• লন্ডনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সারা ব্রিটেইনেঃ গুলির হুকুম ক্যামেরোনের
    London_Riot_Hackney.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ৯ অগাস্ট ২০১১, মঙ্গলবারঃ আরও বিস্তার লাভ করেছে লন্ডন-রায়ট। গতকাল সোমবার রাতের পুলিস-বিক্ষোভকারী সংঘর্ষ লন্ডন ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বার্মিংহাম, নটিংহ্যাম, লিভারপুল, ব্রিস্টল, লীডস-সহ নানা শহরে। এ-পর্যন্ত ৬০০'র উপর বিক্ষোভকারী গ্রেফতারিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রায়টারদের প্রতি পুলিসের গুলি করার হুকুম দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন।

    গতরাত পর্যন্ত পুলিসের সাথে জনতার সংঘর্ষ ও লুটতরাজ হয়েছে লন্ডনের উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম - সকল প্রান্তে। নগরীর টোটেনহ্যাম, এনফীল্ড, পন্ডার্স এন্ড, এডমান্টন, চিংফৌর্ড, ব্রিক্সটন, অক্সফৌর্ড সার্কাস, ওয়ালথামস্টৌ, ওয়ালথাম ফরেস্ট, সাউথ ঊডফৌর্ড, রমফৌর্ড, ইলফৌর্ড, ইস্টহ্যাম, হ্যাকনী, বেথনাল গ্রীন, রৌমান রৌড, বার্কিং, ক্যানিং টাউন, ইজলিংটন, ঊলউইচ, আইল অব ডগ, ডেপ্ট ফৌর্ড, সারে কী, ব্ল্যাকহীথ, লী, ল্যুইশ্যাম, ব্রৌমলী, পেকহ্যাম, ইস্ট ডালউইচ, ক্রয়ডন, স্ট্রেথাম, ব্যালহ্যাম, টুটিং, কলিয়ার্স উড, ক্ল্যাপহ্যাম, ফুলহ্যাম ব্রডওয়ে, নটিংহিল, হার্লসডেন, ইলিং ব্রডওয়ে, ওয়েস্ট ইলিং, ক্যামডেন টাউন ইত্যাদি এলাকাতে বিক্ষোভ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

    এদিকে ব্রিটেইনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্মিংহ্যামেও তীব্র আকারে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘর্ষ। গতকাল রাতের পর আজ বিকেল থেকে থেমে থেমে চলছে পুলিসের সাথে বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও লুন্ঠন। হ্যান্ডস্‌ওয়ার্থের হলিহেড রৌডের পুলিস স্টেশানে অগ্নি-সংযোগ করা হয়েছে।

    সেলিব্রেটি শেফ জেমি অলিভার ট্যুইটারের মাধ্যমে জানিয়েছেন তার বার্মিংহ্যামের রেস্টুরেন্টে হামলা হয়েছে। বার্মিংহ্যাম থেকে পুলিস অন্তত ১০০ জনকে গ্রেফতার করেছে।

    লিভারপুলে কয়কশো বিক্ষোভকারী পুলিসের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। নটিংহ্যামের পুলিস জানিয়েছে, সেইন্ট এ্যান এলাকার পুলিস স্টেশনে হামলা হয়েছে। এছাড়াও কেন্ট, লীডস ও ব্রিস্টল থেকেও দাঙ্গা ও লুটতরাজের খবর এসেছে।

    সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যম ফেইসবুকের মাধ্যমে দাঙ্গায় উৎসাহ-দানের অভিযোগে স্কটল্যান্ডের স্ট্রেথক্লাইডে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে পুলিস গ্রেফতার করেছে। পুলিস জানিয়েছে তারা ফেইসবুক ও ট্যুইটার-সহ অন্যান্য সামাজিক-যোগাযোগ মাধ্যম 'মনিটর' করছে। ট্যুইটার ব্যবহারকারীদেরকে পুলিস এ-মর্মে সতর্কও করেছে যে, ট্যুইটারের মাধ্যমে যারা দাঙ্গা ছড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদেরকে গ্রেফতার করা হতে পারে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন ছুটি শেষ না করেই ইতালি থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। আরও যারা ছুটি থেকে ফিরে এসেছেন, তাদের মধ্যে আছেন হৌম সেক্রেট্যারী থেরেসা মে ও লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন।

    শহর পুনর্দখলে নিতে গতকালের ছয় হাজারে বিপরীতে আজ রাতে লন্ডনে মোট ষোল হাজার পুলিস মোতায়েন থাকবে। আজ রাতে পুলিস রবার-বুলেট ব্যবহার করে গুলি ছুঁড়তে পারে বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। নগরীতে ইতোমধ্যেই সশস্ত্র রায়ট-পুলিস-বাহন দ্রুতগতিতে টহল দিতে দেখা গেছে। সকল পুলিস-সদস্যের ছুটি বাতিল করে কর্মস্থলে জরুরী ভিত্তিতে যোগ দেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। লন্ডন শহরের নিরাপত্তায় পার্শ্ববর্তী থেমস ভ্যালীর পুলিস বিভাগও মেট্রৌপলিটান পুলিসের সাথে যোগ দিয়েছে।

    গুগোল ম্যাপে দেখুন লন্ডন-দাঙ্গাঃ

    আপনি কি সংশ্লিষ্ট কোন ঘটনা দেখেছেন? আমাদের কাছে ছবি পাঠাতে চান? আমাদের ঠিকানা info@ukbengali.com

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

এরা আসলে কি চায়? এদের আসল পরিচয় কি?
এরা কি চায় যে, লন্ডনে অন্যান্য দেশের মত দাঙ্গা শুরু হোক!
দ্রুত এদের প্রতিহত করুন।

কি চায় এরা?

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন