• মুজিব হত্যার জন্য জিয়াকে দায়ী করলেন প্রতিমন্ত্রী তাজ

    বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকান্ডের সাথে প্রথম সেনা-শাসক জিয়াউর রহমানের যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছেন বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অবঃ) তাজুল ইসলাম। গত  ২৮ আগস্ট বিকেলে নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত বাংলাদেশের জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সরাসরি প্রশ্ন-উত্তর অনুষ্ঠানে এ-অভিযোগ উত্থাপন করেন ক্যাপ্টেন তাজ।

    ক্যাপ্টেন তাজ জানান, জিয়াউর রহমানের ষড়যন্ত্র মূলতঃ শুরু হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জিয়ার এই ষড়যন্ত্রের সাথে আরো যোগ দেয় কর্ণেল রশিদ, কর্নেল ফারুক ও তাদের লোকেরা; ষড়যন্ত্রের শেষ পরিনতিতে সংঘটিত হয় ১৫ আগষ্ট। ক্যাপ্টেন তাজ জানান ফাঁসীর আগের দিন ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের সাথে জিয়ার সম্পৃক্ততার সবিস্তার প্রমান দিয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন কর্নেল তাহের।  এই চিঠিটি নিজের পড়ার কথা উল্লেখ করেন মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জানান মেজর ইকবাল, ক্যাপ্টেন হাফিজুল্লাহ ছাড়াও বর্তমানে বিএনপি নেতা মেজর (অবঃ) হাফিজউদ্দীনও চিঠি পড়েছিলেন।  এক প্রশ্নের জবাবে ক্যাপ্টেন তাজ বলেন, “এই ঘৃন্য ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সে-সময় প্রতিরোধ গড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফ; যিনি ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের শুরুতে খন্দকার মোস্তাক আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতা-ত্যাগে বাধ্য করেছিলেন।” তাজ আরো বলেন যে, “খালেদ মোশারফকে নাকি তথাকথিত সিপাহী বিপ্লবের কোন এক সিপাহীর হাতে মৃত্যুবরন করতে হয়েছিলো, যা একেবারেই মিথ্যা এবং বানোয়াট। ইতিহাস বিকৃতকারী  জিয়ার পক্ষেই সম্ভব ছিলো এই ডাহা মিথ্যা কথা ছড়িয়ে ইতিহাস বিকৃত করা। বীর সেক্টর কমান্ডার মোশাররফ তথাকথিত ৭ নভেম্বরের সিপাহী বিপ্লবের কোন সিপাহীর হতে মৃত্যুবরণ করেননি।” তার  তথ্যমতে,  সেনানিবাসে যাবার পথে আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে জিয়াউর রহমান দেয়া নির্দেশে কর্ণেল জলিল ও কর্ণেল আসাদ গাড়ীর ভেতরে খালেদ মোশাররফ ও কর্নেল হায়দারকে হত্যা করে।

    নিউইয়র্কে জাতীয় শোক দিবসের সভার দ্বিতীয় পর্বে নির্মূল কমিটি যুক্তরাষ্ট্র শাখার ড. মহসীন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা-পর্বে প্রধান বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল মোমেন, নির্মূল কমিটি নেতা  আল আমিন বাবু,  নিউ ইয়র্ক শাখার সভাপতি শফি চৌধুরী ও সহসভাপতি  ড. আব্দুল বাতেন এবং নিউ ইয়র্ক শাখার উপদেষ্টা ড. মনসুর খান। সভার দ্বিতীয় পর্বটি পরিচালনা করেন নির্মূল কমিটি যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারন সম্পাদক ফাহিম রেজা নূর।

    বার্তা প্রেরক সাব্বির খান
    ৩১ আগষ্ট, ২০১০

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে, যারা সুবিধা পেয়েছে এবং যারা তৎপরবর্তী সরকারে গেছে তারা সকলেই ছিল আওয়ামীলিগের সঙ্গে জড়িত। জিয়াও ধোয়া তুলসী পাতা না, তবে জিয়ার অপরাধ অন্যখানে। মজার জিনিস হচ্ছে জিয়া-মুজিব এদের মধ্যে রাজনৈতিক স্টান্টবাজীর কৌশলে অমিল থাকলেও তাদের রাজনীতির দর্শন মোটেও আলাদা নয়। এরা দু'জনে একই পথের পথিক।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন