সংবাদ পরিক্রমা
সংবাদ প্রতিবেদন
- রাজশাহীতে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা অস্পৃশ্যতার শিকার
রাজশাহী জেলার তানোর উপজেলায় আব্দুল করিম ডিগ্রী কলেজের ছাত্রাবাসে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা অস্পৃশ্যতার শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও তানোরের হোটেলগুলোতে আদিবাসীদেরকে অন্যদের চেয়ে আলাদা চায়ের কাপ ও প্লেট খাবার ব্যবহার করতে হচ্ছে। ঘটনার প্রতিবাদে ১২ জুন, শনিবার, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বেসরকারী সংস্থা ব্রতী, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম তানোরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারক-লিপি প্রদান করেছে।
খবরে প্রকাশ, তানোর আব্দুল করিম ডিগ্রী কলেজের ছাত্রাবাসে ১৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থীকে আলাদা থালা, গ্লাসের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয় ছাত্রাবাসের অ-আদিবাসী বাঙ্গালি শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনার তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ জানিয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ত্যাগ করে। অস্পৃশ্যতার শিকার কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের আদিবাসী শিক্ষার্থী সুশীল হেমব্রম, ডেভিড হাঁসদা, কামিয়েল মার্ডী জানান, আগে কলেজের ছাত্রাবাসে ২-৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থী থাকতো। এই বছর ১৩ জন আদিবাসী শিক্ষার্থী কলেজের ছাত্রাবাস ব্যবহার করতে শুরু করে। শুরুতে কিছুদিন কোন সমস্যা না হলেও, গত ৪ জুন হঠ্যাৎ করেই ছাত্রাবাসের বাঙ্গালী শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন সেখানে বসবাসরত আদিবাসী শিক্ষার্থীদের খাবার জন্য আলাদা থালা
প্লেটের ব্যবস্থা করতে বলে। হোসেন আরো রটাতে থাকে যে, আদিবাসীদের শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যান্য বাঙ্গালী শিক্ষার্থীদের একই থালা গ্লাসে খেলে জাত চলে যাবে বলে অন্য ব্যবস্থা করতে বলে।ঘটনার পরপরই কয়েকজন আদিবাসী এই ঘটনার প্রতিবাদ করে কলেজের অধ্যক্ষের সাথে দেখা করেন। কিন্তু অধ্যক্ষের সাথে আলোচনায় বসেও ঘটনার কোন সুষ্ঠু সমাধান হয়নি। কলেজের অধ্যক্ষ এটিকে ছাত্রাবাসের আলাদা ব্যাপার বলে এড়িয়ে যান। এরপর আদিবাসী নেতারা তানোর বাজারের রুচিতা হোটেলে খেতে গেলে সেখানকার নিয়োজিত কর্মচারীরা তাদের খাবার খেতে দেয়নি। আদিবাসীরা অভিযোগ করেছেন হোটেলগুলোতেও আদিবাসীদের সবার জন্য ব্যবহৃত থালা-গ্লাসে খেতে দেওয়া হয়না। হোটেলগুলোতে আদিবাসী ও বাঙ্গালীদের জন্য আলাদা আলাদা থালা গ্লাসের ব্যবস্থা আছে।
শনিবার প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের প্রতি এই ধরনের আচরণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক উদাসীনতার ফলাফল যা জাতিসংঘের আদিবাসী অধিকার সনদ ও বাংলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী। বক্তারা উল্লেখ করেন, যে সময়ে আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে পৃথিবী জুড়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে ঠিক সেই রকম সময়ে এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের অধিকার প্রদানের কথা বলে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলেও তাদের আমলে আদিবাসীদের প্রতি এহেন বৈষম্য কাম্য নয় বলে উল্লেখ করেন বক্তারা।
সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে তানোর আব্দুল করিম ডিগ্রী কলেজের ছাত্রাবাসের ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা। ছাত্রাবাস ত্যাগ করা আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সম্মানের সাথে ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান। এছাড়াও আদিবাসী শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসীদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ ও কেউ বৈষম্যমূলক আচরন কেউ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানানো হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় সভাপতি হরেন্দ্রনাথ সিং, সাধারণ সম্পাদক মানিক সরেন, বেসরকারী সংস্থা ব্রতী সেতুবন্ধন প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার সোহেল রানা, ফটো সাংবাদিক সেলিম জাহাঙ্গীর, আদিবাসী নেতা দূরবীন কিস্কু, রাজকুমার শাও প্রমুখ।
বার্তা প্রেরক মানিক সরেন
১৪/০৬/১০
পাঠকের প্রতিক্রিয়া
বাংলাদেশের আদিবাসীদের জন্য প্রথম বাংলা ব্লগ এ এই সম্পর্কিত লেখা রয়েছে। ভিজিট করতে পারেন
http://w4study.com/?p=114
Bloody hell! where do we live? is it India? are those students children of dalits? who is this mobarak hossain? a shibir cadre? a religious freak? where did he get the power to decide who get what treatment in the student dorm?
I strongly condemn this barbaric communal attitude and demand that the university and local administration act immediately to stop this constitution violation.
- Faisol Ikram