• মুর্সি-সমর্থক-উচ্ছেদ অভিযানে '১৪৯ নিহত' মিসরেঃ এক মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষিত
    egypt_pro_mursi_protest_camps_violently_cleared.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৪ অগাস্ট ২০১৩, বুধবারঃ  মিসরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেণ্ট মোহাম্মদ মুর্সির সমর্থকদেরকে রাজপথ থেকে উচ্ছেদে আজ ব্যাপক মাত্রায় বলপ্রোয়োগ করেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। প্রাথমিক সংবাদে দুইজন সাংবাদিক-সহ অন্ততঃ ১৪৯ জনের প্রাণহানির কথা বলেছে কর্তৃপক্ষ, তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে এ-সংখ্যা বাড়তে পারে। এ-পরিস্থিতিতে দেশটিতে এক মাসের জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

    আজ ভোর ৬টার দিকে ভারী অস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও বুলডোজারে সজ্জিত পুলিস ও অন্যান্য নিরপত্তারক্ষী বাহিনী কায়রোর দুই স্থানে মুসলিম ব্রাদারহূডের স্থাপিত বিক্ষোভ-তাঁবু শিবিরে উচ্ছেদ-অভিযান চালায়। এ-সময় হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয় যা থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়।
    উচ্ছেদ-অভিযানে জীবন্ত গুলি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এছাড়াও ব্যাপক মাত্রায় কাঁদানে গ্যাস, লাটি-চার্জ ও জলকামান ব্যবহৃত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলিও ছোঁড়া হয়।


     

    কায়রোয় সহিংসতার সংবাদে অন্যান্য অনেক শহরেও গোলযোগ ঘটেছে। এর মধ্যে আলেক্সান্দ্রিয়া ও সুয়েজে পুলিসের সাথে মুসলিম ব্রাদারহূডের সংঘর্ষে কয়েকশ মানুষ আহত হয়েছে।

    হতাহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে মিসরের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় জানিয়েছে ১৪৯ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ১৪০২ জন আহত হয়েছে। তবে মুসলিম ব্রাদারহূড দাবি করেছে নিহতের সংখ্যা অন্ততঃ ২,০০০ এবং আহতের সংখ্যা ১০,০০০-এরও বেশি। নিরাপত্তারক্ষীরা এ-অভিযানের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদেরকে বাধা দেয়ার কারণে হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

    মিসরী নিরাপত্তা-কর্মীদের আক্রমণে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণহারানো সাংবাদিকদের একজন ব্রিটিশ অন্যজন আরব আমিরাতের। তাঁরা হচ্ছেন যথাক্রমে স্কাই নিউজের সাংবাদিক মিক ডীন ও দুবাই-ভিত্তিক সাংবাদিক হাবিবা আহমেদ আব্দেল আজিজ। ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন মিকের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

    মুর্সি-সমর্থকদের বিক্ষোভের স্থানদুটো হচ্ছে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নাহদা শিবির ও রাবা আদাবিয়া মসজিদ সংলগ্ন শিবির। দ্বিতীয়টি তুলনামূলভাবে বৃহত্তর, যেখানে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র ও অন্যান্য সুবিধাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে। উচ্ছেদ-অভিযানে হুমকির মুখে গত কয়েকদিন ধরে ব্রাদারহূডের কর্মীরা সেখানে প্রতিরোধমূলক বালির বস্তা ও ব্যারিকেড স্থাপন করে আসছে।

    গত ৩রা জুলাই মিসরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেণ্ট মোহাম্মদ মুর্সিকে ক্ষমতাচ্যুত করে অজ্ঞাত স্থানে বন্দী করে জেনারেল আব্দুল ফাতাহ আল-সিসির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী। মুর্সিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার দাবিতে তার দল মুসলিম ব্রাদারহূডের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থকরা কায়রোর দু'টো তাঁবু ফেলে এলাকায় অবস্থায় নেয়।

    শুরুর দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে 'শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা না-দেওয়ার' প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তথাপি, সাম্প্রতিক সপ্তাগুলোতে রাজপথ থেকে সরে যেতে মুর্সি-সমর্থকদেরকে কয়েক দফা হুমকি দেয় কর্তৃপক্ষ। ব্রাদারহূডের কর্মীরা তাদের অবস্থানে অনড় থেকে বিক্ষোভ-শিবির গুটিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন