• সরকারী হুমকির জবাবে শিক্ষার্থীরাঃ 'ক্যামেরোন ইটনে যাও, বুলেট নিজ-পাছায় ঢুকাও'
    nov9_students_protest_01.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৯ নভেম্বর ২০১১, বুধবারঃ শিক্ষার বাণিজ্যিকী-করণের প্রতিবাদের আজ বুধবার দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে লণ্ডনের ছাত্র-ছাত্রীরা আবারও বিক্ষোভ শুরু করেছে। কনসার্ভেটিভ ও লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টিদ্বয়ের যৌথ সরকার কৃচ্ছতা-কর্মসূচীর অংশ হিসেবে  ফী বৃদ্ধির সুযোগ দিয়ে কার্যতঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা-ব্যবস্থাকে বেসরকারীকরণ করেছে। এর প্রতিবাদে গত বছরের এই দিনেই অনুষ্ঠিত হয় প্রথম ছাত্র-বিক্ষোভ। সেদিনের বিক্ষোভ-কর্মসূচী কনসার্ভেটিভ পার্টির প্রধান কার্যালয় দখল ও বহু বিক্ষোভকারীর গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

    বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই প্রায় ১৫,০০০ ছাত্র-ছাত্রী বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন এবং তারা আশা করছেন শীঘ্রই আরও হাজার হাজার এসে যোগ দেবেন। লণ্ডনের বিক্ষোভে যোগ দিতে কোচ-ভর্তি শিক্ষার্থীরা এসেছেন ক্যাম্‌ব্রীজ, বার্মিংহ্যাম, ব্রাইটন, পৌর্টস্মাউথ, কেন্ট, লিভারপুল, ম্যানচেষ্টার, নিউ ক্যাসেল, গ্লাস্‌গৌ ইত্যাদি দূরবর্তী শহর থেকেও।

    বিক্ষোভে অংশ নেয়া বার্মিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ-বর্ষের ছাত্রী সারাহ ওয়েলডৌন বলেন, 'আমি লিবারেল ডেমৌক্রেটকে ভৌট দিয়েছিলাম কারণ তারা বলেছিল কখনও টিউশন ফী বাড়াবে না'। অবশ্য কোয়ালিশন সরকারের অংশ লিবারেল ডেমৌক্রেট পার্টির পক্ষ বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ফী বাড়ানোর প্রস্তাবে তাদেরকে রাজী হতে হয়েছে।

    সেন্ট্রাল স্কুল অফ স্পীচ এ্যান্ড ড্রামা ইন লণ্ডনের ছাত্রী ডেইজি রবিনসন বলেন। 'এটি কোনমতেই ন্যায্য নয়, শিক্ষার সুযোগ খোলা থাকতে হবে সবার জন্য'।

    বিক্ষোভকারীনি বেক্কি হীংনে বলেন, 'সরকার কথা শুনছে না। সকলের উচিত ৩০ নভেম্বরের হরতালে যোদ দেয়া ও অকুপাই (লণ্ডন আন্দোলনকে) সমর্থন করা। তাহলে সরকার কথা শুনতে বাধ্য হবে'।

    ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর ফীস এণ্ড কাট্‌সের মাইকেল চেসাম বলেছেন, 'বাস্তবে রূপ নেয়ার আগেই কৃচ্ছতা ও বেসরকারীকরণের এজেন্ডা থামিয়ে দিতে ও একটি টেকসই আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পরাস্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর'।

    এদিকে বিক্ষোভ ঠেকাতে পুলিস ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। মেট্রৌপলিটান পুলিস জানিয়েছে প্রায় ৪ হাজার পুলিস-সদস্য বিক্ষোভে উপস্থিত থাকবেন। গত অগাস্টের ইংলিশ রায়টের পর এত পুলিস আর কখনও মোতায়েন করা হয়নি। পুলিশ শতো-শতো বিক্ষোভ-কর্মীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদেরকে নিরুৎসাহীত করেছে বিক্ষোভে অংশ নিতে। তারা সরকারের কাছ থেকে রবার বুলেট ও প্লাস্টিক বুলেট ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন পুলিসের প্লাস্টিক বুলেট ব্যবহার করাকে সমর্থন করেছেন।

    বুলেট ব্যবহারের পরিকল্পনার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিস। লিবারেল ডেমৌক্রেট লন্ডন এসেম্বলি পুলিসিং এর মুখপাত্রী ডী ডুসি বলেছেন, রবার বুলেট ব্যবহারের 'ভ্রান্ত-নীতির' ব্যাপারে তিনি মেট্রৌপলিটান পুলিসের কমিশনারকে চ্যালেইঞ্জ করবেন। তিনি আরও বলেন, 'প্লাস্টিক বুলেট ব্যবহারের ফলে উত্তর আয়ারল্যান্ডে ১৭জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। কী-করে কেউ ভাবতে পারে যে, প্লাস্টিক বুলেট দিয়ে নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব'?

    ভয় দেখিয়ে বিক্ষোভে অংশকারীর সংখ্যা কমানোর উদ্দেশ্যে জল-কামান ও বুলেট ব্যবহার করার হুমকী দিচ্ছে পুলিস - দাবী করেছেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের একজন, জন রবার্টস্‌ জানিয়েছেন, 'পুলিস রাবার বুলেট ব্যবহার করবে এ-হুমকীর কারণে আমার অনেক বন্ধু বিক্ষোভে আসেনি'। কিন্তু দৃশ্যতঃ মিছিল শুরু হওয়ার পর ছাত্র-ছাত্রীদের ভয় কেটে গিয়েছে। প্রেস এ্যাসৌসিয়েশনের জানিয়েছে, মিছিল থেকে শ্লোগান শুনা গেছে, 'ক্যামেরোন, ইটনে যাও, বুলেট নিজের পাছায় ঢুকাও'।

    প্রায় ১মাস ধরে সেইন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রালে তাঁবু ফেলে পুঁজিবাদ-বিরোধী বিক্ষোভ চালিয়ে আসা 'অকুপাই লণ্ডন' আন্দোলনের কর্মীরা ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে সংহতি জানিয়ে যোগ দিয়েছে আজকের বিক্ষোভে। তাদের কর্মীরা শিক্ষার্থীদের সাথে মিছিল ও পদযাত্রায় অংশ নিয়েছে। পরে ছাত্র-ছাত্রীসহ তাদের প্রায় ২০০ জনের একটি দল ট্রাফালগর স্কোয়ারে পুলিসের বাধা ভেদ করে সেখানে গিয়ে তাবু ফেলে অবস্থান করতে শুরু করেছে। পুলিস সেখানে হানা দিয়ে জোর করে তাদেরকে সরিয়ে দিতে শুরু করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সংখ্যা উল্লেখ না করে বিবিসি জানিয়েছে ট্রাফালগর স্কোয়ারে অনেক বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন