• রাশিয়া সফরে শেখ হাসিনাঃ অস্ত্র-ক্রয় ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ঋণ-প্রাপ্তি
    russia_hasina_visit.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ জানুয়ারী ২০১৩, মঙ্গলবারঃ  বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এ-মুহূর্তে রাশিয়ায় অবস্থান করছেন। আজ তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে সাক্ষাত করেছেন।রাশিয়াকে বাংলাদেশের 'প্রকৃত বন্ধু' আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'এ-বন্ধুত্বের প্রকাশ ঘটেছিলো ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়'। যুদ্ধোত্তর-কালে চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন পরিষ্কার করতে গিয়ে ৩জন সোভিয়েত নৌ-সেনা নিহত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি ইথার-তাসকে বলেন, 'আমাদের দায়িত্ব এ-স্মৃতি জাগরুক রাখা'।

    শেখ হাসিনার এ-সফরকালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র রফতানীকারী দেশটি তার সামরিক সরঞ্জাম ও সেবা ক্রয়ের জন্য বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলারের ঋণ দেয়ার চুক্তি করেছে। এছাড়াও দেশ দু'টির মধ্যে আরও একাধিক সামরিক ও বেসামরিক চুক্তি সাক্ষরিত হওয়ার কথাও জানিয়েছে রয়টার্স্‌।

    অস্ত্র বিক্রয়ের কথা উল্লেখ করে আজ পুতিন বলেছেন, 'আমাদের দু'দেশের লক্ষ্য (পারস্পরিক) সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো'। অবশ্য পুতিন বা হাসিনা কেউই স্পষ্ট করে বলেননি কী অস্ত্র বেচা-কেনা হবে, উল্লিখিত ঋণের টাকায়।

    অস্ত্র-ঋণ ছাড়াও আরও যেসকল বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রুশ সহযোগিতা ও ঋণ। পুতিন বলেন, 'আমরা (বাংলাদেশকে) কেবল সর্বাধুনিক প্রযুক্তিই দেব না, বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে ঋণও দেব'। সাক্ষাত শেষে ৫০ কোটি ডলার ঋণের একটি চুক্তিও সাক্ষরিত হয়েছে।

    রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক সংস্থা রোশএ্যাতোমের প্রধান সার্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেছেন, 'রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের প্রকৌশল ও পরিবেশগত সমীক্ষা এ-বছরেই সম্পন্ন করা হবে'। 

    ১৯৬১ সালে প্রথম তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নেয়া হয় এবং ১৯৬৩ সালে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার অন্তর্গত রূপপুরকে প্রকল্পের স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এ-প্রকল্প আর এগোয়নি। দীর্ঘদিন চাপা থাকার পর ২০০১ সালে বাংলাদেশের সরকার এ্যাটোমিক এনার্জী একশন প্ল্যান নামে এ-প্রকল্প আবার পুনরুত্থিত করে, যা ২০০৭ সালে সামরিক-তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়। 

    ২০১১ সালে বর্তমান সরকার রাশিয়ার সাথে এ-সম্পর্কিত একটি চুক্তি সাক্ষর করে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের অধিনে রাশিয়া ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা-সম্পন্ন দু'টি ইউনিট অর্থাৎ মোট ২,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করবে, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলার বা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। 

    যদিও বাংলাদেশে উৎপাদিত বিদ্যুত পর্যাপ্ত নয়, তথাপি ঘনবসতিপূর্ণ দরিদ্র দেশটিতে পারমাণবিক বিদ্যুত কতোটা উপযোগী তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন