• লিবিয়া যুদ্ধঃ অসুবিধার কথা বলে নৌ-প্রধান ভর্ৎসিত হলে সরকার-প্রধানের কাছে
    Sir-Stanhope.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি, ১৬ জুন ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  লিবিয়াতে ন্যাটোর ৯০ দিনের সময়সীমার পর আক্রমণ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে রাজকীয় নৌ-বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করার কারণে প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন রুষ্ট হয়ে মঙ্গলবার ১০ নং ডাউনিং স্ট্রীটে নৌ-প্রধান ফার্স্ট সী-লর্ড এ্যাডমিরাল স্যার মার্ক স্ট্যানহৌপকে ডেকে পাঠিয়ে ভর্ৎসনা করেছেন। উল্লেখ্য, সোমবার এ্যাডমিরাল হাউসে বীফিং-কালে স্যার স্ট্যানহৌপ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হ্রাসের কারণে নৌ-বাহিনীর নৌবহরের যে শক্তির ঘাটিতি দেখা দিয়েছে, তাতে লিবিয়াতে বেশি দিন যুদ্ধ করা অসম্ভব বলে তার মতামত দিয়েছিলেন।

    বুধবারে প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরোন হাউস অফ কমন্সকে জানান, তিনি এ্যাডমিরাল স্যার স্ট্যানহৌপকে তার কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়ে কথা বলার পর তিনি স্বীকার করেছেন যে, নৌ-বাহিনী ‘যতোদিন প্রয়োজন ততোদিন পর্যন্ত অভিযান ধরে রাখা যাবে’।

    পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রীর কোয়েশ্চন টাইমে ক্যামেরোন বলেন, ‘গতকাল ফার্স্ট সী-লর্ডের সাথে আমার বৈঠক হয়েছে এবং তিনি সম্মত হয়েছে যে আমাদের যতোদিন পর্যন্ত প্রয়োজন হবে, ততোদিন পর্যন্ত আমরা সেখানে আমাদের অভিযান ধরে রাখতে পারবো।'

    তিনি বলেন, 'আমরা ঠিক কাজ করছি এবং আমি এই সহজ বার্তাটি সরকারের প্রতিটি অংশে এবং হাউস অফ কমন্সের প্রতিটি অংশে দিতে চাই যে, সময় আমাদের দিকে। চাপ তৈরী হচ্ছে, সামরিক-ভাবে, কূটনৈতিক-ভাবে ও রাজনৈতিক-ভাবে এবং গাদ্দাফির জন্য সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে।’

    এদিকে প্রেস এসৌসিয়েশন জানাচ্ছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারী কর্মকর্তাকে বলেছেন, ‘আমার মনে হয় না ক্যামেরোনের সাথে স্ট্যানহৌপের বৈঠকে কোনো কফি বা বিস্কুটের ব্যবস্থা ছিলো’। এর দ্বারা নৌ-প্রধানের প্রতি সরকার-প্রধানের রুষ্টতা ও ভর্ৎসনাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

    নৌ-প্রধানের সীমাবদ্ধতার মন্তব্য লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফির ‘জন-সংযোগের ক্ষেত্রে একটি তোফা’ হিসেব উল্লেখ করে দৈনিক গার্ডিয়ান জানায়, প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা তিরস্কৃত হলেও কর্মরত ও অপসরপ্রাপ্ত নৌ-অফিসারগণ তার পিছনে দাঁড়িয়েছেন।

    পত্রিকাটি জানায়, স্ট্যানহৌপের পূর্বসূরী অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এ্যাডমিরাল ক্রিস প্যারী বলেছেন, স্ট্যানহৌপকে ডেকে এনে কথা বলার অধিকার প্রধানমন্ত্রীর যথার্থই আছে এবং তিনি আশা করেন দুজনেই ‘কার দ্বারা কী বলা হয়েছে সে বিষয়ে খোলামেলা মতামত বিনিময় ও আলোচনা হয়েছে।'

    গার্ডিয়ান প্রাক্তন নৌ-প্রধাননের উদ্বৃতিতে বলে, ‘কিন্তু এটি দুঃখজনক যে, মিঃ ক্যামেরোন পছন্দ করে সে-আলোচনার নিজের ভাষ্য প্রধানমন্ত্রীর কোয়েশ্চনে উপস্থাপন করেছেন। আমি মনে করি, রাজকীয় নৌবাহিনীর অধিকার আছে ফার্স্ট সী লর্ডেকে ঘিরে সমাবেশিত হবার।'

    একই প্রসঙ্গে পরিচয় আঁধারে রেখে সরকারের ভিতরকার অন্য আরেকজনকে উদ্বৃত করে গার্ডিয়ান বলে, ‘ফার্স্ট সী লর্ড একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং তার সাথে সম্মানের সাথে আচরণ করা উচিত। তাকে এভাবে রাজনীতিতে টেনে হিঁচড়ে আনাটা ঠিক উচিত হয়নি।’  

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন