• শহীদ জগৎজ্যোতিকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদানের দাবী লণ্ডনে
    charon_jj_sunday_discussion.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২০ নভেম্বর ২০১৩, বুধবারঃ গত রোববার লণ্ডনের চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে শহীদ জগৎজ্যোতির জীবন, তাঁর বীরোচিত যুদ্ধের স্মৃতি ও তা সংরক্ষণে নাগরিকদের করণীয় প্রসঙ্গে আলোচনা-সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ-সভায় তাঁকে প্রতিশ্রুতি অনু্যায়ী বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রদানের দাবী জানানো হয় বাংলাদেশের সরকারের উদ্দেশ্যে। এর আগে শনিবারে, লণ্ডন শহীদ মিনারে জগৎজ্যোতি দাসের স্মৃতির স্মরণে পুষ্পশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয় চারণের উদ্যোগে।

    ১৯৭১ সালে সুনামগঞ্জ কলেজের ছাত্র এবং ছাত্র ইউনিয়নের নেতা জগৎজ্যোতি ছিলেন ভাটি-বাংলার দুর্ধর্ষ গেরিলা বাহিনী দাস পার্টি'র কমাণ্ডার। ১৬ নভেম্বর বদলপুরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর সম্মিলিতি আক্রমণের মুখে সহযোদ্ধাদের নিরাপদে পশ্চাদপসরন নিশ্চিত করতে গিয়ে যুদ্ধরত অবস্থায় তিনি প্রাণ দেন। সে-সময় অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের বরাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র জগৎজ্যোতিকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাব দেয়ার প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করে, যদিও পরবর্তীতে তাঁকে দুই ধাপ নীচের বীরবিক্রম খেতাব দেয়া হয়।

    রোববারের সভার শুরুতেই জগৎজ্যোতি দাসের আত্মদানের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালিত হয়। চারণের সভাপতি মাসুদ রানা জগৎজ্যোতি দাসের জীবন ও যুদ্ধের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাতের মধ্য দিয়ে সভার আলোচনা-পর্ব শুরু করেন। যে-বাংলাদেশের জন্য জগৎজ্যোতি দাস প্রাণ দিয়েছিলেন, সে-রাষ্ট্র যদি প্রতিশ্রুতি মতো তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব না দেয় তবে জনগণের পক্ষ থেকে জগৎজ্যোতিকে "বীর অনন্য" খেতাব দেয়ার প্রস্তাব করেন তিনি।

    সভায় অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় যোগ দেন মুক্তিযোদ্ধা হাসান মাহমুদ, এমএ আজিজ ও আরিফ রহমান। জগৎজ্যোতির স্মৃতি রক্ষার্থে আজমিরীগঞ্জের কোনও একটি পাঠাগারের একটি কক্ষকে তাঁর নামে নামকরণের প্রস্তাব করেন হাসান মাহমুদ। সে-প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে প্রাক্তন ডাকসু সদস্য মাসুদ রানা বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কক্ষের নামকরণ হতে পারে জগৎজ্যোতির নামে।"

    সভার পক্ষ থেকে মাসুদ রানা আরও প্রস্তাব করেন জগৎজ্যোতির মৃতদেহকে যেখানে রাজাকারেরা খুঁটির সাথে ঝুলিয়ে রেখেছিলো সেখানে একটি মনুমেণ্ট স্থাপনের। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় "শহীদ জগৎজ্যোতি স্মৃতি সঙ্ঘ" নামে একটি সংগঠন সৃষ্টির, যা জগৎজ্যোতির স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ করবে। এ-সমস্ত কার্যক্রমের ব্যয় নির্বাহের জন্য হাসান মাহমুদ ও মাসুদ রানা উভয়েই ৫০,০০০ টাকা করে চাঁদা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জগৎজ্যোতির মনুমেণ্ট নির্মাণের জন্যে একটি ফাণ্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়ে আশা ব্যক্ত করে রানা বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, ব্রিটেইনে ও বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের বাঙালীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জগৎজ্যোতির মনুমেণ্ট তৈরিতে সাধ্যমতো আর্থিক অবদান রাখবেন।"

    আলোচনা সভা শেষে চারণের পক্ষ থেকে পাঠ ও সঙ্গীত পরিবেশন করা হয় জগৎজ্যোতির স্মৃতির স্মরণে। সমর সাহা পাঠ করেন জগৎজ্যোতিকে নিয়ে লিখিত একটি প্রবন্ধে অংশবিশেষ। তাসলিমা রানা পরিবেশন করেন "মুক্তির মন্দির সোপান তলে কতো প্রাণ হলো বলিদান" এ-গানটি, যার সাথে কোরাসে অংশ নেন উপস্থিত সকলে।

পাঠকের প্রতিক্রিয়া

This is indeed a tragedy. I did not know about this promise of Bir Shrestha. My knowledge of JJ is from what I heard from my father, who grew up in the same town with JJ and went to the Jubilee School. It is really a tragedy when one of the bir Shrestha did not even participate in the air, all he ever did was trying to attend the war by stealing a fighter. If the condition of giving the nations highest military bravery awards is based on total and complete selfless sacrifice and single handed action that changed the tactical matrix in a given battle theatre, then only four BS were properly awarded. There were many deserving sondes which were ignored.

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন