• ভিয়েতনাম, কিউবা ও সেশেল-দ্বীপে নৌঘাঁটি বসাবে রাশিয়া
    russia_seeks_naval_base_in_asia_africa_americas.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ জুলাই ২০১২, শনিবারঃ  আফ্রিকা, এসিয়া ও আমেরিকা মহাদেশে তিনটি নৌঘাঁটি স্থাপন করবে রাশিয়া। দেশটির নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস এডমিরাল ভিক্টর চির্কোভ গতকাল রুশ সংবাদ সংস্থা রিয়া-নভোস্তির সাথে আলাপকালে এ-সংবাদ জানান। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমানযুদ্ধ-ঝুঁকির মাঝে রাশিয়া তার সামরিক ক্ষমতা ও বিস্তৃতি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। দৃশ্যতঃ প্রাক্তন সোভিয়েত ইউনিয়নের মিত্র কিউবা ও ভিয়েতনামে নৌঘাঁটি করার প্রচেষ্টা সে-উদ্যোগেরই অংশ। এ-তিনটি সামরিক স্থাপনা তিনটি পৃথক মহাদেশে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করবে।

    ভিয়েতনাম ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে, রাশিয়ার নৌঘাঁটিতে তাদের আপত্তি নেই। দেশটির প্রেসিডেন্ট ত্রুয়োং ত্যান স্যাং ভয়েস অফ রাশিয়া রেডিওকে জানান, কাম রান বন্দরে রাশিয়ার নৌঘাঁটি হতে পারে। প্রসঙ্গতঃ এ-বন্দরেই সোভিয়েত যুগে রাশিয়ার নৌঘাঁটি ছিলো।

    ভৌগলিক কারণে ভিয়েতনামে রাশিয়ার নৌঘাঁটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লিখিত বন্দরটি দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত, যেখানে সামরিক প্রাধান্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চীনের সাথে ভিয়েতনাম, ফিলিপিন্‌স ও পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রেশারেশি চলছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্নিকটে, দক্ষিণ আমেরিকার কিউবায় নৌঘাঁটি থাকলে তা রাশিয়াকে সম্ভাব্য রুশ-মার্কিন সামরিক সংঘর্ষে ব্যাপক রণকৌশলিক সুবিধা দিবে। 

    সেশেল দ্বীপটি আফ্রিকার জাঞ্জিবারের পূর্বে, মাদাগাস্কারের উত্তর-পূর্বে এবং সোমালিয়ার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ভারত মহাসাগরের একটি ছোট দ্বীপ-রাষ্ট্র। রাজনৈতিক মানচিত্রে দেশটি আফ্রিকা মহাদেশের অন্তর্ভূক্ত। এ-দ্বীপে নৌঘাঁটি থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ করতে তা সহায়ক হবে।

    উল্লেখ্যঃ বর্তমানে বিদেশের মাটিতে রাশিয়ার একমাত্র নৌঘাঁটিটি সিরিয়ার তার্তুস বন্দরে অবস্থিত। সে-দেশে চলমান পশ্চিমা সমর্থনপুষ্ট ইসলামবাদী সামরিক বিদ্রোহে রাশিয়া ও চীন এখনও পর্যন্ত দেশটির সরকারকে সমর্থন করছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন