• লিবিয়ার বিদ্রোহীদের কমান্ডার নিহতঃ জাতিগত সংঘাতের আশঙ্কা
    libya_yunus_dead.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি.কম - ২৯শে জুলাই ২০১১, শুক্রবারঃ গতকাল লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ডার জেনারেল আব্দুল ফাত্তাহ ইউনুস ও তার দুই দেহরক্ষী বিদ্রোহীদেরই একটি দলের 'চোরাগোপ্তা হামলায়' নিহত হয়েছে। বিদ্রোহীদের রাজনৈতিক নেতা মুস্তফা আব্দুল জলিল পূর্বাঞ্চলীয় শহর বেজগাজিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ-খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, একজন সশস্ত্র হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। জলিল অবশ্য হামলার কারণ, পরিস্থিতি বা হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকার করেন।

    লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির দীর্ঘ-দিনের সহচর ইউনুস বিদ্রোহের আগে লিবিয়ার স্বরাষ্ট্র-মন্ত্রীর দায়ীত্ব পালন করছিলেন। ১৯৬৯ সালের প্রজাতান্ত্রিক-বিপ্লবের সময়ও তিনি গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। এ-বছরের ফেব্রুয়ারীতে দেশটির পূর্বাঞ্চলে 'পশ্চিমা-পরাশক্তিগুলোর সাহায্যপূষ্ট' বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর তিনি পক্ষ-বদল করে বিদ্রোহীদের সামরিক প্রধান হিসেবে আবির্ভূত হন।

    একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, নিহত হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউনুসকে বিদ্রোহী-বাহিনী গ্রেফতার করেছিলো। প্রশ্নকারী-কর্মকর্তারা অপেক্ষা করছিলেন বেনগাজী হৌটেলে, আর বাইরে অপেক্ষারত তার গোত্র ওবেইদি'র সদস্যরা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ-মর্মে হুঁশিয়ার করছিলো যে, ইউনুসকে তার পদ থেকে অপসারণ করলে দাঙ্গা বেঁধে যেতে পারে এবং প্রয়োজন হলে তারা জোর খাটিয়ে ইউনুসকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু উল্লিখিত সময়ে ইউনুসকে সেখানে হাজির করা হয়নি।  বরং দু'ঘন্টা পরে জলিল সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এ-হত্যাকাণ্ডের কথা ঘোষণা করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে জলিলকে অত্যন্ত সতর্কভাবে শব্দ-চয়ন করতে দেখা গেছে। যথা-নিয়মে বিদ্রোহী কাউন্সিলের অন্যান্যের সাথে বসার কথা থাকলেও তিনি ইউনুসের গোত্রের বয়স্ক-নেতৃবৃন্দের সাথে এক টেবিলে বসে বক্তৃতা করেন। নিহতদের স্মরণে জলিল ৩ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, ইউনুসের গোত্র বিদ্রোহীদের সাথে যেনো বিদ্রোহ না করে বসে সে-জন্যই এ-সতর্কতা।

    কিন্তু দৃশ্যতঃ বাক-সতর্কতায় বিশেষ কাজ হয়নি। ইউনুসের মৃত্যু-ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওবেইদি গোত্রের উত্তেজিত ও সশস্ত্র এক-ট্রাক-ভর্তি সদস্য হৌটেলের সামনে এসে নামে এবং হৌটেলের উপর এলোপাথারি গুলিবর্ষণ করতে শুরু করে। তাদের আক্রমণে হৌটেলটির দরজা-জানালার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকজন যোদ্ধা কালাশনিকভ রাইফেল নিয়ে হোটেলের ভিতরে ঢুকে পড়ে এবং খানিক পরে সেখান থেকে গোলাগুলির আওয়াজ ভেসে আসে। এতে কেউ হতাহত হয়েছি কি-না তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রহস্যজনকভাবে ইউনুসের গ্রেফতার ও নিহত হওয়ার ঘটনা ওবাইদি গোত্রের মতো বিদ্রোহরত পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য গোত্র ও আন্তর্জাতিক মিত্রদের মাঝেও বিদ্রোহী কাউন্সিলের প্রতি অনাস্থা আর সন্দেহ বাড়াবে। এতে গোত্রগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের অন্তর্কলহ যা গাদ্দাফি প্রশমিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন, তা নবায়িত হতে পারে। যদি তা-ই ঘটে, সেক্ষেত্রে 'পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মদদ-পুষ্ট' বিদ্রোহীদের 'সরকার উৎখাতের প্রকল্প' ব্যর্থ হতে বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

KANI - BIGA ( a Land Sell Broker in Bangladesh )

http://www.facebook.com/pages/KANI-BIGA-a-Land-Sell-Broker-in-Bangladesh...

বিদ্রোহীরা নিজেদের মধ্যেই যুদ্ধ করে দুর্বল হয়ে পড়বে। এখন পশ্চিমারা পরবর্তীতে কি পদক্ষেপ নেবে তা দেখার বিষয়।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন