• শাহবাগ আন্দোলনে নতুন মোড়ঃ শনিবার থেকে দিন-রাত্রির বদলে দিনে ৭ ঘণ্টার অবস্থান
    17710_10151319398908406_1878396830_n.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৩, শুক্রবারঃ  দিন-রাত্রি লাগাতার অবস্থানের কর্মসূচি থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়া হয়েছে শাহবাগের আন্দোলন থেকে। আজ স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত এক বিরাট গণসমাবেশে এ-ঘোষণা দেয়া হয়।

    মানবতা-বিরোধী অপরাধে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী জেনারেল সেক্রেট্যারি কাদের মোল্লাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড-প্রাপ্ত প্রদান করে গত ৫ই ফেব্রুয়ারী। সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের কামনাকারী ব্লগাররা এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে একই দিন শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দেয়। শুরুতে মাত্র কয়েকশো ব্যক্তি সে-ডাকে সাড়া দিলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সে-সমাবেশ হাজার-হাজার মানুষের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে ওঠে।

    টানা ১১ দিন দিন-রাত লাগাতার অবস্থান করার পর আজ শাহবাগে আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মঞ্চ থেকে ব্লগার ডা. ইমরান সরকার নতুন সময়সূচির ঘোষণা দেন। অর্থাৎ আজ রাতই হচ্ছে রাতে অবস্থানের শেষ রাত। ঘোষণায় অবশ্য বলা হয়েছে যে, প্রয়োজন পড়লে দ্রুত আবার জমায়েত হবেন আন্দোলকগণ।

    বিক্ষোভকারীদের প্রতিক্রিয়া
    মঞ্চ থেকে অবস্থান কর্মসূচি কাট-ছাট করা ঘোষণা দেয়া হলেও ফেইসবুকের 'প্রজন্ম চত্বর' গ্রুপ থেকে পরিচালিত এক উন্মুক্ত ফেইসবুক জরিপে দেখা যাচ্ছে যে এখন পর্যন্ত ৯৩.৫৪% ভৌটার এর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ভোটাভুটি এখনও চলছে, ফলে এ-ফলাফল পরিবির্তিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

    আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত কয়েকজনের সাথে ইউকেবেঙ্গলি.কম টেলিফৌনে কথা বলেছে। অনেকেই নতুন কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা একটানা অবস্থানের ক্লান্তি ও রাতে নারীদের অবস্থানের অসুবিধা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন। 

    তবে নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন আন্দোলক ইউকেবেঙ্গলিকে জানিয়েছেন যে, আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে কোন-কোন বাম সংগঠন আওয়ামী লীগের বিরাগ ভাজন হওয়া এড়াতে আপোস করেছে। 'সাধারণ ছাত্র-জনতা এ-আপোস মানবে না' বলে মনে করেন তিনি।

    সংহতি
    শাহবাগের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানাতে গতকাল সন্ধ্যায় সারা দেশে লক্ষ-লক্ষ মোমবাতি জ্বালানো হয়। বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও একই এ-কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়াও পৃথিবীর নানা প্রান্তে অবস্থানকারী বাংলাদেশী অনেক নাগরিক বিক্ষোভ করেছেন নিজ-নিজ দেশে। 

    যুক্তরাজ্যের লণ্ডনে এ-নিয়ে জামায়াতের সংগঠন বলে পরিচিত 'সেইভ বাংলাদেশ' নামক সংগঠনের মুখোমুখি হতে হয়েছে বিক্ষোভকারীদের। সেইভ বাংলাদেশের কর্মীদের আক্রমণে সাংবাদিক-সহ একাধিক ব্যক্তি আহতও হয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরেও সংহতি সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার
    ইন্টারনেটের সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ফেইসবুক ব্যবহার করে শাহবাগ আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ফলে প্রথম থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ছিলো এ-আন্দোলনের অঙ্গ। প্রথমদিনে মূলত ব্লগাররা বিক্ষোভে অংশ নেন, যাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিলো ইণ্টারনেট ও মোবাইল টেলিফৌন প্রযুক্তি।

    ইতোমধ্যেই আন্দোলকদের মধ্য থেকে সম্পাদনা-পর্ষদ সাজিয়ে 'গণরায়' নামে একটি সংবাদপত্র চালু হয়েছে। এ-কাগজটি আন্দোলনের খবরাখবর ও সে-সম্পর্কিত বিশ্লেষণ, গান কবিতা ইত্যাদি পরিবেশন করছে। 

    'শাহবাগ এ্যাকশন.কম' নামে একটি ওয়েবসাইট আন্দোলনের ঘটনাবলি মানচিত্রে স্থাপন করে যাচ্ছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ-আন্দোলন সম্পর্কিত প্রকাশিত খবরাখবরও একত্র করে সংরক্ষিত হচ্ছে ওয়েবসাইটিতে। মোবাইল কিংবা কম্পিউটারে ইণ্টারনেট ব্যবহার করে এ-ওয়েবসাইটে তাৎক্ষনিকভাবে পাঠানো যাবে ছবি, ভিডিও কিংবা অন্য যেকোন সংবাদ। টুইট্যার ব্যবহার করেও যোগাযোগ করা যাবে 'শাহবাগ এ্যাকশন.কম'-এর সাথে - সেজন্য #sahbagaction এই হ্যাশ্‌ট্যাগ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন