• মিসরের উৎখাতিত স্বৈরাশাসক হোসনি মুবারক কারামুক্ত হচ্ছেনঃ মুসলিম ব্রাদারহূডের প্রধান গ্রেফতারিত
    egypt_mubarak_to_be_freed_badie_arrested.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২১ অগাস্ট ২০১৩, বুধবারঃ  সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা হারানো নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট মোহাম্মদ মুর্সির দল মুসলিম ব্রাদারহূডের সর্বোচ্চ নেতা মোহাম্মদ বাদীকে গতকাল গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। একদিন পর আজ দেশটির আদালত পতিত স্বৈরাচার হোসনি মুবারাককে দুর্নীতির মামলা থেকে খালাস করে তাকে বস্তুতঃ কারামুক্তির দ্বারপ্রান্তে এনে দিয়েছে।

    ২০১১ সালে মুবারক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন। তবে শেষ মুহূর্তে 'মুবারকের লোক' বলে পরিচিত কিছু সংঘবদ্ধ দল কায়রোর তাহরির স্কোয়ারের বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায় যাতে কয়েকশো মানুষ প্রাণ হারায়। সে-ঘটনাবলির সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়ায় প্রাণহানীর সঠিক সংখ্যা কখনোই জানা যায়নি, তবে আন্দোলকরা দাবি করেছিলেন তা অন্ততঃ নয়শো।

    তাহরির স্কোয়ারে সঙ্ঘটিত প্রাণহানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া ও কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগে মুবারকের বিরুদ্ধে মামলা করে রাষ্ট্রপক্ষ। শেষ দুর্নীতির মামলাটি থেকেও আদালত তাকে রেহাই দেয়ায় এখন কারাগার থেকে বেরিয়ে আসা তার জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। তার আইনজীবী বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, আগামী কালই মুক্তি পেতে পারেন মুবারক। তবে তাহরির স্কোয়ার হত্যা মামলার প্রাথমিক রায়ে তার যাবজ্জীবন কারা-সাজা হলেও আপিলের কারণে সে-মামলাটির পুনরায় বিচার হবে। 

    অন্যদিকে, ক্ষমতা হারিয়ে ও সেনাবাহিনীর অব্যাহত দমন-নির্যাতনে মুসলিম ব্রাদারহূডের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা হুমকির মুখে পড়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ নেতার গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে সে-সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। কালবিলম্ব না করে দলটি দ্বিতীয় প্রধান মাহমুদ এজ্জাতকে 'অস্থায়ী প্রধান' হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা করেছে সেনা-কর্তৃপক্ষ - অভিযোগ হচ্ছে বিক্ষোভ উস্‌কে দেয়া ও ব্রাদারহূড-বিরোধী বিক্ষোভকারী হত্যার সাথে সম্পর্ক।

    প্রেসিডেণ্ট মুর্সিকে পুনর্বহাল করার দাবিতে মুসলিম ব্রাদারহূডের বিক্ষোভ-শিবির গত সপ্তায় বল-প্রয়োগে উচ্ছেদ করে পুলিস। এতে সরকারী হিসেবে সাড়ে ছয়শো আর অনেক বেসরকারী হিসেবে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। বিক্ষুব্ধ ব্রাদারহূডের কর্মীরা সরকারী ভবন ও সেনা-সমর্থক বলে সন্দেহিত কপ্টিক ক্রিশ্চান গির্জায় আক্রমণ করেছে বলে সংবাগ পরিবেশিত হয়েছে। অব্যাহত বিক্ষোভ ও সহিংসতায় এ-মুহূর্তে এক মাসের জরুরী অবস্থা ও রাত্রীকালীন কার্ফিউ জারি রয়েছে দেশটিতে।

    অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, একদিকে বাদীর অন্তরীন হওয়া ও অন্যদিকে মুবারকের মুক্তি পাওয়ার সমান্তরাল ঘটনাদু'টো মিসরের অদূর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্দেশ করছে। দৃশ্যতঃ ২০১১ সালের গণ-অভ্যূত্থান-পূর্ব সেনা-নিয়ন্ত্রিত শাসন-ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে মিসর।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন