• সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র দিতে চায় ব্রিটেইন-ফ্রান্সঃ অনাগ্রহী জার্মানী-অস্ট্রিয়া-সুইডেন
    uk_pm_david_camerone_eu_summit_brussels.jpg

    ইউকেবেঙ্গলি - ১৫ মার্চ, ২০১৩, শুক্রবারঃ ইতোমধ্যেই অর্থ, প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক সহায়তা দেয়ার পর, সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে এবার খোলাখুলিভাবেই যুদ্ধাস্ত্র দিতে চায় ব্রিটেইন ও ফ্রান্স। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলনে এ-নিয়ে দেন-দরবার করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেইভিড ক্যামেরোন; তবে জার্মানী বিরোধীতা করছে এ-প্রস্তাবের।

    সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত বছরের মে মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সিরিয়ার অস্ত্র পাঠানোতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে সে-আজ্ঞার ফাঁক-ফোঁকর ব্যবহার করে ইতোমধ্যেই ফ্রান্স ও ব্রিটেইন বিদ্রোহীদেরকে অর্থ, সামরিক প্রশিক্ষণ ও সাঁজোয়া যান দিয়ে সাহায্য করে চলেছে।

    পাশাপাশি সিরিয়ার শিয়া প্রেসিডেণ্টের বিরোধী সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত ইত্যাদির মতো সুন্নি দেশের আমির বা রাজারা অর্থ-অস্ত্র দিচ্ছেন সুন্নি ইসলামবাদী বিদ্রোহীদেরকে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অস্ত্র দিতে বা যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে আগ্রহী নয়, তবে আরব দেশগুলোর মাধ্যমে তা করছে। তুরষ্ক ও জর্ডানে বিদ্রোহীদের জন্য প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালিত হচ্ছে বলে বহুলভাবে প্রচার করেছে পশ্চিমা সংবাদ-মাধ্যমগুলো।

    বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে চলমান ইইউ সামিটে ব্রিটেইনের ডেইভিড ক্যামেরোন সিরিয়ার অস্ত্র-নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে চাপ দেন। তাঁর সাথে যোগ দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেণ্ট ফ্রাঁসোয়া অলান্দ। তাঁরা চাইছেন যেনো, এ-মুহূর্তে না হলেও মে মাসে এ-নিষেধাজ্ঞা যেনো আর নবায়ন না করা হয়। উল্লেখ্য, বর্ষপূর্তি হওয়ার সময় এ-নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার কথা।

    জার্মানী ক্যামেরোনের প্রস্তাবের বিরোধীতা করেছে - তার সাথে যোগ দিয়েছে অস্ট্রিয়া ও সুইডেন। বিরোধীদের আশঙ্কা, এ-সকল অস্ত্র-শস্ত্র ইসলামী মৌলবাদীদের হাত পড়ার ফলে ইউরোপের নিরাপত্তা হুমকীর মুখে পড়বে।

    ২০১১ সালেও একইভাবে লিবিয়ার মৌলবাদী ইসলামী বিদ্রোহীদেরকে অর্থ, যুদ্ধযন্ত্র ও অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও রসদের পাশাপাশি ন্যাটোর বিমান হামলার মাধ্যমে সহায়তা করেছিলো প্রধানতঃ ব্রিটেইন ও ফ্রান্স। জাতিসঙ্ঘকে ব্যবহার করে নৌ-ফ্লাই জৌনের অজুহাতে দেশটির উপর টানা ৭ মাস বোমা-বর্ষণের মাধ্যমে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙ্গে দিয়া হয়। অবশেষে বিমান থেকে গাদ্দাফির গাড়ি-বহরে বোমা মেরে তাঁকে আহত করে বিদ্রোহীদেরকে খবর দেয় ন্যাটো, যারা তাঁকে বিনা-বিচারে হত্যা করে।

     

আপনার মন্তব্য

এই ঘরে যা লিখবেন তা গোপন রাখা হবে।
আপনি নিবন্ধিত সদস্য হলে আপনার ব্যবহারকারী পাতায় গিয়ে এই সেটিং বদল করতে পারবেন