• লিবীয় নেতা গাদ্দাফিকে হত্যার দাবী বিদ্রোহীদেরঃ ন্যাটো বা যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত নয়
    gaddafi_killed_story_image_purportedly_shows.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২০ অক্টোবর ২০১১, বৃহস্পতিবারঃ  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে গ্রেফতার অথবা হত্যার দাবী করেছে বিদ্রোহীদের ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিল। বিদ্রোহীদের টিভি চ্যানেলের বরাত দিয়ে এ-সংবাদ পরিবেশন করেছে বিবিসি, রয়টার্স, এফপি, আল-জাজিরা, সিএনএন, গার্ডিয়ান-সহ প্রায় সকল পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যম। তবে কেউই এখন পর্যন্ত এ-খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

    এনটিসির একজন সামরিক কমান্ডার আব্দেল-বাসিত হারুন দাবী করেছে, 'সিরত থেকে গাদ্দাফী-বাহী গাড়ীবহরে ন্যাটোর মিসাইলের হামলায় গাদ্দাফী নিহত হয়েছেন'। আরেকজন মুখপাত্র আব্দুল মজিদ ম্লেগতা রয়টার্সকে বলেছেন 'ঐ গাড়ি-বহরে আমাদের যোদ্ধারা হামলা করে এবং আমাদের গুলিতেই গাদ্দাফি মারা গেছেন'। ত্রিপোলির মিলিট্যারি কাউন্সিল ও লিবিয়ান ইসলামিক ফাইটিং গ্রুপের প্রধান আব্দুল হাকিম বেলহাজ, যিনি আল-কায়েদার হয়ে আফগানিস্তান, সুদান ও ইরাকে যুদ্ধ করেছেন, গাদ্দাফির নিহত হওয়ার সংবাদের সত্যতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

    কিন্তু বিদ্রোহীদের মিসরাতা মিলিট্যারী কাউন্সিল দাবী করেছে যে, তাদের যোদ্ধারা গাদ্দাফিকে সিরত থেকে গ্রেফতার করেছে। এনটিসির অন্য দু'জন মুখপাত্র জালাল আল-গালাল ও আব্দুল-রহমান বুসিল জানিয়েছেন, 'গাদ্দাফির মৃত্যুর সংবাদের সত্যতা এখনও পর্যন্ত যাচাই করা সম্ভব হয়নি'।

    ওদিকে পশ্চিমা পরা-শক্তিগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো জানিয়েছে, তারাও এ সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারছেন না। যদিও তারা স্বীকার করেছেন যে, আজ সকালে সিরতে থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটি গাড়ি-বহরে তাঁরা বিমান-হামলা চালিয়েছেন - তাঁদের বিশ্বাস ঐ-বহরে গাদ্দাফী ছিলেন।

    যুক্তরাষ্ট্রও নিশ্চিত করতে পারেনি এ-সংবাদের সত্যতা। পররাষ্ট্র-মন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন বলেছেন, 'আমি নিশ্চিত নই গাদ্দাফি নিহত হয়েছে কি-না, যদি তা সত্য হয় তবে আমি স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবো'। উল্লেখ্যঃ গত সপ্তাহে লিবিয়া সফর-কালে হিলারী বলেছিলেন যে, তিনি আশা করেন যেনো দ্রুত গাদ্দাফিকে গ্রেফতার বা হত্যা কর সম্ভব হয়।

    গাদ্দাফির গ্রেফতারের খবর সত্য বলে দাবী করেছেন নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত। তিনি বলেছেন 'এবার তাঁর যুদ্ধাপরাধের বিচারে মুখোমুখি হওয়ার পালা'। ইতালির প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বার্লুস্কোনি বলেছেন, 'লিবিয়ার যুদ্ধ এবার শেষ হলো'।

    তবে গাদ্দাফির সমর্থকরা এ-সংবাদকে 'স্রেফ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। আল-লিবিয়া টিভির ওয়েবসাইটে দাবী করা হয়েছে যে, 'গাদ্দাফি সুস্থ আছেন'। পশ্চিমা মিডিয়ায় প্রচারিত মৃত গাদ্দাফির ছবি 'একেবারেই ভূয়া' বলে সতর্ক করা হয়েছে ওয়েবসাইটটিতে।

    অতীতে গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র সাইফ-আল ইসলাম ও তাঁর সেনা-পুত্র জেনারেল খামিস গাদ্দাফি সম্পর্কে এ-রকম মৃত্যুর খবর দিয়ে তা মিথ্যা প্রমাণিত হবার কারণে পর্যবেক্ষকগণ তা আপাততঃ বিশ্বাসে নিচ্ছেন না।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd>
  • Lines and paragraphs break automatically.

লেখা ফরম্যাট করার বিষয়ে আরো তথ্য

আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন