• মায়ানমারে আবারও রোহিঙ্গা-রাখাইন দাঙ্গাঃ নিহত ২০ গৃহহারা ছয় হাজার
    mayanmar_mithila_riot.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২১ মার্চ ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ মায়ানমারে আবারও বৌদ্ধ রাখাইন ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়েছে। মধ্য-মায়ানমারের মিক্তিলা শহরের বুধবার শুরু হওয়া এ-সহিংসতায় অন্ততঃ ২০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রাণভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে অন্ততঃ ৬,০০০ ব্যাক্তি।

    কেন্দ্রীয় মান্দালে বিভাগের মিক্তিলা শহরে একটি স্বর্ণের দোকানের মুসলমান মালিক এবং বৌদ্ধ ক্রেতার মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে এ-সহিংসতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ-সংস্থা রয়টার্স। দ্রুত সে-বচসা বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গায় রূপ নেয়। বিশেষতঃ একজন বৌদ্ধ যাজক নিহত হবার পর পরিস্থিতি পুলিসের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

    সঙ্ঘবদ্ধ রাখাইন যুবকরা রোহিঙ্গা অধ্যুষিত পাড়ায় হামলা চালিয়ে তাদের আবাস-ব্যবসাস্থল, উপাসনালয়, ধর্মীয় স্কুল ইত্যাদি পুড়িয়ে দেয় এবং লুটপাট চালায়। রোহিঙ্গাদের পক্ষ থেকেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদ-মাধ্যম। প্রাচীন ভারতীয় রাজ্য মিথিলার নামানুসারে রাখা মিক্তিলা শহরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বামার হচ্ছে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়, এছাড়াও কারেন, শান, রাখাইন ইত্যাদি জনগোষ্ঠীও একই ধর্ম অনুসরন করে।

    গত বছরও মায়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গা ও বৌদ্ধ রাখাইনদের মধ্যে ব্যাপক আকারে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তাতে কয়েকশো মানুষ মারা যায় এবং লক্ষাধিক ঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সে-সময় রাখাইন আক্রমণকারীরা দা, ছুড়ি, তলোয়ার ইত্যাদি ব্যবহার করেছে বলে সংবাদ পরিবেশন করেছিলো রয়টার্স।

    বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিক বলে স্বীকার করা হয় না। বলা হয় তারা বাঙালী - বাংলাদেশ থেকে আসা অভিবাসী। গত বছর প্রাণ বাঁচাতে তারা নাফ নদীর সীমান্ত পেড়িয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে গেলে, সে-দেশের সরকারও তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে পৃথিবীর অন্যতম রাষ্ট্রহীন জাতি বলে চিহ্নিত করা হয়।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন