• সিরিয়ার জল-সীমায় মুখোমুখি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রঃ আরেকটি যুদ্ধ কি প্রত্যাসন্ন?
    admiral_kuznetsov.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ২৮ নভেম্বর ২০১১, সোমবারঃ  সিরিয়ার চলমান গৃহযুদ্ধে ভিন্ন-ভিন্ন পক্ষ নেয়া পারমাণবিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া নিজ-নিজ রণতরী নিয়ে শীঘ্রই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দেশটির জলসীমায়। ইসরায়েল, তুরস্ক, জর্ডান, লেবাননও নিজেদের সীমান্তে সৈন্য ও ভারী অস্ত্রের সমাবেশ ঘটিয়ে তাদের প্রস্তুতির প্রমাণ দিচ্ছে এবং প্রস্তুত ইরানও। দৃশ্যতঃ একটি মহাযুদ্ধ আসন্ন হয়ে উঠছে দ্রুত।

    প্রায় নয় মাস যাবত লিবিয়ার অনুরূপ রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সিরিয়া যা সম্প্রতি গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। পশ্চিমা পরাশক্তিগুলো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া ও আরব লীগ তাদের অনুসরণ করার পর থেকে বিশ্বের অন্য দুই বৃহৎ শক্তি চীন ও রাশিয়া আসাদের পক্ষে তাদের অবস্থান দৃঢ়তর করেছে।

    সিরিয়ার উপর অব্যাহত পশ্চিমা সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কুটনৈতিক চাপের সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে আরব লীগের অর্থনৈতিক অবরোধ। সিরিয়াকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে গতকাল আরব লীগ সিরিয়ার সাথে সকল প্রকার সরকারী বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছেদ, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সাথে লেন-দেন বন্ধ, আরব-দেশসমূহে সিরিয়ার সম্পত্তি হিমায়িত-করণ, নির্দিষ্ট সরকারী-কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং যৌথ প্রকল্পসমূহের অর্থায়ণ বন্ধ করা-সহ ৯ দফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সিরিয়া তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে এটিকে 'অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা' বলে বর্ণনা করেছে। উল্লেখ্য, গত ১২ নভেম্বর আরব লীগ সিরিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করে।

    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় সিরিয়ার সঙ্কট নতুন একটি মোড় নিয়েছে। ২৩ নভেম্বর ৭০টি বোমারু-যান ধারণ করার ক্ষমতা-সম্পন্ন মার্কিন বিমানবাহী-রণতরী 'ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ' সহকারে একটি 'স্ট্রাইক টাস্কফৌর্স' সিরিয়ার জল-সীমায় এসে পৌঁছায়। টাস্কফৌর্সে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ৩টি গাইডেড মিসাইল ক্রুইজার ও ৫টি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। এছাড়াও ভূমধ্য সাগরে স্থায়ীভাবে অবস্থানকারী মার্কিন ষষ্ঠ নৌ-বহরও প্রস্তুত রয়েছে সিরিয়ার উপরে সম্ভাব্য যে-কোনো সামরিক হামলায় অংশ নিতে।

    রাশিয়ার তিনটি যুদ্ধ-জাহাজ সিরিয়ার তার্তুস বন্দরে নোঙ্গর করে আগে থেকেই অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে সাক্ষরিত এক চুক্তির অধীনে রাশিয়ার একমাত্র বৈদেশিক নৌ-ঘাঁটিটি তার্তুসে অবস্থিত। এমতাবস্থায় রাশিয়ার একমাত্র বিমানবাহী-রণতরী  ৫০ টি বোমারু-যান ধারণ করার ক্ষমতা সম্পন্ন 'এ্যাডমিরাল কুজনেৎসভ' আগামী সপ্তায় সিরিয়ায় এসে পৌঁছুবে।

    উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জর্ডান ও ইসরায়েল 'স্টেইট অফ প্রিপেয়ার্ডনেস' বা প্রস্তুতি অবস্থা ঘোষণা করেছে। ইসরায়েলী সামরিক ম্যাগাজিন দেবকাফাইল জানাচ্ছে, ভারী অস্ত্রে সজ্জিত একাধিক ব্রিগেইড সিরিয়া ও লেবানন সীমান্তে মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। তুরস্ক তিনটি স্থল ব্রিগেইড এবং নৌ ও সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রেখেছে, জর্ডানের মতোই। লেবাননের সরকারী সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহ মিলিশয়াও প্রস্তুত।

    এদিকে  আরব লীগের বৈঠকের প্রাক্কালে কাতার ও তুরস্ক বিমানে করে লিবিয়া থেকে সিরিয়ায় 'স্বেচ্ছাসেবক যোদ্ধা' পাঠাচ্ছে বলে দাবী করেছে দেবকাফাইল। ম্যাগাজিনটি আরও জানিয়েছে যে, ন্যাটো ও উপসাগরীয় দেশসমূহের অংশগ্রহণে সম্ভাব্য একটি সামরিক অভিযানের ছক কষা হচ্ছে তুরস্কে। উল্লেখ্য, লিবিয়ার পশ্চিমা আক্রমণের সময় দেবকা জানিয়েছিল যে, কাতার স্থল-সেনা পাঠিয়েছে লিবিয়ায়, যা কাতার সে-সময় অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে স্বীকার করেছে।

    রাশিয়া নৌ-বহর পাঠিয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, লিবিয়ায় যেভাবে 'রেজিম চেইঞ্জ' বা সরকার পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে, সিরিয়ায় সে-রকম কিছু করার চেষ্টা করা হলে রাশিয়া নিশ্চুপ থাকবে না। চলমান পরিস্থিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ এগিয়ে আসছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা। তবে সে-যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন