• মালিকের হুমকির মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার খনিশ্রমিকঃ ‘মরবো তবু পিছু হটবো না’
    Mine-workers.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২০ অগাস্ট ২০১২, সোমবারঃ  বেঁচে থাকার মতো বেতন-বৃদ্ধির দাবিতে দক্ষিণ আফ্রিকার মারাকানি প্ল্যাটিনাম খনির ধর্মঘটী লড়াকু শ্রমিকরা, তাঁদের মধ্যে পুলিসের গুলিতে ৩৪জনের মৃত্যু সত্ত্বেও, মালিক-পক্ষের ঘোষিত ‘হয় কাজে যোগ দাও, নয়তো চাকুরি হারাও’ আল্টিমেটাম উপেক্ষা করে আজ কাজে যোগদান থেকে বিরত থেকেছেন।

    ব্রিটিশ মালিকানাধীন ও বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্ল্যাটিনাম উৎপাদক কোম্পানী ‘লোনমিন’ গতকাল ঘোষণা করে যে, সোমবারের মধ্যে যদি ধর্মঘটী শ্রমিকেরা যদি কাজে ফিরে না আসেন, তাহলে তাঁরা তাঁদের চাকুরী হারাবেন। কিন্তু আজ জোহান্সবার্গ থেকে দৈনিক গার্ডিয়ানের রিপৌর্টার ডেইভিড স্মিথ জানাচ্ছেন যে, দুই-তৃতীয়াংশ শ্রমিকই কাজে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন। 

    লোনমিন-এর একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে সংবাদ-সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘শ্লথভাবে হাজিরা শুরু হয়েছে, কিন্তু এপর্যন্ত মাত্র ২৭%%। তবে ধর্মঘটী শ্রমিকেরা ফিরবে কি-না, তা অস্পষ্ট।’

    সাউথ আফ্রিকান সংবাদ-মাধ্যমগুলোর সংবাদ-মতে, অধিকাংশ শ্রমিকই ধর্মঘট অব্যাহত রাখবেন। কাইজার ম্যাদিবা নামের একজন ধর্মঘটী শ্রমিক টাইমস পত্রিকাকে বলেছেন, ‘এখানে ইতিমধ্যে মানুষ মারা গিয়েছে, সুতরাং আমাদের হারাবার কিছু নেই... বাঁচার মতো বেতন, যা আমরা আমাদের বৈধ অধিকার বলে বিশ্বাস করি, তার জন্য আমরা লড়াই অব্যাহত রাখবো।’

    অপর এক শ্রমিক দৈনিক মেইল ও গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘এই বিষ্ঠার জন্য কাজ করার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো... আমি ধর্মঘট থামাবো না। আমরা যা চাই, তা না পাওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাবো। তাঁরা আমাদেরকে কিছুই বলেনি। পুলিস চেষ্টা করতে পারে, আমাদের মারতে পারে, কিন্তু আমরা অবস্থান ছেড়ে নড়ছি না।’

    লড়াকু শ্রমিকদের ইউনিয়ন আমকু (এ্যাসৌসিয়েশন অফ মাইনওয়ার্কার্স এ্যাণ্ড কনস্ট্রাকশন ইউনিয়ন) লোনমিনের দেয়া আল্টিমেটামকে অত্যন্ত ‘নিষ্ঠুর’ বলে নিন্দা করেছে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা তাঁর বিদেশ সফর থেকে ফিরে এসে এক সপ্তাহের শোক ঘোষণা করেছেন। এই শোক-সপ্তাহে দেশের সর্বত্র জাতীয় পতাকা অর্ধ-উরন্ত রাখা হবে। এ-ছাড়াও তিনি ঘটনাটির তদন্তের জন্য একটি বিচার-বিভাগীয় কমিশন এবং মন্ত্রী-পর্যায়ের কর্ম-পর্ষদ গঠন করেছেন।

    এদিকে, মারাকানি-কাণ্ডে এ-পর্যন্ত গ্রেফতারিত ২৫৯ ধর্মঘটী শ্রমিককে সাথে আজ রুস্টেনবার্গ ম্যাজিস্ট্রেইট কৌর্টে হাজির করা হচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যার চেষ্টা, সশস্ত্র ডাকাতি, গণ-সন্ত্রাস এবং সম্পত্তির হিংসাত্মক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হবে।

    উল্লেখ্য, লড়াকু ধর্মঘটী শ্রমিক ইউনিয়ন ও সরকার-দলীয় ধর্মঘট-বিরোধী শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্য ধর্মঘটের শুরুতেই দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং এর ফলে গত বৃহস্পতিবারের গুলিবর্ষণে ৩৪ শ্রমিক হত্যার আগে দুজন পুলিস, দুজন নিরাপত্তা কর্মী-সহ মোট ১০ জনের প্রাণহানি হয়।

    মালিক-পক্ষ ধর্মঘটী শ্রমিকদের সহিংসতার জন্য দায়ী করলেও ধর্মঘটী শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ঘটনাটিকে মালিক-পক্ষের কারসাজি বলে রাগান্বিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, বেতন বৃদ্ধির ন্যায়সঙ্গত দাবিকে বানচাল করার জন্য মালিক-পক্ষের অনুগত ইউনিয়ন তৎপর হলে লড়াকু শ্রমিকগণ তা প্রতিহত করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৩,০০০ পুলিসের শক্তিশালী বাহিনী নিয়ে এসে আকাশে হেলিকপ্টার ও ভূমিতে সাঁজোয়া বহর এনে স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রে গুলি করে মুহূর্তের মধ্যে ৩৪ শ্রমিককে হত্যা করা হয়।

    লড়াকু শ্রমিক ইউনিয়ন আমকু সংগ্রামের ন্যায্যতা দাবির পাশাপাশি সংগ্রাম অব্যাহত রাখার সংকল্প ঘোষণা করেছে। লণ্ডনে প্রাপ্ত সর্বশেষ খবরে জানা যায়, লোনমিন পিএলসি'র শেয়ারের মূল্য আজ সোমবারে আরও ৫% হ্রাস পেয়েছে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন