• লিবিয়ার আকাশে আল-কায়েদার পতাকাঃ আজ শেষ হচ্ছে ন্যাটোর হামলা
    Flag_of_al-Qaeda_in_Iraq.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩১ অক্টৌবর ২০১১, সোমবারঃ লিবিয়ার বিদ্রোহীদের 'অনানুষ্ঠানিক রাজধানী' বেনগাজীতে রাজতন্ত্রের যুগের তিন-রঙা পতাকার সাথে-সাথে এখন উড়ছে আল কায়েদার পতাকা। বেনগাজীর আদালত প্রাঙ্গণে উড়ন্ত কালো জমিনে ইসলাম ধর্মের শ্লোক "আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই" ও তার নিচে পূর্ণ-চন্দ্র-শোভিত এ-পতাকার ছবিসহ বিস্তারিত জানিয়েছে ভাইস ডট কম। সংবাদ ফক্স নিউজ ও ডেইলি মেইলের।

    সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের ভাষ্য-মতে, ছবি তুলতে গেলে প্রথমে তাঁকে বাধা দেয়া হয় । সামরিক-পোষাক পরিহিত প্রহরী তাঁকে এই বলে সতর্ক করেন যে, 'এ-পতাকা সম্পর্কে খারাপ কিছু বললে জিহবা কেটে ফেলা হবে। আমি তোমাকে পরামর্শ দেব এ-ছবি না ছাপাতে। নয়তো তুমি নিজের বিপদ ডেকে আনবে'। উত্তেজিত ঐ-প্রহরী একে আল-কায়েদার পতাকা নয় দাবী করে বলেন, 'এটিই সত্যিকারের ইসলামের পতাকা'।

    বেনিগাজীর আদালত-প্রাঙ্গনে উড়ছে আল-কায়েদার পতাকা
    বেনগাজীর আদালত-ভবনের ছাদে বিদ্রোহীদের পতাকার সাথে উড়ছে আল-কায়েদার পতাকা

    উল্লেখ্যঃ কয়েক সপ্তাহ আগে ত্রিপোলির মিলিট্যারী কাউন্সিলের স্বঘোষিত প্রধান আব্দেল হাকিম বেলহাজের যোদ্ধারা ত্রিপোলি বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কব্জা করেছে। এর আগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ-বিমানবন্দরটি বর্বর-সমন্বয়ে গঠিত জিন্‌তান ব্রিগেইডের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ঘটনার কয়েকদিন পরেই বেলহাজ এক ভাষণে দাবী করেন যে, বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক সংস্থা এনটিসির এতে সায় ছিল। দৃশ্যতঃ গাদ্দাফির মৃত্যুর পর একক কোন সরকারের অনুপস্থিতিতে লিবিয়াজুড়ে যে কর্তৃপক্ষীয়-ক্ষমতার শূণ্যতা তৈরি হয়েছে তাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করছে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী হয়ে ওঠা আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট চরমপন্থী সংগঠনগুলো।

    এদিকে ৭ মাস অবিরাম বিমান-হামলার মাধ্যমে বিদ্রোহীদের দ্বারা সরকারের পতন ঘটানো ও গাদ্দাফিকে হত্যা করতে সাহায্য করার পর লিবিয়ায় সামরিক অভিযান 'অপারেশন ইউনিফায়েড প্রৌটেক্টর' আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করছে ন্যাটো। ত্রিপোলিতে আজই এক অপ্রত্যাশিত সফরকালে ন্যাটোর প্রধান ফগ রাসমুশেন গত ৭ মাসে লিবিয়ায় তাঁর সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। রাসমুশেন দাবী করেন, ন্যাটোর কারণে কোন বেসামরিক প্রানহানী ঘটেনি। উল্লেখ্যঃ ন্যাটোর বিমান ও নৌ হামলায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধ-সহ বহু লিবীয় বেসামরিক মানুষের হতাহতের ছবি ও খবর ব্যপকভাবে পত্র-পত্রিকাতে প্রচার হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান-হামলা শেষ করার কথা বললেও রাসমুশেন জানান, 'লিবিয়ার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্কারে ন্যাটো ভূমিকা রাখবে'।

    যদিও এনটিসির প্রধান আব্দুল জলিলের পক্ষ থেকে করা 'এ-বছরের শেষ পর্যন্ত লিবিয়ার ন্যাটোর অভিযান অব্যাহত রাখার' অনুরোধ রক্ষা করেনি ন্যাটো তথাপি তিনি এ-সামরিক জোটের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, '(অভিযানে অংশ নেয়া) ন্যাটো ও আরব বন্ধুদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের যা করেছেন, তার ফলে আমরা বিজয় পেয়েছি, ধন্যবাদ আপনাদেরকে' ।

    রাসমুশেন উল্লেখ করেন, 'এনটিসির নেতারা চাইলে ন্যাটো সহযোগীয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে'। এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি তাঁর ত্রিপোলি সফর সম্পর্কে বলেন, 'আমি এনটিসির সাথে লিবিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে আলাপ করতে এসেছি'। লিবিয়ার গণতন্ত্রে উত্তরণে এনটিসির পরিকল্পনা ও ন্যাটোর দিক থেকে তাদের আকাঙ্খিত সম্ভাব্য সহযোগীতার ব্যাপারেও আলোচনার কথা জানান রাসমুশেন।

    লিবিয়ায় সশস্ত্র-বিদ্রোহ শুরু হওয়ার সময়েই গাদ্দাফি বলেছিলেন যে, এর পেছনে রয়েছে আল-কায়েদা ও অন্যান্য চরমপন্থী ইসলামীক সংগঠনগুলো। তারপর পশ্চিমা সামরিক সহায়তায় বিদ্রোহীরা রাজধানী দখল এবং পরিশেষে গাদ্দাফিকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশটির শাসন ক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু দৃশ্যতঃ সম্মুখ-সমরে অংশ নেয়া বিদ্রোহীদের বড়ো অংশটিই আল-কায়েদার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ত্রিপোলি ও বেনগাজীর মতো বড়ো নগরগুলো এখন তাদেরই দখলে। এনটিসির প্রধান ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইসলামী শরীয়ার ভিত্তিতে পরিচালিত হবে 'নতুন লিবিয়া'। পরিস্থিতে বিচারে দেখা যাচ্ছে যে, যে ইসলামী জঙ্গিবাদীদেরকে দমনে পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো বিশ্বব্যাপী 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই' করছে তাদেরকেই লিবিয়ায় শাসকরূপে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করলো।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন