• সাভারে কারখানার ধ্বংসস্তুপ থেকে ১৭ দিন পর জীবিত কর্মী উদ্ধারঃ প্রাণহানি ১০৫১
    bd_savar_factory_collapse_reshma_alive_after_17_days.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১০ মে ২০১৩, শুক্রবারঃ  বাংলাদেশের সাভারে ধসে পড়া পোশাক-কারখানার রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপের নিচ থেকে ১৭ দিন আটকে থাকার পর জীবিতাবস্থায় একজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার-কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, রেশমা নামের ১৯ বছর বয়েসী ঐ পোশাক-কর্মীর অবস্থা 'সঙ্কটাপন্ন নয়'। ঐ ভবন-ধস ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দুর্ঘটনার শিকার শ্রমিকদের স্বজনরা। 

    গত ২৪শে এপ্রিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে, সাভারে অবস্থিত একটি ৮তলা ভবন ধসে পড়ে। ঘটনার আগের দিন অর্থাৎ ২৩শে এপ্রিল ভবনটিতে ফাটল দেখা দিলে ঘটনার দিন সেখানে অবস্থিত ৪টি পোশাক-কারখানার কর্মীরা কাজে যোগ দিতে আপত্তি করে। তবে কারখানার মালিকপক্ষ তাদেরকে বেতন-কাটা, চাকরিচ্যূত করা ইত্যাদি ভীতি দেখিয়ে কাজে যোগ দিতে বাধ্য করে বলে জানায় বেঁচে যাওয়া কর্মীরা। তাদের দাবিমতে, দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে অন্ততঃ ৫,০০০ মানুষ কাজ করছিলেন।

    নিরাপত্তারক্ষীরা উল্লিখিত ভবনের মালিক, যুবলীগ-নেতা সোহেল রানা-সহ, কারখানাগুলোর মালিকদের গ্রেফতার করেছে। তবে ঘটনার শিকার হওয়া শ্রমিকরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, গ্রেফতারিতদের উপযুক্ত বিচার হবে কি-না, তা নিয়ে। কারণ হিসেবে তাঁরা অতীতের অনুরূপ 'কোন ঘটনায় বিচার না হওয়ার' কথা উল্লেখ করেছেন।

    এদিকে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা পাওনা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। ঘটনার প্রথম দিকে সরকার, পোশাক-শিল্পের মালিকদের সমিত ইত্যাদি সংস্থা থেকে ক্ষতিপূরণের করা বলা হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অকুস্থলে অনেক শ্রমিকের পরিজন তাঁদের প্রিয়জনদের মৃতদেহ সংগ্রহ করার জন্য অপেক্ষা করছেন।

    গত পয়লা মে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মে দিবসের মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানান যে, তখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া লাশের সংখ্যা ৪০৮। সেদিন অকুস্থলের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান দাবি করেছিলেন, ধ্বংসস্তুপের অভ্যন্তরে আর '১৪৯টি' লাশ রয়েছে। কিন্তু উপস্থিত শ্রমিকদের পরিজনরা তা প্রত্যাখ্যান করে। আজ, তারও ১০ দিন পরে মোট উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫১।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন