• রাসায়নিক অস্ত্র ত্যাগের রুশ প্রস্তাবে সম্মত সিরিয়াঃ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আক্রমণ-ভৌট স্থগিত
    syria_russia_moallem_lavrov.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, মঙ্গলবারঃ  রাসায়নিক অস্ত্র 'আন্তর্জাতিক' তত্ত্বাবধায়কের হাতে তুলে দেওয়ার রুশ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে সিরিয়া। একে স্বাগত জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেণ্ট বারাক ওবামা কংগ্রেসের 'সিরিয়া-আক্রমণ' প্রস্তাবের ভৌট স্থগিত করেছেন। বিবিসি এ-পরিস্থিতিকে তাঁর পক্ষে স্বস্তিকর বলে বর্ণনা করে বলেছে, 'ওবামা থামার কারণ খুঁজে পেয়েছেন'।

    গতকাল রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সার্গেই ল্যাভ্রভ ও সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী ওয়ালিদ মোয়াল্লেমের মধ্য অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ-প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয় বলে জানায় সংবাদ-সংস্থা ইণ্টারফ্যাক্স। আজ মোয়াল্লেম সাংবাদিকদের জানান, সিরিয়ার সরকার রুশ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তবে কীভাবে রাসায়নিক অস্ত্র সরানো হবে, কোথায় নেয়া হবে বা কে-ই বা তা করবে তা সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

    গত ২১ অগাস্ট সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে রাসায়নিক অস্ত্রের আক্রমণে কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার কথা জানায় বিদ্রোহীদের পক্ষে তাদের সাথে  ঘনিষ্ট সম্পর্ক রক্ষাকারী সিরিয়ান অবজ়ার্ভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। প্রায় সাথে-সাথে সিরিয়ার প্রেসিডেণ্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা এ-ঘটনার জন্য সরকারকে দায়ী করে। সিরিয়ার সেনাবাহিনী এ-অভিযোগ খারিজ করে বিদ্রোহীরা 'পশ্চিমা আক্রমণের প্ররোচনা দেয়ার লক্ষ্যে' এ-ঘটনা ঘটিয়ে থাককে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে।

    এক পর্যায়ে সিরিয়ায় পশ্চিমা আক্রমণ প্রায় আসন্ন মনে হচ্ছিলো, তবে ব্রিটিশ পার্লামেণ্টে আক্রমণ-প্রস্তাব 'না-ভৌটে' নাকচ হয়ে গেলে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। এ-সময় সিরিয়ার মিত্র রাশিয়াও আক্রমণ না করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের উপর চাপ বাড়াতে শুরু করলে এক পর্যায়ে প্রেসিডেণ্ট ওবামা জানান তিনি কংগ্রেসের অনুমতি চেয়ে ভোটের আয়োজন করবেন।

    তারপর গত সপ্তায় রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনে চীন, ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি দেশও সিরিয়ায় আক্রমণের বিরোধিতা করে রাশিয়ার পাশে দাঁড়ায়। হামলার ব্যাপারে দৃশ্যতঃ সবচেয়ে বেশি উদগ্রীব ফ্রান্স এ-পরিস্থিতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র পাশে না থাকলে ফ্রান্স একা সিরিয়ার হামলা করবে না।

    ব্রিটেইনের মতো ফ্রান্সে যেমন যুক্তরাষ্ট্রেও তেমনি একাধিক বেসরকারী জরীপে দেখা গিয়েছে বেশিরভাগ নাগরিক সিরিয়ায় হামলার বিপক্ষে। তাই কংগ্রেসে যে ওবামার প্রস্তাব পাশ হয়েই যাবে এমন নিশ্চয়তা ছিলো না। সিরিয়ায় হামলা ও কংগ্রেসে ভোট উভয়ই ওবামার জন্য বড়ো চ্যালেইঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছিলো।

    রাসায়নিক অস্ত্র ত্যাগের রুশ প্রস্তাব ও তাতে সিরিয়ার সম্মতি প্রেসিডেণ্ট ওবামাকে এ-পরিস্থিতি থেকে দৃশ্যতঃ রেহাই দিয়েছে। সিএনএনের মতে, গতকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিলো, 'যুক্তরাষ্ট্রের কি [সিরিয়ায়] আক্রমণ করা উচিত?', আজ তা বদলে হয়েছে, 'এ-ঝামেলা থেকে বেরুবার কোন কূটনৈতিক পথ আছে কি?'।

    আজ জাতিসঙ্ঘ ও চীনও সমর্থন জানিয়েছে রুশ উদ্যোগকে। সিরিয়ার ঘনিষ্ট আঞ্চলিক মিত্র ইরানও বলেছে এতে তাদের সায় আছে। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে প্রভাবশালী সদস্য জার্মানী বলেছে তারাও এ-প্রস্তাবে 'আগ্রহী'। রুশ প্রস্তাবের বিরোধীতা না করে ফ্রান্স বলেছে, 'জাতিসঙ্ঘে এ-বিষয়ে প্রস্তাব আনতে হবে'।

    তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনে নিজেদের অবস্থান বদলালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স উভয়েই বলেছে, দ্রুত সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র হস্তান্তর করতে হবে। ফরাসী পররাষ্ট্র মন্ত্রী লুহোঁ ফ্যাবিওস বলেছেন, "আমরা দ্রুত ফল দেখতে চাই"। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরিও রুশ প্রস্তাবের ফল পেতে সময় সীমিত করে দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, "প্রেসিডেণ্ট [ওবামা] ঠিক করবেন জাতিসঙ্ঘে দরকষাকষি শেষ হতে কতোদিন সময় দিবেন"। গতকাল তিনি রাসায়নিক অস্ত্র হস্তান্তর করার জন্য সিরিয়াকে এক সপ্তা সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। দৃশ্যতঃ আজ তিনি তাঁর সে-অবস্থান খানিকটা থেকে সরে এসে সময় নির্দিষ্ট করা থেকে বিরত হয়েছেন।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন