• মহাশূন্যে প্রাণের সন্ধানঃ দাবি রুশ নভোচারীর
    russia_claims_plankton_on_iss.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৩ অগাস্ট ২০১৪, শনিবারঃ আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের বহির্গাত্রে সূক্ষ্ম জলজ প্রাণের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন সেখানকার রুশ অংশের প্রধান ভ্লাদিমির সলোভিয়েভ। কোথা থেকে এ-প্রাণ এসেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া না গেলেও প্যানস্পার্মিয়া তত্ত্বের সমর্থক বিজ্ঞানীরা মনে করছেন এর উৎস মহাশূন্য। ইথার তাশ ও স্পেইস ডট কম জানিয়েছে সংবাদ।

    আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র বা আইএসএসের রুশ অংশের জানালার বাইরে থেকে নেওয়া নমুনা পরীক্ষা করে জলজ প্রাণাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। আইএসএসে রুশ মহাকাশ মিশনের দায়িত্বে থাকা ভ্লাদিমির বলেন "আমরা জলজ প্লাঙ্কটন ও আনুবীক্ষনিক প্রাণ খুঁজে পেয়েছি। এগুলোকে আরও নীরিক্ষণ করা উচিত"। তিনি অবশ্য স্বীকার করেন, কেমন করে এ-প্রাণাণু সেখানে গেলো তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এ-ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হলো মহাকাশের অভিকর্ষ বলহীন ও তীব্র মহাজাগতিক রশ্মির মধ্যেও প্রাণ বেঁচে থাকতে পারে। পূর্বের এক পরীক্ষার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছিলেন যে মহাকাশে ব্যাক্টেরিয়া বাঁচতে পারে। তবে প্লাঙ্কটনের প্রাণ-বিন্যাস ব্যাক্টেরিয়ার চেয়ে অনেক জটিল।

    এদিকে মহাকাশে প্রাণানু সন্ধানের সংবাদকে প্যানস্পার্মিয়া তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ বলে দাবী করেছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী প্রোফেসর চন্দ্র বিক্রমাসিংঘে। এ-তত্ত্বে বলা হয় কেবলমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এমনটি ভাবা সঠিক নয় -- প্রাণ মহাবিশ্বের সর্বত্রই ছড়িয়ে রয়েছে, যা মহাকাশের বিভিন্ন চলমান বস্তু যেমন ধুমকেতু, উল্কা, গ্রহাণু এমনকি নভোযানের মাধ্যমেও গ্রহান্তরে ছড়ায়।

    আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে প্রাপ্ত প্রাণের উৎস পৃথিবী নয় - এমনটি নিশ্চিত হওয়া গেলে মহাবিশ্বে প্রাণের উদ্ভব ও তা ছড়িয়ে পড়া বিষয়ক প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্যানস্পার্মিয়ার মতো তত্ত্ব নিয়ে অনেক গবেষক নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন