• লিবিয়া পুনর্গঠনে ক্যামেরোন-সার্কোজিঃ ইব্রাহিম বলেন, 'ঔপনিবেশিক প্রকল্পের শুরু'
    libya_sarko_cameron_jalil.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  লিবিয়ার বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন প্রদান ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে গতকাল বৃহস্পতিবার লিবিয়া সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস সার্কোজী। লিবিয়া 'পূনর্নিমাণ' করার ইচ্ছা প্রকাশ-কার ইঙ্গ-ফরাসী শীর্ষ-নেতাদের এ-সফরকে 'ঔপনিবেশিকতার শুরু' বলে নিন্দা করেছেন প্রতিরোধ-যুদ্ধরত সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম। 

    ডেইভিড ক্যামেরোন ও নিকোলাস সার্কোজী দুটো পৃথক-পৃথক জেট-বিমানে অবতরণ করেন লিবিয়ার মিতিগা বিমানবন্দরে -যেটি রাজতান্ত্রিক আমলে ছিলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান-ঘাঁটি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদেরকে লিবিয়া থেকে বিতারণের পর জনরাষ্ট্রিক-বিপ্লবের নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি যাকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করেন। ইউরোপের শক্তিধর দু-দেশের নেতাই ন্যাটো-সমর্থিত আল-কায়েদা বিদ্রোহীদের সাথে লিবিয়ার 'পূনঃনির্মাণে' ভূমিকা রাখার ইচ্ছা ব্যাক্ত করেছেন।

    বিদ্রোহীদের নেতাদের সাথে এক যৌথ সংবাদ-সম্মেলনে ক্যামেরোন বলেন, 'যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। লিবিয়ার অনেক অঞ্চল এখনও গাদ্দাফির নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে'। বিদ্রোহীদের গঠিত 'অন্তর্বর্তীকালীন সরকার', যাঁরা গণতন্ত্রের কথা বললেও লিবিয়ার জনগণের দ্বারা নির্বাতিচ নয়, তাঁদের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, 'সকলে ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে ছোটো করে দেখেছিলো, মনে করেছিলো তাঁরা লিবিয়াকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারবে না। কিন্তু তাঁরা (লিবিয়ার) যে-রূপান্তর ঘটিয়েছেন তা অসাধারণ'। লিবিয়াতে ব্রিটেইনের সামরিক অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত করে ক্যামেরোন বলেন, 'আমরা গাদ্দাফিকে খুঁজে বের করতে সহায়তা করবো'।

    একই মনোভাব ব্যাক্ত করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নিকোনাস সার্কোজী বলেন, 'লিবিয়ার নেতারা যতোদিন প্রয়োজন মনে করবেন, ততোদিন গাদ্দাফির বিরুদ্ধে ফ্রান্সের বিমান-বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত থাকবে'। লিবিয়ার তেল-জল ও অন্যান্য সম্পদের প্রসঙ্গে সার্কোজি বলেন, 'আমাদের কোন গোপন ইচ্ছা বা চুক্তি নেই। আমরা যা মনে করেছি ন্যায্য, তা-ই করেছি'। তিনি আরও বলেন, 'লিবিয়ার নতুন নেতারা যদি ফ্রান্সের কোম্পানীর সাথে বাণিজ্য বাড়াতে চায়, তাহলে ভালো হয় কিন্তু তা করতে হবে আইনগতভাবে ও দরপত্রের মাধ্যমে'।

    তবে দৃশ্যতঃ লিবিয়ার বিদ্রোহীরা ব্রিটেইন নয় ফ্রান্সেকেই তাঁদের প্রধান বন্ধু মনে করছে - এনটিসির নেতা আব্দুল জলিলের বক্তব্যে তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। 'ফ্রান্স সবচেয়ে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে, তবে ব্রিটেইনও ভূমিকাও ক্রমবর্ধমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ', বলেছেন জলিল। এছাড়াও, 'গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারলে ফ্রান্স লিবিয়ার তেলের ৩৫% পাবে' এ-মর্মে বিদ্রোহীদের সাথে ফ্রান্সের গোপন একটি চুক্তিও হয়েছিলো। জলিল আরও বলেছেন, 'আমাদের বন্ধুরা লিবিয়া পূনঃনির্মাণেও অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে'। সার্কোজী তাঁর এ-সফরকে উৎসর্গ করেছেন 'সিরিয়ার যুবসমাজের প্রতি'। এ-ব্যাপারটিকে সিরিয়ায় চলমান একই ধরণের রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে অনেকে ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন।

    এদিকে লিবিয়ার সরকারের মুখপাত্র মুসা ইব্রাহিম ক্যামেরোন ও সার্কোজির এ-সফরকে 'ঔপনিবেশিক প্রকল্পের শুরু' বলে আখ্যায়িত করেছেন। সিরিয়ার একটি টিভি চ্যানেলে টেলিফৌনে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য প্রতিযোগীরা ভাগ বসাতে আসার আগে আগেই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতারা লিবিয়ার সম্পদের উপরে তাঁদের দখল নিশ্চিত করতে ছুটে এসেছেন।'

    ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের 'লিবিয়া পূনঃনির্মাণ' ইচ্ছার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তারা (ন্যাটো) বোমা মেরে লিবিয়ার অবকাঠামো ধ্বংস করেছে এখন লিবিয়ার অর্থেই আবার সেই অবকাঠামো নির্মাণ করতে চায়'। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য লিবিয়াকে তাদের সামন্ত-দাসে পরিণত করতে চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমরা সমগ্র লিবিয়া ঔপনিবেশিক প্রকল্প থেকে মুক্ত হওয়া হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাবো। যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি'।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন