• যুক্তরাষ্ট্রের দাবি 'বঙ্গোপসাগরে গিয়েছে' নিখোঁজ বিমানঃ মালেশিয়ার প্রত্যাখ্যান
    malaysia_flight_mh370_missing.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৪ মার্চ ২০১৪, শুক্রবারঃ গত শনিবারে নিখোঁজ হওয়া মালেশিয়ার যাত্রীবাহী বিমানটি গতিপথ পাল্টে চীনের বদলে বঙ্গোপসাগরের দিকে চলে গিয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে মালেশিয়ার কর্তৃপক্ষ এ-দাবিকে ভ্রান্ত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। খবর জানিয়েছে এসৌসিয়েটেড প্রেস, নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স, রয়টার্স, ব্লূমবার্গ ও স্ট্রেইট টাইম্‌স এশিয়া।

    বঙ্গোপসাগর তথা ভারত মহাসাগরে হারিয়ে যাওয়া বিমানটির সম্ভাব্য ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের কারণ দেখিয়ে একটি যুদ্ধ জাহাজ ও গোয়েন্দা বিমান পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস কিড নামের মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার জাহাজ এখন বঙ্গোপসাগরের নিকোবার দ্বীপপূঞ্জের কাছে অবস্থান করছে। পেণ্টাগনের মুখপাত্র কর্ণেল স্টিফেন ওয়ারেনের উদ্ধৃতি দিয়ে আজ ফরাসী সংবাদ সংস্থা এএফপি নিশ্চিত করেছে এ-সংবাদ।

    যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে মোট ২৩৯ জন নরনারী নিয়ে মালেশিয়া থেকে চীনে যাওয়ার সময় ৮ মার্চ মাঝরাতের পর-পর নিখোঁজ হয়ে যায় মালেশিয়ান এয়্যারলাইন্যসের এমএইচ৩৭০ ফ্লাইটের বোয়িং-৭৭৭ বিমানটি। উড্ডয়নের এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ভূমিস্থ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাথে বিমানটির যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    রহস্যজনকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে পাইলট কোনো বিপদ বা দূর্ঘটনার কোনো রকম ইঙ্গিতও দেননি; এমনকি জরুরী অবস্থায় ব্যবহার্য বিপদসংকেত ব্যবস্থা ব্যবহার করেও কোন বার্তা পাঠানো হয়নি। নিউ স্ট্রেইট টাইম্‌স পরদিন জানায় এয়্যার ট্রাফিক কণ্ট্রোলের অনুরোধে অন্য একটি বিমানের পাইলট হারানো বিমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে সংযোগ প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হলেও অন্যপ্রান্ত নীরব ছিলো।

    নিখোঁজ বিমানটির ২২৭ জন যাত্রীর মধ্যে ১৫২ জন চীনের ও ৩৮ জন মালেশিয়ার নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ক্যানাডা ও ভারত-সহ মোট ১৬ টি দেশের নাগরিক ভ্রমন করছিলেন ফ্লাইটটিতে। বিমান ও যাত্রীদের হদিশ বের করতে মালেশিয়া, চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র-সহ মোট ষোলটি দেশ অংশ নিচ্ছে অনুসন্ধান-ও-উদ্ধার কর্মসূচিতে। আজ শুক্রবার থেকে বাংলাদেশেরও যুক্ত হবার কথা রয়েছে এ-কাজে।

    এ-মূহুর্তে ভূ-রাজনীতির বিচারে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্থানে এ-ঘটনাটি ঘটার কারণে উদ্ধারে অংশ নেওয়া দেশগুলো নিজেদের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য বিশেষতঃ র‍্যাডার-যন্ত্রের তথ্য ভাগাভাগি করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সকল অনুসন্ধানে অংশগ্রহণকারী দেশই এ-কথা উড়িয়ে দিয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে যান্ত্রিক ত্রুটিকে এ-দূর্ঘটনার সম্ভ্যাব্য কারণ হিসেবে অনুমান করা হলেও দুই দিনের মধ্যেই সন্ত্রাসী কাণ্ড বলেও সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেন অনেকে। এর পেছনে রসদ জুগিয়েছে উল্লেখিত ফ্লাইটে দু'জন চোরাই পাসপৌর্টধারী যাত্রীর থাকার সংবাদ। আরও দু'দিন লাগে তাদের উভয়ের পরিচয় নিশ্চিত হতে - যার মাধ্যমে সন্ত্রাসী-কাণ্ড সন্দেহের নিরসন ঘটে।

    কিন্তু গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের অজ্ঞাতনামা একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদ-মাধ্যম ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল ও ওয়াশিংটন পৌস্ট জানায়, এঞ্জিনের পাঠানো তথ্য অনুসারে হারিয়ে যাওয়ার পরও চার প্রায় ঘণ্টা ধরে বিমানটি আকাশে উড়েছে। যদিও মালেশিয়া সে-প্রতিবেদগুলোকে 'সঠিক নয়' বলে বর্ণনা করেছে, কিন্তু ততোক্ষণ এ-ঘটনার সাথে 'সন্ত্রাসী' সংযোগ' থাকার সন্দেহ জোরদার হয়ে ফিরে এসেছে।

    এ-রকম পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউজ জানায় নিখোঁজ বিমান ও যাত্রী অনুসন্ধানে চলমান কার্যক্রমের আওতা বাড়িয়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হবে। এর পর-পরই খবর প্রকাশিত হয় যে যুক্তরাষ্ট্র তার ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধ-জাহাজ বঙ্গোপসাগরে প্রেরণ করছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন