London Sunday 1 August 2010

লন্ডনে বাঙালী কাউন্সিলারকে পোশাকের জন্য হত্যার হুমকি

পূর্ব লন্ডনের বাঙালী অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের একজন কাউন্সিলরকে তার পোশাকের জন্য হত্যার হুমকি দেয়ার খবর প্রকাশ হয়েছে রোববার। বাঙালী কাউন্সিলার শিরিয়া খাতুন (৩৮) জানিয়েছেন টেলিফৌনে হত্যার হুমকি ও যৌন-হেনস্থামূলক কথাবার্তা এবং রাস্তা-ঘাটে নজরদারীর মত ঘটনাগুলো অনেক দিন ধরে অগ্রাহ্য করলেও, তার চার সন্তানের উপরে হুমকি আসতে শুরু করলে বাধ্য হয়ে তিনি পুলিশের শরনাপন্ন হয়েছেন। ডেইলী এক্সপ্রেস পত্রিকার সাথে আলাপে এই কাউন্সিলরা জানান টেলিফৌনে অধিকাংশ সময় বাংলা-ভাষী লোকেরাই তাকে হুমকি দিচ্ছে ও হেনস্থামূলক কথাবার্তা বলছে।

শিরিয়া খাতুন জানিয়েছেন বছর-খানেক ধরে টেলিফৌনে অব্যাহত থাকা হুমকি-ধামকিগুলোর মধ্যে তার জন্য কবর খুঁড়ে রাখা মত হুমকিও দেয়া হয়েছে। তিনি জানান উড়ো-ফৌনে অজস্ত্র হুমকি দেয়া ছাড়াও তাকে বাড়ীর পথে অনুসরণের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনাকে 'অসুস্থ' কর্মকান্ড হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এই রাজনীতিক। পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে শিরিয়া খাতুন বলেন, একজন কাউন্সিলার হিসাবে আমি একজন সামর্থ-সম্পন্ন নারী হিসাবে নিজেকে প্রতিপন্ন করার কথা। আমি এসব কিছুকে পাত্তা দিচ্ছি এমনটিও দেখাতে চাইনি, কিন্তু এটা

[হুমকি-ধামকি] অনেক দূর চলে গেছে।

ফোনকারীদের প্রসঙ্গে শিরিয়া খাতুন বলেন, তারা আসলেই বিরক্তিকর। তারা আমার পশ্চিমা-ধাঁচের পোশাক, আমার আটোঁসাঁটো জিনস আর শরীরের বিভিন্ন অংশ নিয়ে কথা বলতে থাকে। ফোনকারীদের মধ্যে একজন খাতুনের বাসস্থান চেনা থাকার কথা জানিয়ে তাকে ও তার সন্তানদের ভয় দেখায়। খাতুন বলেন, আমি সত্যিই ভেবেছিলাম এটা কোন এক বিকৃতমনা ব্যক্তির কাজ, কিন্তু এরপর থেকে প্রায়শ ফৌন আসতে শুরু করে। তিনি আরও বলেন, আমি ছোট থাকা অবস্থাতে আমার মা-বাবা মারা যান এবং এটা অবশ্যই ফোনকারীদের জানা আছে কারণ তারা আমাকে বলেছে তারা আমার মা-বাবার কবরটি খুঁড়ে সেখানে আমাকে শুইয়ে দেবে।

শিরিয়া খাতুন জানান এ-ধরনের ফোনের কারণে তিনি ঢিলেঢালা এশিয়ান পোশাক পরতে আর কন্টাক্ট লেন্সের বদলে চশমা ব্যবহার শুরু করেন। খাতুন জানান হুমকিদাতাদের হুমকির ব্যাপারটি কিভাবে তার উপরে ক্রিয়া করতে শুরু করে তা তিনি বুঝতে পারেননি, কিন্তু এক-পর্যায়ে এসে লক্ষ্য করেন যে নিজের অজান্তেই তার স্কার্টের ঝুল লম্বা হতে শুরু করেছে। পুরো ব্যাপারটিতে তার মনোবল ভেঙে পড়েছে বলে আক্ষেপ করেন কাউন্সিলার খাতুন।

শিরিয়া খাতুন জানান কয়েক-জন নারী ফৌন করে তাকে প্রথাগত পোশাক পরার পরামর্শ দেয়। এরা জানায় বাঙালীর কমিউনিটির, মূলত পুরুষদের, মধ্যে তার পোশাক নিয়ে সমালোচনা চলছে। এহেন ঘটনার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে খাতুন বলেন, আমি চাইনা কেউ ধর্মের নাম ভাঙিয়ে আমাকে বলতে আসুক যে আমি একজন যথার্থ মুসলিম নই। আমরা একটি গনতান্ত্রিক সমাজে বাস করি এবং ইচ্ছে মত পোশাক পরার স্বাধীনতা আমার আছে।

পুলিশ জানিয়েছে শিরিয়ে খাতুনের অভিযোগ তারা খতিয়ে দেখছেন। ২০০৬ সালে নির্বাচিত হওয়া এই কাউন্সিলার লন্ডনের সাবেক মেয়র কেন লিভিংস্টৌনের ট্রান্সপৌর্ট এডভাইজার হিসাবে কাজ করেছেন। মুসলিম নারীদের রাজনীতিতে আসার আহবান জানিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে প্রচার-প্রচারণাও চালিয়েছেন।

০৭/০৩/১০

পাঠকের মন্তব্য

হতাশাজনক..

হতাশাজনক.. চরম হতাশাজনক।

এরা নামে 'বাঙালী' অন্তরে সৌদি, এদের মুখ থেকে বাংলা ভাষা কেড়ে নিয়ে আরবী বাধ্যতামূলক করা উচিত। এদের উচিত বাঙলাদেশের পাসপোর্ট ফেরৎ দিয়ে সৌদি পাসপোর্টের আবেদন করা, আফটার অল এরা নিজেদের প্রকৃত মুসলমান মনে করে। ধিক তাদের যারা বাঙলা সংস্কৃতির নামে হিজাব আরোপ করতে চায়।

আমি

আমি বিষয়টিতে একটু আশ্চর্য হইনি। কারণ ইংল্যান্ডে যারা যায় তাদের বড় অংশই গোড়া মৌলবাদীতে পরিণত হয়েছে (আমার চেনাদের কথা বলছি)। ষাটের দশকে যারা যেতো তারা অনেকে প্রগতিশীল আন্দোলনে যুক্ত থাকলে, এখন সে পরিস্থিতি উল্টো হয়ে গেছে।
দেশের বাঙালীরা বিদেশে গিয়ে আরো কট্টর হচ্ছে। আর যদি বিষয়টি ভোটের ফ্যাকড়ার মধ‌্যে পড়ে তাহলে শেষ পর্যন্ত এই কাউন্সিলর শেষ পর্যন্ত লব্মা জোব্বা পরবেন, যা তিনি বিশ্বাস করেন না। এই হলো ভোটের গণতন্ত্র!
সম্প্রতি আমরা বাংলাদেশ থেকে লন্ডনের হিজাব গেট নিয়ে যে বিতর্ক শনুছি সেটি এর থেকে খুব বেশি দূরে নয়।
প্রথমে বিবেচনা করা দরকার যে বৈষম্যমূলক সমাজ ব্যবস্থায় লন্ডনে মুসলিমরা অন্যদের ফেইস করছে সেখানে এমন কোনো বিষয় থাকতে পারে কিনা, যার ফলে মুসলিমরা (বিশেষত বাঙালি মুসলিমরা) আইডেন্টি ক্রাইসিস (বিশেষত সামাজিক-রাজণেতিক-অর্থনৈতিক) ভুগছে কিনা। তাদের ক্ষোভের কারণ কি সবই ধর্মীয় না অন্যান্য ব্যপারা আছে এটা দেখা দরকার।

How sad and extreme these

How sad and extreme these people can be! All British secular Bengali people who believe in human rights and enjoy freedom and liberty for granted in this country should raise their voice, without any fear and favour. Islamic radicals are united to subjugate our liberal voices, we must unite to confront them before we are bullied, tortured and killed.

These radical islamic force will eat up everything we have as Bengalies- our culture our identity. We must refuse to be Arabs and we must refuse to be bullied to follow their extreme and narrow medieval path.

These people cry their heads off when people talk against Hizab and Burka and all sort of signature islamic dress. But they forget rights of others when they become judgemental about who should wear what.

Shiria we are with you. Don't be scared. Please raise your voice until it's too late.

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

The content of this field is kept private and will not be shown publicly.
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

More information about formatting options