• সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে ভারী অস্ত্র প্রদান পশ্চিমেরঃ জবাবে সমরশক্তি পাঠিয়েছে রাশিয়া
    syria_rebels_arms_pipeline_map.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২১ জুন ২০১৩, শুক্রবারঃ  শিয়া প্রেসিডেণ্ট শাসিত সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদেরকে এবার ভারী অস্ত্র প্রদান করেছে পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো। এ-পরিস্থিতিতে দেশটির প্রধান মিত্র রাশিয়া ৬শ সেনা-সহ দু'টো যুদ্ধ জাহাজ ও সেগুলোর নিরাপত্তায় বিমান-বহর পাঠিয়েছে ভুমধ্য সাগরের উপকূলে। খবর পরিবেশন করেছে ইসরায়েলী সামরিক ম্যাগাজিন দেবকাফাইল ও ফক্স নিউজ।

    গত সপ্তায় যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, রাশিয়া যার তীব্র সমালোচনা করে। উপরন্তু, ফ্রান্স ও ব্রিটেইন বৎসরাধিক কাল চেষ্টার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র দেয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করাতে সক্ষম হয়। অর্থাৎ, ইইউ থেকেও সিরিয়ার জিহাদীদেরকে অস্ত্র দিতে এখন রাজনৈতিক বাধা নেই। অন্যদিকে রাশিয়া বলেছে, পূর্বতন চুক্তি মোতাবেক সিরিয়াকে অত্যাধুনিক বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এস-৩০০ দেবে দেশটি। এ-ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে সম্ভাব্য যেকোন নৌ-ফ্লাই-জৌন ভাঙ্গা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ-প্রেক্ষাপটে এ-সপ্তার শুরুতে উত্তর আয়ারল্যাণ্ডে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত ৮ দেশের সংঘ জি৮ এর সম্মেলনের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে সিরিয়া গৃহযুদ্ধ। পশ্চিমা শক্তিগুলোর জোর প্রচেষ্ঠা সত্ত্বেও রাশিয়ার অনড় অবস্থানের কারণে প্রেসিডেণ্ট আসাদকে অপসারন করে সিরিয়ার যুদ্ধ সমাপ্ত করার কোন ফর্মূলা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তবে, সম্মেলন শেষে জানানো হয়, 'রাজনৈতিকভাবেই এ-সংকটের সমাপ্তি সম্ভব' এ-মতে সবাই একমত হয়েছেন।

    জি-৮ সম্মেলন শেষ হতে না হতেই, পশ্চিমা ভারী অস্ত্রের চালান এসে পৌঁছেছে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের কাছে। দেবকাফাইলের সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে দু'টো ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ বিশেষতঃ ব্রিটেইন বিদ্রোহীদেরকে ভারী অস্ত্র দিতে শুরু করেছে। ম্যাগাজিনটির ভাষ্যমতে, গত সোমবার রাতে তুরষ্ক ও জর্ডানে সম্মেলন পরবর্তী প্রথন অস্ত্রের চালান আসে। সেখান অস্ত্রশস্ত্র থেকে দক্ষিণ সিরিয়া ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত আলেপ্পোয় পাঠানো হয়। ভারী অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে বিমান ও ট্যাঙ্ক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, জীপগাড়ীতে স্থাপিত ১২০ মিলিমিটার কামান ইত্যাদি।

    দেবকাফাইলের সামরিক সূত্র পশ্চিমা অস্ত্র-চালানের ৩টি প্রধান উৎসের কথা উল্লেখ করেছে: (১) ন্যাটোর ইউরোপীয় ঘাঁটিসমূহ, (২) লিবিয়ার কালো বাজার ও (৩) বলকান অঞ্চলের কালো বাজার। এর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্থানে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্রও রয়েছে।

    দ্রুত ঘটমান পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়া গত ১৯ তারিখে দু'টো যুদ্ধ জাহাজ পাঠিয়েছে সিরিয়ার পথে। ইণ্টারফ্যাক্সের প্রচারিত সংবাদ-মতে জাহাজগুলো অন্ততঃ ৬০০ মেরিন সেনা বহন করছে। দেশটির বিমানবাহিনীর উপ-প্রধান মেজর জেনারেল গ্রাদুসভ বলেছেন, 'প্রয়োজনে ['জাহাগুলোকে] নিরাপত্তা-ছাতা দিতে বিমান বহর নিয়োজিত থাকবে'। তবে যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে মস্কো থেকে বলা হয়েছে সিরিয়ায় অবস্থানকারী রুশ নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা। উল্লেখ্য, সিরিয়ায় প্রায় ২০,০০০ রুশ বসবাস করেন।

    ২৬ মাস ধরে চলা গৃহযুদ্ধে বিদ্রোহীরা সিরিয়ার অনেকগুলো শহর দখল করে রেখেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, লেবাননের শিয়া সংগঠন হিজবুল্লাহ'র গেরিলাদের সহায়তা নিয়ে সরকারী সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ কুসাইর শহর দখল করতে সক্ষম হয়। এর ফলে এখন লেবানন থেকে অস্ত্র, রসদ ইত্যাদি সংগ্রহ করা বিদ্রোহীদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে গিয়েছে।  এবার সরকার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তীব্র অভিযান শুরু করেছে। এ-সপ্তায় পাওয়া অস্ত্রের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত সরকারী সেনাদের অগ্রযাত্রা সাফল্যের সাথে ঠেকিয়ে রেখেছে বিদ্রোহীরা।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন