• শেষ হলো জি-২০ সম্মেলনঃ সিরিয়া-হামলা প্রশ্নে বিভক্ত বিশ্ব-নেতারা
    russia_g20_ends.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, শনিবারঃ রাশিয়ার সেইণ্ট পিটার্সবার্গে আজ শেষ হলো দুই দিনের জি-২০ সম্মেলন। আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা বিশ্বের হামলা-প্রস্তাবই হয়ে ওঠে প্রধানতম আলোচিত প্রসঙ্গ। চীন, ব্রাজিল, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্রের রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জার্মানীর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিতে অনিচ্ছার কারণে স্পষ্টতঃ বিভক্ত হয়ে পড়েছে বিশ্ব-নেতৃবৃন্দ।

    রাশিয়ার প্রেসিডেণ্ট ভ্লাদিমির পুতিন সিরিয়ার ২১ অগাস্ট সন্দেহিত রাসায়নিক হামলাকে 'বিদ্রোহীদের উস্কানীমূলক কাজ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়ে ওরা বিদেশী শক্তির সহায়তায় সরকারের পতন ঘটাতে চায়। সিরিয়ার বৈদেশিক হামলার তীব্র বিরোধিতা করে পুতিন জানান, "হামলা হলে আমরা সিরিয়াকে সাহায্য করবো"। উল্লেখ্য, দুদিন আগে তিনি এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, প্রয়োজনে সিরিয়া ও অন্যান্য দেশকে এস-৩০০-এর মতো স্পর্শকাতর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা অস্ত্র দেয়া হবে।

    চীনের প্রেসিডেণ্ট বলেছেন, "সিরিয়ার হামলা হলে তেলের মূল্যের উপরে বিরূপ প্রভাব পড়বে যা বিশ্ব-অর্থনীতির জন্য মঙ্গলকর নয়"। যেকোন বৈদেশিক সামরিক অভিযান জাতিসঙ্ঘের মাধ্যমে হওয়ার পক্ষে তাঁর দেশের অটল অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, আড়াই বছর ধরে চলা সিরিয়া গৃহযুদ্ধে প্রধানতঃ আল-কায়েদার যোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত বিদ্রোহীদের পক্ষে ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জাতিসঙ্ঘে আনীত একাধিক প্রস্তাবে চীন ও রাশিয়া উভয়েই ভেটো দিয়েছে।

    দু'দিনের জি-২০ সম্মেলনে সম্ভবতঃ সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন ব্রিটেইনের প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন। তিনি নিজে আমেরিকার পক্ষ নিয়ে সিরিয়া আক্রমণে উদগ্রীব হলেও নিজ দেশের পার্লামেণ্ট সে-প্রস্তাব নাকচ করেছিলো সপ্তা-খানেক আগে। ফলে জি-২০ সম্মেলনে তাঁকে এ-বিষয়টিতে অনেকটাই প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে ব্রিটিশ মিডিয়া। তবে নিজের ও ব্রিটেইনের প্রাসঙ্গিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্যামেরোন সিরিয়ায় অতিরিক্ত ৫২মিলিয়ন পাউণ্ডের অর্থ-সহায়তার দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

    'ব্রিটেইন ছোট্ট একটা দ্বীপ যাকে কেউ তেমন পাত্তা দেয় না' কোনও একজন সরকারী কর্মকর্তার এমন উদ্ধৃতি রুশ মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে ক্যামেরোন দৃশ্যতঃ আরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। যদিও রাশিয়ার সরকার এমন বক্তব্য দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে, তবে সম্মেলনের শেষ দিনটিতে ক্যামেরোনের বক্তৃতা ছিলো প্রধানতঃ এর জবাবে তাঁর আবেগপূর্ণ কথামালা।

    ক্যামেরোন বলেন,"হ্যাঁ ব্রিটেইন ছোট্ট দ্বীপ বটে; বস্তুত ছোট্ট কয়েকটি দ্বীপের সমষ্টি। কিন্তু আমি চ্যলেইঞ্জ করছি এমন একটি দেশ দেখান যার এর চেয়ে গৌরবতর ইতিহাস আর বৃহত্তর হৃদয় আছে"। আধুনিক পৃথিবীর প্রযুক্তি, শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, বিনোদন ইত্যাদিতে ব্রিটেইনের অবদানের নাতিদীর্ঘ একটি তালিকাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স এখনও সিরিয়ার হামলার ব্যাপারে স্থির-চিত্ত রয়েছে। তবে ফ্রান্স জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে না গেলে একা-একা সিরিয়ায় হামলা করবে না। আমেরিকার প্রেসিডেণ্ট বারাক ওবামা সিরিয়ার কোন পদক্ষেপ না নেয়ার কুফলে কথা বার-বার উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, এতে সিরিয়া-সহ অনেক দেশ [ভবিষ্যতে] রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সাহস পাবে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন