• শ্রমিক-ধর্মঘটে স্থবির ভারতঃ বেসরকারীকরণ বন্ধ, চাকুরী স্থায়ীকরণ ও ন্যূনতম বেতনের দাবী
    india_workers_strike_feb2012.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১২, মঙ্গলবারঃ শ্রমিকদের ডাকে সমগ্র ভারতব্যাপী আজ সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ১১টি শ্রমিক ইউনিয়নের সমর্থনে আহুত এ-ধর্মঘট পালনকালে পুলিস অন্ততঃ ১০০জন শ্রমিক-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ২৪ ঘন্টার এ-হরতালে যোগ দিয়েছে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের সাথে সম্পর্কযুক্ত ইণ্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেইড ইউনিয়ন কংগ্রেস, যা লক্ষ্য করার মতো।

    মনমোহন সরকারের পক্ষ থেকে ধর্মঘট তুলে নেওয়ার আহবান জানানো হলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা তাতে সাড়া দেয়নি। শুরুতে কেবল কল-কারখানায় কর্মবিরতির উদ্দেশ্যে 'ইণ্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্রাইক' ডাকলেও পরে তা জেনারেল স্ট্রাইক বা সাধারণ ধর্মঘটে উন্নিত করা হয় যার আওতায় জরুরী সেবা বাদ প্রায় সকল পরিষেবা-খাত অন্তর্ভূক্ত ছিল।

    দিল্লী-মুম্বাই-কলকাতাসহ প্রায় সকল বড় শহরে  দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। পরিবহন, ব্যাঙ্কিং, শিল্প-খাতে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি।

    মুম্বাই-ভিত্তিক ব্যাংকের কর্মীদের সংগঠন অল ইণ্ডিয়া ব্যাংক এম্পলয়ীজ এ্যাসৌসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস উতাজি দাবী করেছেন, 'ব্যাঙ্কিং খাত ছিল সম্পূর্ণরূপে বন্ধ'। তিনি আরও দাবী করেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেবা বন্ধ থাকার কারণে বেসরকারী ও বিদেশি ব্যাংকের কার্যক্রমও অচল হয়ে পড়েছিল।

    পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সরকারী কর্মীদের ধর্মঘটে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখতে চাকুরী, পদোন্নতি ও পেনশন থেকে বঞ্চিত করার হুমকী দিয়েছেন। ফলে ভোরে যানবাহনের বিড়ম্বনা এড়াতে কলকাতার অসংখ্য সরকারী কর্মচারীকে কর্মস্থলেই কাটাতে হয়েছে আগের রাতটি। তার সাথে ১০,০০০ পুলিস মোতায়েন ও প্রায় ১,০০০ সরকারী বাস নামিয়ে কলকাতার জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করেছে সরকার। দাবীকৃত সরকারী অফিসে ৬৫% উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে ব্যানার্জী বলেছেন, 'ব্যর্থ হয়েছে এ-বন্‌ধ'। পক্ষান্তরে বিরোধী কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইণ্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট) এ-ধর্মঘট সফল হয়েছে বলে দাবী করেছে।

    ধর্মঘটে মধ্যে কাজে উপস্থিত না হলে সে-দিনের বেতন কাটা যাবে - এমন ফরমান জারির মাধ্যমে ধর্মঘট মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছে কেরালার রাজ্য-সরকার। তবে সরকারী হুমকীর মুখেও কার্যতঃ জনজীবন ছিল স্থবির - ব্যাংক-বীমা, দোকানপাট, শিক্ষাঙ্গণ, কল-কারখানা, যানবাহন-সহ প্রায় সকল পরিষেবাই বন্ধ ছিল।

    অল ইণ্ডিয়া ট্রেইড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক গুরুদাশ দাশগুপ্ত এ-কে 'ঐতিহাসিক বন্‌ধ' অভিহিত করে বলেছেন, 'এই প্রথমবারের মতো সর্ব-ভারতের ১১টি কেন্দ্রীয় ট্রেইড ইউনিয়ন একাট্টা হয়ে সরকারের শ্রমিক-বিরোধী নীতির প্রতিবাদ করলো'। তিনি জানান, শ্রমিকদের প্রধান দাবীগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ন্যুনতম মজুরী নির্ধারণ, ৫কোটি অস্থায়ী শ্রমিকের চাকুরী স্থায়ীকরণ, লাভজনক সরকারী প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারী মালিকানায় হস্তান্তর বন্ধ করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা ইত্যাদি।

    ইণ্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রেইড ইউনিয়ন কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট সঞ্জিব রেড্ডি বলেছেল, 'আমরা সরকারকে অনেক সুযোগ দিয়েছি। এখন সময় হয়েছে সরকারের আমাদের কথায় কর্ণ-পাত করার'। তিনি আরও বলেন, 'সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখে আমরা আমাদের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবো'।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন