’

    দৃশ্যতঃ বিব্রত সরকার সারা দেশে প্রতিবাদের মুখে আন্না হাজরেকে রাত নামতেই মুক্ত করে দেয়। কিন্তু হাজরে তাঁকে 'হেফাজতে' রাখা তিহার জেল থেকে বেরুতে চাননি। তিনি বলেন, 'আমি জানি আমি যা করতে যাচ্ছি, তাতে তাঁরা আমাকে আবার গ্রেফতার করবেন।’

    সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, আন্না হাজরে আর নেই হাজতে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন