• মানবতা-বিরোধী অপরাধে মুজাহিদ মৃত্যুদণ্ডিত
    bangladesh_mujahid_to_hang_verdict.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৭ জুলাই ২০১৩, বুধবারঃ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আজ ১৯৭১ সালে মানবতা-বিরোধী অপরাধ সঙ্ঘটনের দায়ে দেশটির বৃহত্তম ইসলামবাদী দল জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেট্যারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। বিচারপ্রার্থীরা এত সন্তোষ প্রকাশ করেছে; তবে আসামী-পক্ষ এ-রায়কে প্রত্যাখ্যান করে অ্যাপীলের প্রতিজ্ঞা করেছে।

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার বিরোধীতা করে। বাংলাদেশপন্থী যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র মিলিশিয়া গড়ে তোলে জামায়াত ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলো। রাজাকার বা স্বেচ্ছাসেবক, আল-বদর, আল-শামস ইত্যাদি বাহিনী দেশজুড়ে ব্যাপক মাত্রায় বেসামরিক নাগরিক হত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রম চালায়।

    ট্র্যাইবুনালে মুজাহিদের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে ৫টি প্রমাণিত হয়েছে। প্রমাণিত অপরাধের ৩টির শাস্তিস্বরূপ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে; অন্য দুটির জন্য তাকে দেওয়া হয়েছে কারাদণ্ড।

    ১৯৭১ সালে কৃত অপরাধসমূহের বিচারার্থে ২০১০ সালে বিশেষ ট্র্যাইবুনাল গঠন করে বাংলাদেশের সরকার। শুরু থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে এ-আদালত সংক্রান্ত কাজ ধীর গতিতে পরিচালনা, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দে দীর্ঘসূত্রিতা, বিচারক নিয়োগে অস্বচ্ছতা ইত্যাদি অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থা প্রশ্ন তোলে এ-আদালতের আইনী কাঠামো আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কি-না তা নিয়ে। এছাড়াও একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য সরকারী চাপের অভিযোগও ওঠে বিরোধী-পক্ষ থেকে।

    ২০১০ সালে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত-দানের অভিযোগে মুজাহিদকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে মানবতা-বিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়। ২০০১-২০০৬ সালের বাংলাদেশের চারদলীয় জোট সরকারে মুজাহিদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন। তার ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম বর্তমান বা প্রাক্তন কোনো মন্ত্রীর প্রাণদণ্ডের নজির সৃষ্টি হলো। 

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন