• 'মানবিক বিপর্যয়' চলছে গৃহযুদ্ধে কবলিত পূর্ব-ইউক্রেনেঃ জার্মানিতে চারজাতি বৈঠক আজ
    ukraine_donetsk_humanitarian_crisis.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৭ অগাস্ট ২০১৪, রোববারঃ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে স্থিত ইউরোপন্থী সরকার ও স্বাধীন-ঘোষিত পূর্বাঞ্চলীয় রুশভাষী জনতন্ত্রগুলোর মধ্যকার যুদ্ধে বেসামরিক জনগণের দুর্দশা এখন 'মানবিক বিপর্যয়ে' রূপ নিয়েছে। এ-নিয়ে আলোচনার জন্য আজ জার্মানির বার্লিনে এক বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন ইউক্রেইন, রাশিয়া, জার্মানি ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

    স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত লুহান্‌স্ক ও দনেৎস্ক প্রদেশের অন্ততঃ ২,০০০ জন ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক অধিবাসী। প্রায় চার মাস ধরে চলমান এ-সহিংসতায় শিল্পোন্নত এ-অঞ্চলের বিদ্যুৎ-ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং খাদ্য ও সুপেয় পানির সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এক লাখেরও বেশি নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

    জাতিসঙ্ঘের রিফিউজি এজেন্সি ইতোমধ্যেই পূর্ব-ইউক্রেনের মানবিক বিপর্যয় পরিস্থিতি মোকাবেলায় 'জরুরী ত্রান' কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের সহযোগিতায় প্রতিবেশী রাশিয়া গত সপ্তায় ২৮০ ট্রাক ত্রানসামগ্রী পাঠালেও তা এখনও যুদ্ধ-বিধ্বস্ত এলাকায় পৌছুঁতে দেয়নি সরকার।

    রুশ বার্তা-সংস্থা ইথার-তাশ জানিয়েছে বার্লিনে অনুষ্ঠিতব্য আজকের বৈঠকের সম্ভাব্য আলোচ্য হবে রাশিয়ার পাঠানো ত্রান-সামগ্রী দ্রুত দনেৎস্ক ও লুহান্‌স্কে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা। এছাড়াও বর্তমান সহিংসতা নিরসন করে কীভাবে একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যায় সে-ব্যাপারেও আলোচনা হতে পারে - যদিও চূড়ান্ত আলোচ্য-সূচি এখনও পাওয়া যায়নি।

    গত বছর নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার দু'টো সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপার এলে তৎকালীন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেণ্ট ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ তুলনামূলকভাবে সহজ শর্তের কারণে ঐতিহাসিক মিত্র রাশিয়ার সাথে চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু তার বিরোধিতা করে উগ্র দক্ষিণপন্থী রাইট সেক্টর ও স্‌ভোদা পার্টি - যাদেরকে ইতোপূর্বে নয়া নাজি বলে ইউরোপীয় ইউনিয়নও সমালোচনা করেছিলো। কিন্তু তা সত্ত্বেও ইয়ানুকোভিচের বিরুদ্ধে সহিংস বিক্ষোভকে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থ করতে থাকে। অন্যদিকে প্রেসিডেণ্টকে সমর্থন করে রাশিয়া।

    এক পর্যায়ে ফেব্রুয়ারি মাসে উভয় পক্ষের মধ্যে 'সমঝোতার চুক্তি' স্বাক্ষরিত হলেও 'নাৎসি' মতানুসারীদের বলপ্রয়োগের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে 'প্রাণভয়ে' রাশিয়ার আশ্রয় নেন প্রেসিডেণ্ট ইয়ানুকোভিচ। নতুন 'অনির্বাচিত সরকার' তৎক্ষনাৎ রুশ ভাষাভাষীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখায়। সরকারী পর্যায়ে রুশ ভাষার মর্যাদা নামিয়ে দেওয়া হয়। সে-পরিস্থিতিতে ভিক্টর ইয়ানুকোভিচের মূল সমর্থন-ভিত্তি দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয়, যেখানকার বেশিরভাগ নাগরিক নৃতাত্ত্বিকভাবে রুশ। বিদ্রোহের এক পর্যায়ে দক্ষিণের ক্রাইমিয়া প্রদেশ গণভৌটের মাধ্যমে ইউক্রেন থেকে আলাদ হয়ে গিয়ে রাশান ফেডারেশনে যোগ দেওয়ার আবেদন করে। সে-আবেদন রুশ কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সাথে মঞ্জুর করে ক্রাইমিয়াকে রাশিয়ার সাথে অঙ্গিভূত করে নেন।

    এ-বছরের এপ্রিল মাসে ক্রাইমিয়ার পথ ধরে রুশ-প্রধান প্রদেশগুলো স্বাধীনতা ঘোষণা করে। মে-মাসে দনেৎস্ক ও লুহান্‌স্ক গণভৌটের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন জনতন্ত্র হিসেব ক্রিয়া করতে শুরু করে। কিয়েভের সরকারী এক প্রতিবেদনে বলা হয় ২৩ মে'র মধ্যে অন্ততঃ ১৭,০০০ সরকারী পুলিস ও সৈনিক ইউক্রেনীয় পক্ষ ত্যাগ করে বিদ্রোহী জনতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য জানায়। বিদ্রোহ দমনে সরকার স্থল ও আকাশ পথে সেনা-অভিযান শুরু করে যা এখনও চলছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন