• রাশিয়ায় শুরু হলো জি-২০ সম্মেলনঃ সিরিয়ায় মার্কিন হামলার বিরোধিতা চীন ও ইইউ'র
    russia_g20_summit_starts.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ আজ রাশিয়ার সেইণ্ট পিটার্সবার্গে শুরু হয়েছে শিল্পোন্নত ২০টি দেশের জি-২০ সম্মেলন। এতে প্রধান আলোচ্য বিষয়ে হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা থাকলেও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ ও এতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকাঙ্খাই বেশি গুরুতে পেয়েছে।

    রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিশ্ব-নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেণ্ট বারাক ওবামা পৌঁছুলে উভয়ে করমর্দন করেন, তবে আলিঙ্গন করেননি। সংবাদ-মাধ্যমগুলো এ-ব্যাপারটিকে সিরিয়া প্রসঙ্গে উভয়ের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে হতে পারে বলে অনুমান করছে।

    আজ রাশিয়ার সাথে চীনও যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া-হামলা পরিকল্পনার বিরুদ্ধে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, 'সিরিয়া সঙ্কটের কোনও সামরিক সমাধান সম্ভব নয়'। অননুমিতভাবে ক্যাথলিক ক্রিশ্চানসম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ নেতা পোপ ফ্রান্সিসও বিশ্ব-নেতাদেরকে 'সামরিক পথ' পরিহারের আহবান জানিয়েছেন।

    তবে জি-২০ সম্মেলনে বাক্য-লড়াই চললেও পর্দার আড়ালে চলছে কূটনৈতিক দরকষাকষি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা চেষ্টা করছেন সিরিয়া প্রসঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌছুঁতে।

    গত সপ্তায় ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোনের সিরিয়া-আক্রমণ প্রস্তাব হাউজ অফ কমন্সের ভৌটে নাকচ হয়ে যাওয়ায় আজ জি-২০ সম্মেলনে তাঁকে সিরিয়া প্রসঙ্গে 'খানিকটা অপ্রাসঙ্গিক; বলে মন্তব্য করেছেন অনেক পর্যবেক্ষক। তবে ব্রিটেইন আজ সেখানে নতুন 'প্রমাণ' তুলে ধরেছে যাতে 'নিশ্চিত' হওয়া যাবে যে ২১শে অগাস্ট দামেস্কে সরকারী সেনারাই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছিলো। তবে এ-দাবীর পরও দৃশ্যতঃ সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত এখনও অটুট রয়েছে।

    গতকাল এক সাক্ষাতকারে প্রেসিডেণ্ট পুতিন বলেছিলেন, জাতিসঙ্ঘকে এড়িয়ে সিরিয়ার হামলা হলে তাকে 'আগ্রাসন' হিসেবে দেখা হবে এবং রাশিয়াও পাল্টা ব্যবস্থা নিবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরিকে তিনি নির্দিষ্ট উদাহরণ টেনে মিথ্যাবাদী বলে আখ্যায়িত করেন।

    আগামী সপ্তায় মার্কিন কংগ্রেসে সিরিয়ার আক্রমণ-প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেণ্ট ওমাবা জোর তদবির চালাচ্ছেন ডেমৌক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সমর্থন পেতে। ইতোমধ্যে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত হয়েছে, যাতে প্রেসিডেণ্টকে ৬০ দিন সিরিয়ায় হামলা চালানোর অনুমতি দেয়া হবে এবং শর্ত সাপেক্ষে তা আরও ৩০ দিনের জন্য বাড়তে পারবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন