• রাজকীয় নৌ-প্রধানের সতর্কতাঃ লিবিয়াতে দীর্ঘায়িত অভিযান চালানো সম্ভব নয়
    First-Sea-Lord-Sir-Mark-S-007.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১৪ জুন ২০১১, মঙ্গলবারঃ  রয়্যাল নেভীর ফার্স্ট সী-লর্ড এ্যাডমিরাল স্যার মার্ক স্ট্যানহৌপ সোমবার সতর্কতা জানিয়ে বলেন, সরকার তার করণীয় বিষয়ে অগ্রাধিকার নিরূপণের কঠিন সিদ্ধান্তবলী গ্রহণ করতে না পারলে এ-গ্রীষ্মের পর লিবিয়াকে ঘিরে নৌবহরের বর্তমান মাত্রার অভিযান চালানো সম্ভব হবে না।

    এ্যাডমিরাল বলেন, লিবিয়ার ব্যাপারে তার নৌবাহিনীর প্রতিশ্রুতি হচ্ছে ৬ মাসের, কিন্তু তারপর সরকার কী চায়, সে-কঠিন সিদ্ধান্ত সরকারকে নিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন যে, যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ আর্ক রয়্যাল এবং এর হ্যারিয়ার জাম্প জেটগুলোকে যদি গত বছর কর্ম-প্রত্যাহৃত না করা হতো, তাহলে আজ ভূমধ্যসাগরে কাজে লাগানো যেতো।

    বর্তমান যে-ভাবে ইটালীর গিওয়িয়া ডেল চোলি বিমান ঘাঁটি থেকে লিবিয়ার উপর ব্যয়-বহুল অভিযান চালানো হচ্ছে, আর্ক রয়্যাল ভূমধ্যসাগরে থাকলে আক্রমণ আরও স্বল্প-ব্যয়ের ও কার্যকর হতে পারতো। তিনি বলেন, আর্ক রয়্যাল ও তার আকাশযানগুলো হারানো নৌবাহিনীর মনোবলকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

    উল্লেখ্য, মাত্র ক’দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেইটস ব্রাসেলসে ন্যাটোর অনিশ্চিত ভবিষ্যত নিয়ে তার বক্তৃতায় কতিপয় সদস্য দেশের গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে যে পরিহাস করেছেন, এ্যাডমিরাল স্যার স্ট্যানহৌপের মন্তব্যে তারই হতাশ প্রতিফলন বেজে উঠেছে। এ্যাডমিরাল স্যার স্ট্যানহৌপ স্বীকার করেন, রাজকীয় নৌবাহিনীকে আমেরিকার কাছ থেকে আরও টোমাহক ক্রুইজ মিসাইল কিনতে হবে।

    এ্যাডমিরাল হাউসে এক সংবাদ ব্রীফিংয়ে স্ট্যানহৌপ বলেন, ‘লিবিয়াতে এখন যেভাবে চলছে, তাতে আমরা কতো দূর যেতে পারবো? বর্তমানে ন্যাটোর ৯০ দিনের বর্ধিত সময় সীমা অনুসারে আমরা নিশ্চিত সাবালীল। (কিন্তু) এর অতিরিক্ত যেতে চাইলে অগ্রাধিকার নিরূপণের জন্য কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণার্থে সরকারে প্রতি আমাদের অনুরোধ জানাতে হতে পারে’।

    তিনি বলেন, সমাধানের ‘বিভিন্ন পথ আছে। শুধুমাত্র বর্তমান প্রতিশ্রুতির পরিত্যাগ করলেই সমাধান তা নয়, আমাদেরকে পুনঃভারসাম্যতা আনতে হবে’। তবে তিনি অস্বীকার করেন যে, এর সাথে গত বছরের স্ট্র্যাটেজিক ডিফেন্স এ্যান্ড সিকিউরিটী (এসডিএসআর) ক্ষেত্রে ব্যয়-হ্রাস পুনর্বিবেচনার কোনো বিষয় সংশ্লিষ্ট নয়।

    দৈনিক গার্ডিয়ানের মতে, এ্যাডমিরাল স্যার স্ট্যানহৌপ এ-বিষয়টি স্পষ্ট করেন যে, লিবিয়াতে আপেক্ষিক ভাবে ছোটো-খাটো অভিযান চালাবার মতো যথেষ্ট সংখ্যক জাহাজ তার কাছে নেই। 

    এ্যাডমিরাল বলেন, ‘আমরা যদি ছ’মাসের অধিক এটি করি, আমাদের নৌশক্তির অগ্রাধিকার পুণঃনিরূপণ করতে হবে এবং বর্তমানে তা-ই বিবেচনা করা হচ্ছে'। তিনি জানান, 'স্বদেশের জলসীমা থেকেও অভিযান হতে পারে'। কিন্তু আসলেই কী হতে যাচ্ছে, সেসম্পর্কে স্ট্যানহৌপ বলেন, 'কী সিদ্ধান্ত হবে তা আমি আগে থেকে বলতে পারবো না’।

    উল্লেখ্য, বর্তমানে লিবায়ার উপকূলে ব্রিটিশ নৌশক্তির মধ্য রয়েছে এইচএমএস লিভারপুল নামে একটি ডেস্ট্রয়ার, এইচএমএস ব্যাঙ্গর নামের একটি ক্লিয়ারেন্স ভেসেল, ট্র্যাফালগার ক্লাসের একটি সাবমেরিন এবং এইচএমএস ঔশেন নামের একটি হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন