• মার্কিন-বাংলাদেশ টিক্‌ফা চুক্তি স্বাক্ষরিতঃ আলীগ-বিএনপি এক, বামেরা বলছে 'দাসত্ব'

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৫ নভেম্বর ২০১৩, সোমবারঃ দীর্ঘদিন প্রচেষ্টা শেষে যুক্তরাষ্ট্র আজ বাংলাদেশের সাথে বহুল আলোচিত টিক্‌ফা (TICFA) চুক্তি স্বাক্ষর করতে সমর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদ ও যুক্তরাষ্ট্রের উপ বাণিজ্য প্রতিনিধি উইণ্ডি কাটলার ওয়াশিংটনে এ-চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। গত ১৭ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ-চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেন।

    ট্রেড এ্যাণ্ড ইনভেস্টমেণ্ট এ্যাগ্রীমেণ্ট ফ্রেইমওয়ার্ক, সংক্ষেপে টিক্‌ফা অর্থাৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সমঝোতা কাঠামো চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য-সম্পর্কে একটি রাজনৈতিক ও আইনী কাঠামো তৈরি হলো। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ লাভবান হবে। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "এ চুক্তি হলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়বে।"

    বাংলাদেশের সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যের সমর্থনে বলছে, এটি হবে বাংলাদেশের পক্ষে লাভজনক একটি চুক্তি। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী গোলাম মোহাম্মদ কাদের জুন মাসে বলেছিলেন, "এই চুক্তি না হলে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষিত হবে না এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হবে।" দেশটির মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা অবশ্য স্বীকার করেছিলেন, "জিএসপির সাথে টিক্‌ফা'র কোনো সম্পর্ক্য নেই।" উল্লেখ্য, জিপিএস বা জেনারেল সিস্টেম অফ প্রেফারেন্স নীতির আওতায় বাংলাদেশ গল্‌ফ সরঞ্জাম ও সিরামিক্‌সের মতো পণ্যে রপ্তানিতে সুবিধা পেতো, যা জুন মাসে বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রচারিত হতে থাকে যে টিক্‌ফা স্বাক্ষর করলে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যাবে।

    চুক্তিকারী উভয় দেশের সরকারই 'বাংলাদেশের জন্য লাভজনক' বলে দাবী করলেও টিকফা স্বাক্ষরে প্রতিবাদ উঠেছে বাংলাদেশের বামপন্থী দলগুলো থেকে। আজ ঢাকায় সম্মিলিত সমাবেশে অনেকগুলো বামপন্থী দল টিকফাকে 'দাসত্বের চুক্তি' আখ্যায়িত করে তা বাতিল করার দাবী জানিয়েছে। তবে দেশটির প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ-চুক্তি স্বাগত জানিয়েছে। দলটির সহ-সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, "বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে [দীর্ঘদিনের] সম্পর্ক আরো নিবিড় করতে চায়।"

    বাংলাদেশের একজন অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আনু মুহম্মদ টিক্‌ফা সম্পর্কে বলেছেন, "টিক্‌ফা হলে [বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বিধির কারণে] আন্তর্জাতিকভাবে [মেধাসত্বাধিকার বিষয়ে] প্রাপ্ত  ছাড় গুঁড়িয়ে দিয়ে মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চেপে বসতে পারবে। এতে প্রধানত ক্ষতিগ্রস্ত হবে ওষুধশিল্প এবং আইটি বা তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প"। গতকাল প্রকাশিত এক প্রবন্ধে তিনি আরও বলেছেন, "বাংলাদেশ জানে না, কত কত বীজ, ফসল, গাছ, ফল, ফুল মেধাস্বত্ব জালে কোন কোন কোম্পানির মালিকানায় চলে গেছে। সেই জাল টানতেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য টিকফা জরুরি।"

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন