• লেভিসন ইনকোয়ারীঃ মার্ডকের সাবেক পত্রিকার সাবেক দুই সম্পাদক সাক্ষ্য দেবেন
    Brooks-and-Coulson.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৩ মে ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ  রুপার্ট মার্ডকের কলঙ্ক-লিপ্ত ও অধুনা-লুপ্ত নিউজ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড পত্রিকার ফৌন-হ্যাকিং কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে ব্রিটেনের সংবাদপত্রের জন্য নতুন আইন প্রণয়ণের লক্ষ্যে গঠিত লেভিসন ইনকোয়ারীতে আগামী সপ্তাহে সাক্ষ্য দেবেন এক সময়কার প্রধান নির্বাহীর পদে-থাকা ও পরবর্তীতে পদত্যাগ-করা দুই বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব রেবেকা ব্রুকস ও এ্যাণ্ডি কুলসান।

    খুন হওয়া স্কুল-ছাত্রী মিলি ডাওলার মোবাইল ফৌনের ভয়েস-মেইলে যখন আঁড়ি পাতা হয়, তখন নিউজ অফ দি ওয়ার্ল্ড পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মিসেস ব্রুকস। এ-প্রসঙ্গে ব্রুকসকে সাক্ষ্য দিতে হবে আগামী ১১ই মে শুক্রবার।

    রেবেকা ব্রুকসের একদিন আগে অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার লেভিসন ইনকোয়ারীতে সক্ষ্য দিতে আসবেন তাঁরই উত্তরসূরি এ্যাণ্ডি কুলসন। ২০০৭ সালে নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ডয়ের এক সাংবাদিক ফৌন-হ্যাকিং এর অপরাধে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান অ্যাণ্ডি কুলসন। 

    ফৌন-হ্যাকিংয়ের বিনিময়ে অর্থ পরিশোধের অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক একজন পুলিস কর্মকর্তা গ্রেফতার হওয়ার পর নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ড পত্রিকাটির সাবেক এই দুই সম্পাদক লেভিসন ইনকোয়ারী সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন। সরকারী দফতরের বিধি ভঙ্গের সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার ৫৭ বছর বয়স্ক ওই পুলিস কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০০০ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া সংবাদপত্র নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ডয়ের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা রেবেকা ব্রুকস ইতোপূর্বে লেভিসন ইনকোয়ারীতে সাক্ষ্য দেননি।

    তাঁকে এমপি এবং পুলিস কর্মকর্তাদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মাসে ইকনোয়ারীতে উপস্থিত হওয়ার জন্য তাঁকে বলা হলে তিনি কৌর পার্টিসিপেন্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার আবেদন করলে, তা মঞ্জুর হয়। ফলে নিজস্ব আইনজীবীর মাধ্যমে অন্যান্য সাক্ষীকে প্রশ্ন করার অধিকার পান রেবেকা ব্রুকস। শুধু তাই নয়, কোর পার্টিসিপেন্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার ফলে তিনি অন্য সাক্ষীদের বিবৃতি এবং প্রামাণ্য দলিল আগেই দেখে নিতে পারেন।
    নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ড ছাড়ার পর অ্যাণ্ডি কুলসন প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোনের ডাইরেক্টর অব কমিউনিকেশনস পদে অধিষ্ট হন। ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ডয়ের ফৌন-হ্যাকিং কেলেঙ্কারির ধারাবাহিকতায় তিনি সেই পদ থেকেও পদত্যাগ করেন। একই বছরের জুলাই মাসে দুর্নীতি ও ফৌন-হ্যাকিং এর সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেফতার হন কুলসন। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

    রেবেকা ব্রুকসকেও ২০১১ সালের জুলাই মাসে একই ধরনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। জামিনে মুক্ত হলেও চলমান বিচার-কাজকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মার্চ মাসে তাকে আবারও গ্রেফতার করা হয়। এবারও তাঁকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়।

    আগামী সপ্তাহে লেভিসন ইনকোয়ারীতে অ্যাণ্ডি কুলসন এবং রেবেকা ব্রুকস হাজিরা দিতে এলেও ফৌন-হ্যাকিং বিষয়ে তারা এমন কোনও প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন না যা পুলিসের চলমান তদন্ত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যত বিচারকার্যকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।   

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন