• সিরিয়াতে গোপনে তৎপর ব্রিটিশ ও কাতারী সৈন্যঃ দাবী ইসরায়েলী ওয়েবসাইটের
    syria_rebels_walking_ibid.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১২, বৃহস্পতিবারঃ  সিরিয়ায় চলমান সশস্ত্র-বিদ্রোহে গোপনে বিদ্রোহীদেরকে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে ব্রিটিশ ও কাতারী সেনারা। নিজস্ব সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ-খবর পরিবেশন করেছে ইসরায়েলী সামরিক ম্যাগাজিন দেবকাফাইল। লিবিয়ার গাদ্দাফি-বিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহের সময়ও ম্যাগাজিনটি এ-ধরণের গোপন কার্যকলাপের খবর দিয়েছিল যা পরে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

    সিরিয়ার রাজধানী থেকে ১৬২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হম্‌স শহরে সাম্প্রতিক সহিংসতায় কয়েকশো ব্যাক্তি প্রাণ হারিয়েছেন। পশ্চিমী প্রচার-মাধ্যমগুলো এর জন্য সরকারকে দায়ী করেছে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার দাবী করেছে এতে সশস্ত্র বিদ্রোহীরা জড়িত।

    দেবকাফাইলের প্রকাশিত প্রতিবেদন মতে, ব্রিটিশ ও কাতারী সেনারা হম্‌সে বিদ্রোহীদের সামরিক-কৌশল পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছে। বিদ্রোহী ও বিদেশী অস্ত্র সরবরাহকারীদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করছে তারা। দেবকা জানায়, বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র দিচ্ছে মূলতঃ তুরষ্ক।

    লিবিয়ার বেনগাজীতেও ব্রিটিশ, ফরাসী, মার্কিন ও কাতারী সেনারা ঘাঁটি স্থাপন করে প্রথমে বিদ্রোহীদের পরামর্শক ও পরে তাদের পাশাপাশি  লড়াই করে গাদ্দাফিকে উৎখাত করতে। যুদ্ধ চলা-কালে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি দেশই এ-অভিযোগ অস্বীকার করেছিলো কিন্তু গাদ্দাফিকে হত্যা করার দশ দিন পর কাতার তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে, যা জাতিসংঘের রেজুল্যুশন ১৯৭৩-এর সরাসরি লঙ্ঘন। জাতিসংঘের অন্য আরেকটি রেজুল্যুশন ১৯৭০ ভঙ্গ করে ফ্রান্স ও কাতার বিদ্রোহীদেরকে সে-সময় ভারী সমরাস্ত্রও সরবরাহ করেছিলো।

    অন্যদিকে নিরপেক্ষতা দাবী সত্ত্বেও ব্রিটিশ রাষ্ট্রীয় প্রচার-মাধ্যম বিবিসি লিবিয়ার যুদ্ধ-চলাকালীন এক-পর্যায়ে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি গণ-জমায়েতকে লিবিয়ায় গাদ্দাফী-বিরোধী বাহিনীর জয়ের 'উল্লাস-উদ্‌যাপনের লাইভ ভিডিওচিত্র' বলে প্রচার করেছিলো।

    যুদ্ধ চলা-কালে গাদ্দাফি-বিরোধী ও বিদ্রোহী-পক্ষকে সমর্থনদায়ী সংবাদ প্রচার করলেও গত ১৯ জানুয়ারী প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিবিসি স্বীকার করেছে যে, গাদ্দাফির নেতৃত্বাধীন সরকার উৎখাত করতে ব্রিটিশ-সেনারা গোপনে লিবিয়ার বিদ্রোহীদের পাশাপশি যুদ্ধ করেছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয় যে, পরিচয় গোপন রাখতে ব্রিটিশ-সেনারা স্থানীয় আরবদের মতো পোষাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করেছিলো।

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন