• সিআইএ'র গোপন দলিল অবমুক্তঃ ইরানে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে ইরাককে 'সাহায্য করেছিলো' যুক্তরাষ্ট্র
    usa_ronald_regan_helped_iraq_gassing_iraq.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৬ অগাস্ট ২০১৩, সোমবারঃ  গত শতকের আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একাধিকবার ইরাককে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারে সহায়তা করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র। সিআইএ'র সম্প্রতি-অবমুক্ত গোপন দলিদালি ও প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে 'ফরেন পলেসি' ম্যাগাজিন আজ এ-দাবি-সম্বলিত একটি দীর্ঘ একান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ সর্বদা অস্বীকার করে আসছে যে ইরানের উপর ইরাকে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে তারা অবগত ছিলো। তবে দেশটির একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা লেফটেনেণ্ট কর্ণেল রিক ফ্র্যাঙ্কোনা, যিনি ১৯৮৮ সালে বাগদাদে কর্মরত ছিলেন, ফরেন পলেসিকে বলেছেন, "ইরাকীরা আমাদেরকে কখনোই বলেনি যে তারা স্নায়ু-গ্যাস ব্যবহার করবে। তাদের বলার দরকার ছিলো না, কারণ আমরা তো জানতামই"। এ-প্রসঙ্গে সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে সম্মত হয়নি।

    আট বছরব্যাপী চলা ইরান-ইরাক যুদ্ধে - যাতে যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দামের নেতৃত্বাধীন ইরাকের পক্ষাবলম্বন করে - ইরাকী রাসায়নিক অস্ত্রের আক্রমণে অন্ততঃ ২০,০০০ ইরানী প্রাণ হারায় বলে মনে করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও গোয়েন্দা তথ্যের সহযোগিতায় ইরাক মাস্টার্ড গ্যাস, সারিন গ্যাস প্রভৃতি প্রাণঘাতি বিষাক্ত গ্যাস ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমার অভ্যন্তরে করে ইরানী বাহিনীর উপর নিক্ষেপ করে।

    সিআইএ'র অবমুক্ত করা দলিলগুলোর স্থানে-স্থানে এখনও তথ্য গোপন করা হয়েছে। তথ্য ঝাপসা করে দিয়ে কিংবা একেবারে মুছে দিয়ে এটি করা হয়েছে। তবুও যেটুকু প্রকাশিত হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৮৩-৮৪ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহারের কথা জেনেও গোপন করে গিয়েছে।

    প্রেসিডেণ্ট রৌনাল্ড রেগ্যানের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা শুধু যে জানতো তা-ই নয়, একাধিকবার তারা এ-কর্মে গোয়েন্দা-তথ্যও যুগিয়েছে। কোথায় ইরানী সেনারা রয়েছে; তাদের অস্ত্র, বিমান ইত্যাদির সংখ্যা, অবস্থা এসবের তথ্য, মানচিত্র ও স্যাটেলাইট-ছবিও দিয়েছে তারা। সে-সকল তথ্য ব্যবহার করে ইরাকী বাহিনী নিষিদ্ধ বিষাক্ত গ্যাস নিক্ষেপ করেছে ইরানীদের উপরে।

    ইরান সে-সময় কয়েকবার অভিযোগ করেছিলো যে, ইরাক নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করছে। এ-নিয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ জাতিসঙ্ঘে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের উদ্যোগও নেয়। তবে উপযুক্ত প্রমাণ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের সমর্থনের অভাব বা বিরোধীতার কারণে তাদের সে-প্রচেষ্টা বেশি দূর এগোয়নি।

    ১৯২৫ সালের জেনেভা প্রোটোকল অনুযায়ী কোন স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারবে না, এবং অন্যান্য রাষ্ট্রকেও তারা এ-কর্ম থেকে বিরত রাখার যথাসম্ভব চেষ্টা করবে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র এ-প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেছে ১৯৭৫ সালে।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন