• যুক্তরাষ্ট্রকে পুতিনের হুঁশিয়ারিঃ জাতিসঙ্ঘকে এড়িয়ে সিরিয়ায় হামলাকে 'আগ্রাসন' গণ্য করবে রাশিয়া
    russia_putin_warns_obama_over_syria_attack.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি -  ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, বুধবারঃ  জাতিসঙ্ঘকে এড়িয়ে সিরিয়ায় আক্রমণকে রাশিয়া 'আগ্রাসন' বলে গণ্য করবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ার করেছেন প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেণ্ট বারাক ওবামা বলেছেন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারে পৃথিবী চুপ থাকতে পারে না।

    গত সপ্তায় যখন সিরিয়ায় মার্কিন-এ্যাংলো-ফ্র্যাঙ্কো সামরিক হামলা প্রায় অবধারিত মনে হচ্ছিলো তখন, ব্রিটেইনের পার্লামেণ্ট এক ঐতিহাসিক ভৌটে সিরিয়া আক্রমণে দেশটির অংশগ্রহণের প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। তার পর যুক্তরাষ্ট্রও অনুরূপ ভূমিকা নেয় - ওবামা ব্জানান কংগ্রেসের অনুমতি নিয়েই তিনি সিরিয়া আক্রমণ করবেন। তবে তিনি এও জানান যে কংগ্রেস অনুমতি না দিলেও তিনি প্রেসিডেণ্টের ক্ষমতাবলে একাই আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ইতোমধ্যেই তিনি কংগ্রেসে বিরোধী নেতাদের প্রাথমিক সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন।

    সিরিয়ায় আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে সিরিয়া উপকূলের নিকটবর্তী ভূমধ্য সাগরে বিরাট নৌবহর জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়াও কয়েকটি জাহাজের সমন্বয়ে গঠিত তুলনামূলকভাবে ক্ষুদ্রতর একটি নৌবহর পাঠিয়েছে ভূমধ্য সাগরে। গতকাল সিরিয়ার শত্রু ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা করেছে। এ-সকল ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে এখন উল্লেখযোগ্য উত্তেজনা বিরাজ করছে।

    এদিকে আগামীকাল থেকে রাশিয়ার সেইণ্ট পিটার্সবার্গে শুরু হচ্ছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-২০ এর সম্মেলন। ঐতিহাসিকভাবে এটি মূলতঃ অর্থনৈতিক  সম্মেলন হলেও অনুমান করা হচ্ছে এবার সিরিয়া প্রসঙ্গই অন্যান্য সকল আলোচনা ছাপিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে - যদিও আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে প্রসঙ্গটি অনুপস্থিত।

    রাশিয়ার টিভি চ্যানেল-১ ও মার্কিন বার্তা-সংস্থা এসৌসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে পুতিন অন্ততঃ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গে তাঁর দেশের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেন। প্রথমতঃ সিরিয়ায় সরকার না বিদ্রোহীরা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে তা  সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগে সামরিক হামলার বিরুদ্ধে রাশিয়া।

    দ্বিতীয়তঃ যে কোনো সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অবশ্যই জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতিক্রমে হতে হবে। নয়তো সে-অভিযানকে 'আগ্রাসন' বলে গণ্য করবে রাশিয়া। রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার প্রমাণিত হলে যদি জাতিসঙ্ঘ সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের উদ্যোগ নেয় তাতে রাশিয়ার সমর্থনের সম্ভাব্যতার কথাও বলেন পুতিন।

    তৃতীয়তঃ আন্তর্জাতিক আইন ভেঙ্গে, আক্রমণ করা হলে রাশিয়া পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে স্পর্শকাতর এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো আধুনিক অস্ত্র পৃথিবীর কোনো কোনো অঞ্চলে সরবরাহ করার কথা বিবেচনা করবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে পুতিন ইরান কিংবা লেবাননের হেজবুল্লাহকে এস-৩০০ দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

    সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন কেরির কড়া সমালোচনা করেন পুতিন। বিশেষতঃ কংগ্রেস-বিতর্কে 'সিরিয়ার আল-কায়েদা আছে কি-না' এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি 'না' বলাকে নির্দেশ করে পুতিন বলেন, "[কেরি] মিথ্যা বলছেন এবং তিনি নিজেও জানেন যে তিনি মিথ্যা বলছেন"।

    আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের পর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সভা বসবে, ওবামা সিরিয়ায় আক্রমণ করতে পারবেন কিনা সদস্যদের বিতর্ক-সাপেক্ষে সে-সিদ্ধান্ত নেয়া হবে সেখানে। তবে তার আগে কাল থেকে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ সম্মেলনে সিরিয়া প্রসঙ্গে উভয় শিবির ঘনিষ্ঠ আলোচনার সুযোগ পাবে। দেখার বিষয়, সেখানে তারা কোনও ধরণের মতৈক্যে পৌঁছুতে পারেন কি-না।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন