• সাভারের ধসা-ভবনে মৃতের সংখ্যা দুইশো পঞ্চান্নঃ শ্রমিকদের বিক্ষোভ
    Savar-rana-plaza-91.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৫ এপ্রিল ২০১৩, বৃহস্পতিবারঃ  বাংলাদেশের গতকাল ধসে পড়া পোশাক কারখানা ভবনের ধ্বংসস্তুপ থেকে এ-পর্যন্ত মোট ২৫৫ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সেখানে স্থাপিত অস্থায়ী কণ্ট্রোল-রুম। তবে উদ্ধারকারীরা বলেছেন, 'কেউ জানে না ভেতরে এখনও কতোজন রয়েছেন'। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভবনটির মালিক পলাতক রয়েছেন।

    ধসে পড়া ভবনটির মালিক - ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা - সোহেল রানা গতকাল স্থানীয় সাংসদের সহায়তায় পালিয়ে যায়। গত পরশু ভবনটিতে ফাটল দেখা দিলে স্থানীয় শিল্প-পুলিস এটি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেয় বলে দাবি করেছে। তবে গতকাল পুলিসের নির্দেশ উপেক্ষা করে পোশাক-শ্রমিকদেরকে জোর করে কাজে পাঠানো হয়। উল্লেখ্য, এ-সময় একই ভবনে অবস্থিত বেসরকারি ব্যাক ব্যাঙ্কের শাখাটির কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

    উদ্ধারকার্য
    উদ্ধারকাজে অগ্রগামী স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় জনগণ, সাথে আছে ফায়ার ব্রিগেইড। এছাড়াও, সরকারের পক্ষ থেকে  সেনাবাহিনী ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। তারা উদ্ধার কাজে সহায়তা এবং নিরাপত্তা রক্ষা করছেন বলে জানিয়েছে স্থানী সংবাদ-মাধ্যমগুলো।

    তবে পর্যাপ্ত উদ্ধার-যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত লোকবলের অভাব প্রকটভাবে দেখা গিয়েছে উদ্ধারকার্যে। আটকে-পড়া আহত বহু মানুষকে খালি হাতে উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। লম্বা কাপড়ে ব্যবহার করে উঁচুতে আটকে থাকা অনেক জীবিত ব্যক্তিকে পিছলিয়ে নিচে নামিয়ে আনা হয়।

    সেনাবাহিনীর কাছে ভবন কাটার ভারী যন্ত্রপাতি থাকলেও তা উদ্ধার-কাজের এ-পর্যায়ে উপযুক্ত নয়; কারণ তাতে আটকে পড়াদের মধ্যে যাঁরা এখনও বেছে আছেন তাদের প্রাণ-নাশের সমূহ সম্ভবনা রয়েছে। ঘটনাস্থলে কর্মরত উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন আগামী শনিবার পর্যন্ত উদ্ধার-কাজ চলবে। এর পরে ভবনটির অবশিষ্টাংশ ভেঙ্গে পরিষ্কার করে ফেলা হবে।

    সরকারী তৎপরতা
    পুলিস এ-ঘটনায় ভবন মালিক ও ভাড়াটিয়া পোশাক কারখানাগুলোর মালিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষও ইমারত নির্মাণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে ভবন-মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাঈনউদ্দীন খন্দকারকে প্রধান করে একটি সরকারী 'তদন্ত কমিটী' গঠিত হয়েছে।

    শ্রমিকদের বিক্ষোভ
    সহকর্মীদের অসহায় করুণ মৃত্যুতে শোকাহত ও বিক্ষুব্ধ পোশাক-শ্রমিকরা আজ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। পোশাক-কারখানার মালিকদের সমিতি বিজিএমইএ-এর ঢাকাস্থ কার্য্যালয় ঘেরাও করে তারা দোষীদের ফাঁসি দাবি করেন। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা কাজ বর্জন করে পথে নেমে আসেন। আশুলিয়ার কারখানাগুলোতে শ্রমিকদেরকে আজ ছুটি দেয়া হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
    এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আজ দাবি করেছেন, রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা যুবলীগের সাথে জড়িত নন। এ-দূর্ঘটনায় সরকারের ভূমিকার সমালোচকদের পাল্টা সমালোচনা করে তাঁদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "টক-শো'তে বড়ো বড়ো কথা না বলে উদ্ধার-কাজে সহায়তা করুন"। এর আগে তিনি বলেছিলেন, "আমরা আগে থেকেই সচেতন ছিলাম। আমরা জানতাম বলে সব লোক সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু মূল্যবান জিনিস সরিয়ে নিতে সকালে লোকজন সেখানে গিয়েছিল।"

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবী 'টানাহ্যাঁচড়াই' কারণ
    বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "মৌলবাদী-বিএনপির...ভাড়াটে লোকেরা ভবনটির ফাটল, স্তম্ভ ও দরোজা ধরে ধরে টানাহ্যাঁচড়া করেছে, নাড়াচাড়া করেছে; এর ফলে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে'। দোষীদের খুঁজে বের করে বিচার করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    বাংলাদেশে গত এক দশকে ভবন ধসের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে যাতে প্রায় ৫শো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এর শিকার হয়ছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। পূর্বের দূর্ঘটনাগুলোর একটিরও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন বিচার হয়নি।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন