• ভারতে ব্যাপক ঘাটতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিদ্যুত রপ্তানিঃ নির্বাচন-পূর্ব কূটনীতি?
    india_bangladesh_electricity_deal.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ  নিজ দেশে ব্যাপক মাত্রায় ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও আগামী সপ্তাতেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানী শুরু করতে পারে প্রতিবেশী ভারত। এ-লক্ষ্যে উভয় দেশের রাষ্ট্রীয় বিদ্যৎ কর্তৃপক্ষ ২৫ বছর মেয়াদী এক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল।

    উল্লিখিত চুক্তির আওতায়, পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর থেকে বাংলাদেশের ভেড়ামাড়ায় নবনির্মিত একটি বিদ্যুৎ-সংযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে শুরুতে ৫০ মেগাওয়াট ও ক্রমন্বয়ে তা বাড়িয়ে অক্টোবরের শেষ নাগাদ ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে রপ্তানী করবে ভারত। ১২৫.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ-সংযোগ প্রকল্পের ৪০ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাকিটুকু ভারতে অবস্থিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী এটি নির্মাণের মোট ব্যয় ১৯৬.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ১৫৮.৬ মিলিয়ন বাংলাদেশের ও বাকি বাংলাদেশের ভাগে ৩৮.২ মিলিয়ন ভারতের বহন করার কথা।

    দ্য বিজিনেস স্ট্যাণ্ডার্ড জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের শিল্পখাতে চাহিদা বৃদ্ধির হার আশানুরূপ না হওয়ায় ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেইট ইলেক্ট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির হাতে অন্ততঃ ১০% বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত্ব থাকে। সরকারী সে-কর্তৃপক্ষ বিক্রি করবে ২৫০ মেগা ওয়াট ও বেসরকারী বাজার থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট  বিদ্যুৎ কিনবে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ রপ্তানির এ-চুক্তির আওতায় ভারত বার্ষিক প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উপার্জন করবে বলে আশা করছে।

    সম্প্রতি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যের পালটানায় দুই ইউনিট বিশিষ্ট ৭২৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার  গ্যাস-চালিত একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালু হয়েছে। এটি নির্মাণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরায় পরিবহণ করা হয়।

    অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভারী শিল্পে পিছিয়ে থাকা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দুর্গম রাজ্যগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম। অংশতঃ সে-কারণে ত্রিপুরার রাজ্য সরকারও উদগ্রীব উদ্বৃত্ত্ব বিদ্যুৎ রপ্তানীতে। তবে ভৌগলিক বাধার কারণে ভারতের অন্যান্য অংশে সরাসরি বিদ্যুত পাঠানো প্রায় অসম্ভব।

    বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা থেকে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ পাঠানো সে-তুলনায় ঢের সহজ। এ-অবকাঠামো তৈরি হলে তাতে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতের অন্যান্য অংশেও আগামীতে বিদ্যুৎ পাঠানো সহজতর হবে। তবে এখনই ত্রিপুরা থেকে ভারতের অন্য অংশে বিদ্যুৎ পাঠানো হচ্ছে না।

    ওয়ালস্ট্রীট জার্নাল বিদ্যুৎ পাঠানোর ব্যাপারটিকে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিতে ভারতের কূটনৈতিক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছে। দৃশ্যতঃ দু'দেশের বর্তমান শাসক-দল, কংগ্রেস ও আওয়ামী লীগ, তথা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতার আসা দিল্লীর কাছে কাম্য। এ-প্রকল্পকে সমগ্র দক্ষিণ এসিয়াকে সংযুক্ত করে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রীড গড়ে ওঠার সূচনা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন অনেকে।

    গত জুলাইতে কয়েকটি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের পরাজয়ের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদ, 'বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেখাবো উন্নয়ন করেছি কি-না' বলে ভৌটারদের প্রতি তাঁর বিরক্তি প্রকাশ করেন। সম্প্রতি দেশটির রাজধানীতে লৌড শেডিং এর মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ও ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সংবাদে এমন সন্দেহও অনেকে প্রকাশ করেছেন যে, এ-সবগুলোই এক সূত্রে গাঁথা।

    প্রসঙ্গতঃ বাংলাদেশের অন্য প্রান্তে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তের কাছে সুন্দরবন-সংলগ্ন রামপালে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কয়লাভিত্তিক যৌথ-বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তুতে প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে উভয় দেশ। সেটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে এ-মুহূর্তে চলছে বাংলাদেশে ঢাকা থেকে রামপাল পর্যন্ত লংমার্চ। শতো-শতো মানুষ অংশ নিচ্ছে এ-দীর্ঘ মিছিলে, যাদের দাবি, রামপাল প্রকল্প বাতিল করতে হবে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞর বলছেন, রামপাল প্রকল্প পৃথিবীর বৃহত্তম 'ম্যানগ্রৌভ ফরেস্ট' সুন্দরবনের জীবিবৈচিত্র ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন