• লণ্ডনে হায়দায় আকবর খান রনোঃ 'বাংলাদেশের সরকার স্বৈরাচারী'
    uk_cpb_rono_london_meeting.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৯ এপ্রিল ২০১৪, মঙ্গলবারঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হায়দার আকবর খান রনো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারকে 'স্বৈরাচারী' বলে আখ্যায়িত করেছেন। গতকাল লণ্ডনে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এক প্রশ্নের জবাবে এ-কথা বলেন।

    বাংলাদেশের প্রবীন কমিউনিস্ট রাজনীতিক রনোর লণ্ডন সফর উপলক্ষ্যে সংবাদ-মাধ্যম ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে তাঁর মত-বিনিময়ের উদ্দেশ্যে উল্লিখিত সভার আয়োজন করেছিলো তাঁর পার্টি সিপিবির যুক্তরাজ্য শাখা। পূর্ব লণ্ডনের মন্টিফিওরি সেণ্টারে আয়োজিত এ-সভার বিষয় ছিলো 'বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি'।

    সিবিপি যুক্তরাজ্যের নেতা সৈয়দ এনামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মঞ্চে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবীন সঙ্গীতশিল্পী মাহমুদুর রহমান বেণু। লণ্ডন-ভিত্তিক বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এবং বাঙালী কমিউনিটিতে পরিচিত বিশেষতঃ বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত অনেকেই যোগ দেন এ-সভায়।

    বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি 'সঙ্কট' আখ্যা দিয়ে রনো এর প্রধান দু'টো কারণ চিহ্নিত করেন। এগুলো হচ্ছে যথাক্রমে, সাম্প্রতিক সময়ে 'মৌলবাদীদের ব্যাপক উত্থান' ও 'গণতন্ত্র হুমকীর মুখে' পতিত হওয়া।

    রনো মৌলবাদীদের উত্থানের প্রসঙ্গে ২০১২ সালে ও পরবর্তীতে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী ও পুলিসের মধ্যকার সহিংস ঘটনাগুলোর কথা উল্লেখ করেন। এরপর তিনি জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "এটি আসলে কোনো নির্বাচনই হয়নি।" তাঁর মতে, আদালত কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কটের শুরু। "যদিও আদালত বলেছিলো আরও দুই বার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচন হতে পারে কিন্তু সেটি না-মানার মধ্য দিয়ে সঙ্কট ঘনিভূত হয়েছে" - যোগ করেন রনো।

    ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে যে পরিবর্তন আনা হয়েছে, তারও সমালোচনা করেন রনো। তিনি বলেন, "অন্ততঃ ৫০টি ধারা-উপধারা বলবৎ হয়েছে যা অপরিবর্তনীয় এবং এগুলোর পরিবর্তনের আকাঙ্খা প্রকাশের কারণে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি হতে পারে"। তিনি দাবি করেন, "এ-ধরণের ব্যবস্থা কেবল একটি ফ্যাসিস্ট সংবিধানেই থাকতে পারে।" কথিত 'ফ্যাসিস্ট' ধারা-যুক্ত সংবিধানের আওতায় রাষ্ট্র পরিচালনাকারী সরকার কি তবে ফ্যাসিস্ট সরকার? - এমন প্রশ্নের জবাবে রনো বলেন, "না, ফ্যাসিস্ট নয়, তবে অবশ্যই স্বৈরাচারী"।

    রনো জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল সিপিবি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের (খালেকুজ্জামান) অংশ না নেওয়া কথা উল্লেখ করে বলেন, তাঁরা চেষ্টা করছেন একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে। এ-লক্ষ্যে ক্ষুদ্র-ক্ষুদ্র আরও কয়েকটি বাম দলের সাথে এবং ড. কামাল হোসেনের গণ ফোরাম  ও মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যের সাথে তাঁদের আলোচনার উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। অবশ্য তিনি এও জানান যে, সে-সব আলোচনায় এখনও উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।

    আগামীকাল ৩০ এপ্রিল রনোর ব্রিটেইন ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

    হালনাগাদঃ ৪ মে ২০১৪ - বানান সংশোধন করে 'কালাম'-এর স্থলে 'কামাল' করা হয়েছে। নাম-অপ্রকাশিত পাঠককে ধন্যবাদ বানান-প্রমাদটি ইউকেবেঙ্গলির গোচরে আনার জন্য।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন