• ভৌটের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লেবারঃ ভরাডুবি কোয়ালিশনের দুই শরীক দলের
    Ed-Miliband-meets-support.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ মে ২০১২, শনিবারঃ  ইংল্যাণ্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যাণ্ডের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাসীন কোয়ালিশন সরকারের দুই শরীক দলের আসনে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে ব্যাপক বিজয় অর্জন করেছে লেবার পার্টি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দেশব্যাপী ১৮১টি কাউন্সিলে ৮২৩টি আসনে নতুন কাউন্সিলার পেয়েছে লেবার দল। অন্যদিকে, কনসার্ভেটিভ দল হারিয়েছে ৪০৫ জন কাউন্সিলার আর লিবডেম হারিয়েছে ৩৩৬ জন কাউন্সিলার।

    ফলাফলে দেখা যায়, কেবল লেবার পার্টি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি, গ্রীন পার্টি, রেসপেক্ট পার্টি-সহ আরো দুইটি ছোটো দল তাদের আসন সংখ্যা বাড়াতে পেরেছে। ২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর বটো ধরনের পরাজয় বরণ করলো কনসার্ভেটিভ দল। আর, কোয়ালিশন সরকারের শরীক দল লিবডেম গত সাধারণ নির্বাচনে জনপ্রিয়তা হারানোর পর সর্বশেষ স্থানীয় নির্বাচনে আরো এক দফা বড় ধরনের পরাজয় বরণ করলো।

    দলের ব্যাপক বিজয় অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় লেবার নেতা এড মিলিব্যাণ্ড বলেন, লেবার দল জনগণের আস্থা ফিরে পাচ্ছে। অন্যদিকে, কনজারভেটিভ নেতা ডেইভিড ক্যামেরোন তাঁর দলের পরাজিত প্রার্থীদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলেও বলেছেন, আর্থিক ঘাটতি মোকাবেলায় তাঁর সরকারের নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্তগুলো তিনি বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবেন।

    ৩রা মে বৃহস্পতিবার ইংল্যাণ্ড, ওয়েলস ও স্কটল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঁচ ধরনের নির্বাচন।

    ইংল্যাণ্ড
    ইংল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে কাউন্সিল নির্বাচন, কাউন্সিলের উপ-নির্বাচন, মেয়র নির্বাচন এবং মেয়র পদ্ধতি চালু করা হবে কি-না সে বিষয়ে গণভৌট।

    ইংল্যাণ্ডের ১০টি কাউন্সিলের একক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে কনসার্ভেটিভ দল। লেবার দল বিদ্যমান ৩৯টি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে অতিরিক্ত ২২টি কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। লিবডেম প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথমবারের মতো ইংল্যাণ্ডে তাদের কাউন্সিলারের সংখ্যা ৩ হাজারের নিচে এসে ঠেকেছে।

    গ্রীন পার্টির কাউন্সিলার সংখ্যা বেড়েছে ৫টি আসনে। জর্জ গ্যালোওয়ের নতুন ঘাঁটি ব্রাডফৌর্ডে লেবার লীডারকে পরাজিত করে ৫টি আসন জিতে নিয়েছে রেসপেক্ট। ইংল্যাণ্ডে ‘ইউকে ইণ্ডিপেণ্ডেন্স পার্টির ভোটের সংখ্যা বাড়লেও আসন বাড়েনি। দলটি ৫টি নতুন আসনে জিতলেও একই সংখ্যক আসন হারিয়েছে। বর্ণবাদী দল ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টি ৬টি কাউন্সিলার পদ হারিয়েছে।

    এদিকে, দ্বিতীয়বারের মতো লণ্ডন-মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন কনসার্ভেটিভ দলের প্রার্থী বরিস জনসন। প্রথম দফার ভোট গণনায় ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় ‘ফার্স্ট প্রেফারেন্স’ ভৌটের ভিত্তিতে তিনি নির্বাচিত হন।

    তাঁর নিকটতম প্রার্থী লেবার দলীয় প্রার্থী কেন লিভিংস্টৌনের চেয়ে মাত্র ৩ শতাংশ বেশি ভৌট পেয়ে জয়লাভ করেন বরিস জনসন। বরিস জনসনের প্রাপ্ত ভোট ১০ ল ৫৪ হাজার ৮শ ১১। কেন লিভিংস্টন পেয়েছেন ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ২শ ৭৩ ভোট।

    ওদিকে, লিবডেম দলীয় মেয়র প্রার্থী ব্রায়ান পেডিককে পেছনে ফেলে মেয়র হওয়ার দৌড়ে তৃতীয় স্থান দখল করেন গ্রীন পার্টির প্রার্থী জেনী জৌন্স। ব্রায়ান পেডিক তৃতীয় স্থান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সিওবান বেনিতা পঞ্চম স্থান দখল করেন।

    এদিকে, লণ্ডন এসেম্বলি নির্বাচনের ২৫টি আসনেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে লেবার পার্টি। লেবার জিতেছে ১২টি আসন, কনসার্ভেটিভ দল ২টি আসন হারিয়ে জিতেছে ৯টি আসন। এছাড়া লন্ডন এ্যাসেম্বলীতে লিবডেম ও গ্রীন পার্টি ২টি করে আসনে জিতেছে।

    ‘ডাইরেক্টলী ইলেক্টেড মেয়র’ বিষয়ক গণভৌটে এই পদ্ধতির বিপক্ষে রায় এসেছে বার্মিংহাম, শেফীল্ড, নটিংহ্যাম, ম্যানচেস্টার, ব্রাডফৌর্ড, কৌভেন্ট্রি, উয়েইকফীল্ড, লিডস্‌ ও নিউক্যাসেল-আপন-টাইন এলাকায়। পক্ষে ভোট দিয়েছে ব্রিস্টলের অধিকাংশ ভোটার। আর ডনকাস্টারে ডাইরেক্টলী ইলেক্টেড মেয়র রাখা-না রাখা নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটে মেয়র পদ্ধতি রাখার পক্ষে রায় দিয়েছে অধিকাংশ ভৌটার।

    এদিকে, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উইভার্স ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন লেবার দলীয় প্রার্থী জন পল পীয়ার্স। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মেয়র লুৎফুর রহমানের সমর্থন পাওয়া রেসপেক্ট দলীয় প্রার্থী আবজল মিয়া।

    ওয়েলস
    ১৯৯৬ সালের পর ওয়েলসের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে লেবার পার্টি। ওয়েলসের ২১টি কাউন্সিলের মধ্যে ১০টির নিয়ন্ত্রণ এখন লেবারের হাতে। ওয়েলশ কনসার্ভেটিভ পার্টি বিভিন্ন কাউন্সিলে তাদের ৬১টি আসন হারিয়েছে। ওয়েলসে স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী দল ‘প্লাইড কামরু’ সর্বমোট ৪১টি আসন হারিয়েছে। আর লিবডেম হারিয়েছে ৬৬টি আসন।

    স্কটল্যাণ্ড
    স্কটল্যাণ্ডের ৩২টি কাউন্সিলে সর্বাধিক আসনে বিজয়ী হয়েছে রাজ্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দল স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি। দলটির আসন ৫৭টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪টিতে।

    স্কটল্যাণ্ডে ৮০টি আসন হারিয়ে সবচেয়ে বড়ো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে লিবডেম। এই আসন সংখ্যা পূর্ববর্তী আসন সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। স্কটল্যাণ্ডে ৫৮টি আসন বৃদ্ধি পেয়েছে লেবার পার্টির। কনসার্ভেটিভ দল স্কটল্যাণ্ডের বিভিন্ন কাউন্সিলে ১৬টি আসন হারিয়েছে। ১৪টি আসনে বিজয়ী হয়েছে গ্রীন পার্টি। তবে ফার্স্ট প্রিফারেন্স ভৌটিং সিস্টেমের কারণে স্কটল্যাণ্ডের অধিকাংশ কাউন্সিলে কোনো দলের একক নিয়ন্ত্রণ যাচ্ছে না বরং ‘হাং’বা ঝুলন্ত থেকে যাচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন