• রাশিয়াতেই থাকতে চান স্লৌডেনঃ মানবাধিকার কর্মীদের সাথে সাক্ষাত মস্কৌ বিমানবন্দরে
    russia_snowden_airport_meeting.png

    ইউকেবেঙ্গলি - ১২ জুলাই ২০১৩, শুক্রবারঃ  যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ'র প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নৌডেন মস্কৌ বিমানবন্দরে আজ সাক্ষাত করেছেন বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে। তাঁকে রাজনৈতিক আশ্রয় না দিতে বিভিন্ন দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ প্রয়োগ করার নিন্দা করে তিনি রাশিয়াতেই থাকার ইচ্ছা ব্যাক্ত করেছেন। গত প্রায় ৩ সপ্তার মধ্যে এ-ই প্রথম স্নৌডেনকে জনসমক্ষে দেখা গেলো।

    ই-মেইলের মাধ্যমে এ্যামনেস্টি ইণ্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইট্‌স ওয়াচ ইত্যাদি সংস্থার প্রতিনিধিদেরকে মস্কৌর শেরেমেতিয়োভ বিমানবন্দরে আসতে আহবান করেন স্নৌডেন। ই-মেইলটি হিউম্যান রাইটস ওয়াচের রাশিয়া প্রতিনিধি তানিয়া লোকশিনা তাঁর ফেইসবুকে প্রকাশ করেন। তাতে স্নৌডেন বিভিন্ন দেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের 'বেআইনী' চাপে কথা উল্লেখ করেছেন এবং মানবাধিকার কর্মীদের সাথে 'পরবর্তী পদক্ষেপ' নিয়ে আলাপ করতে চেয়েছেন। আজ মস্কৌ সময় বিকেল ৫টায় সাক্ষাতকারটি অনুষ্ঠিত হয়। স্নৌডেন এতে একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান।

    নিজ দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে 'প্রাণ রক্ষার্থে' স্নৌডেন অন্ততঃ ২৭টি দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। এর মধ্যে রাশিয়া ও আরও মাত্র ৩টি দেশ, ভেনেজুয়েলা, নিকারাগুয়া ও বলিভিয়া - প্রতিটিই দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত - তাঁকে আশ্রয় দেবার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। স্নৌডেন অভিযোগ করেছেন, তাঁকে আশ্রয় দেয়া ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র বেআইনীভাবে 'চাপ-প্রয়োগ অভিযান' পরিচালনা করছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এ্যাজেন্সি (এনএসএ) স্বদেশ ও বিদেশের নাগরিকদের ডিজিট্যাল জীবনের প্রায় সকল তথ্যের উপর গোপনে নজরদারি করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিফৌন কল, ফেইসবুক ও ট্যূইটার-সহ সামাজিক ওয়েবসাইটের কর্মকাণ্ড, ইমেইল, ইণ্টারনেটে টেক্সট ও ভিডিও চ্যাট, ভ্রমণ-করা ওয়েবসাইট ও অনুসন্ধানের তালিকা, ইণ্টারনেটে বাজার করার তথ্য ইত্যাদি। এনএসএতে কাজ করার সুবাদে স্নৌডেন এ-সকল তথ্য জানতে পারেন। সরকারের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ও অনৈতিক জ্ঞান করে তিনি সিদ্ধান্ত নেন নিজ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হলেও তা প্রকাশ করার।

    এরই ধারাবাহিকতায় ব্রিটেইনের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় জুনের ৫ তারিখ থেকে অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হতে থাকে এনএসএ'র কর্মকাণ্ডের খবর। তখনই জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘনিষ্টভাবে এ-কাজে জড়িত। উভয় রাষ্ট্রই বিদেশী দূত থেকে শুরু রাষ্টপ্রধান পর্যন্ত, প্রায় সকলেরই উপরে গোয়েন্দাগিরি করে।  আরও জানা যায়, যুক্তরাজ্য ইণ্টারনেটের অবকাঠামো সাবমেরিন কেবলেও আড়ি পাতার যন্ত্র বসিয়ে সকল ধরণের ডিজিট্যাল তথ্যের প্রবাহতে নজরদারি করছে। 

    ৯ই জুন হংকং থেকে স্নৌডেন দ্য গার্ডয়ানের মাধ্যমেই নিজ পরিচয় প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্র স্নৌডেনকে আটক করতে তৎপর হলে ২৩শে জুন তিনি মস্কৌর উদ্দেশ্যে হংকং ত্যাগ করেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই তাঁর পাসপৌর্ট বাতিল করায় রাশিয়ার ভিসা নিয়ে সে-দেশে প্রবেশ করতে পারেননি তিনি। তখন থেকেই বিমানবন্দরের ট্র্যানজিট এলাকায় বসবাস করছেন ৩১ বছর বয়েসী এ-আমেরিকান।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন